এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ফোর্স গঠন: পিছু হটছে বেবিচক, বিভিন্ন বিমানবন্দরে আন্দোলন অব্যাহত: চেয়ারম্যান বিবৃত: ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানকে বদলির গুনজন

স্টাফ রিপোর্টার : বোর্ড সভা/পর্যদকে না জানিয়ে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে অবহিত না করে, কোন অধ্যাদেশের থোরাইকেয়ার করে বেবিচকের একক সিদ্ধান্তে ‘ বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ফোর্স’ গঠনের প্রক্রিয়া হাতে নেয়ায় অবশেষে বেবিচক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আন্দোলনের চাপে পিছু হটছে বেবিচক কর্তৃপক্ষ। এতে করে বেবিচক চেয়ারম্যান বিবৃত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেবিচক চেয়ারম্যানকে বেবিচক থেকে বদলির গুনজন শোনা যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যানকে ভাবিয়ে তুলছে। তিনি অধন্তন কর্মকর্তাদের সাথে শলা পরামর্শ করছেন বলে জানা যায়। এ সব পরামর্শে বেবিচকের সিভিলিয়ান নিরাপত্তা কর্মচারিদের ব্যাপারে চেয়ারম্যান মহোদয় অনেকটা সফটকর্নার বলে জানা যায়। এ সব বিষয়াদি নিয়ে আগামি ২৩ মার্চ অধন্তনদের সাথে আবারও চেয়ারম্যান মহোদয় সিটিং করবেন বলে জানা যায়।
এ দিকে বিভিন্ন বিমানবন্দরে আন্দোলন নিয়ে কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলছে। গোয়েন্দা সংস্থা এ সব ব্যাপারে খতিয়ে দেখছে। এর ব্যাপকতায় বেবিচক চেয়ারম্যানকে বেবিচক থেকে বদলির গুনজনও শোনা যাচ্ছে।

বেবিচকের আন্দোলনের নেপথ্যে কারা— বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) গ্রাসের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বাহিনীর ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে সিকিউরিটি ফোর্স (বিএএসএফ) গঠনের চেষ্টা চলছে— এমন অভিযোগ তুলে ‘বিক্ষোভ কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সভা’ করেছে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ১৭ মার্চ (সোমবার) সকালে সিভিল অ্যাভিয়েশন হেডকোয়ার্টার প্রাঙ্গণে কর্মসূচিতে ‘দখলদার হঠাও, সিভিল অ্যাভিয়েশন বাঁচাও’ ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা সংস্থাটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগও দাবি করেন। এমনকি আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানাতে এসে কর্মীরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ করেন উল্লেখ করে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সিভিল এভিয়েশনের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা।

তবে এই আন্দোলন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। বেবিচক সংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্দোলন কর্মচারীদের নানাভাবে উসকে দেওয়া ও মারমুখি যারা আচরণ করেছেন তাদের অধিকাংশই ভাড়া করা।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বহিরাগতরাই আন্দোলনে আসা কর্মীদের উসকে দিয়েছে। তারাই মারমুখি আচরণ করেছেন। চেয়ারম্যানের সামনে অসৌজন্যমূলক আচরণের মূল হোতা তারাই ছিলেন।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ‘হারুন’ ও ‘অলক’ নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে আউটসোর্সিংয়ের প্রায় ১২০ জন শ্রমিক নিয়ে আন্দোলনে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরই মধ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেককেই ছবি ও ভিডিও দেখে এরইমধ্যে চিহ্নিত করেছে। ঠিকাদারের গাড়ি চালকও আন্দোলনে অংশ নেন।

এছাড়া সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা শহীদুল্লাহর ভাই সাদ্দামসহ কিছু স্থানীয় লোকজন যারা বেবিচকের কোনও কর্মীই নয়, তাদেরও উপস্থিতি দেখা যায়।

বিমানবন্দরে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন— এমন কিছু বেবিচক কর্মীও আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ে বিভিন্ন সময় ধরাপড়া কর্মীও রয়েছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ওই কর্মীরা বিভিন্ন সময় আটকও হয়েছিলেন। তাদেরও চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

 

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৫ আগস্টের পর বিমানবন্দরের নাজুক পরিস্থিতিতে বিমান বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা এসে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানকার নানা ধরনের অসঙ্গতি দূর হয়েছে। এর মধ্যে লাগেজ কাটা ছিল অন্যতম। মাঝে মধ্যে লাগেজ কাটা নিয়ে প্রবাসীদের অভিযোগ ছিল। এছাড়াও লাগেজ দেরি করে পাওয়া ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও প্রবাসী বা যাত্রীরা তাদের লাগেজ পেতেন না। সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে পাশাপাশি ইমিগ্রেশনের ফরম পূরণ সেখান থেকে নানা উপায়ে যাত্রীদের নিকট থেকে টাকা আদায় ছিল কিছু কর্মীদের উপরি আয়ের পথ। বিমান বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি বন্ধ হয়ে গেছে।

এভিয়েশন সিকিউরিটির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এমনকি তারা স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গেও যুক্ত। গ্রেফতারেরও নজির রয়েছে। এমনকি কিছু কর্মচারী অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীতে বাড়িও করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরাই এই আন্দোলন সংগঠিত করেছেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব নিয়ে বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে যখন দেশ বিদেশে সুনাম কুড়াচ্ছিলেন ঠিক সেই সময় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা শুরু করে। এদের উপরি ইনকাম বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে বিমান বাহিনীর সদস্যের ওপর নানা সময় ক্ষিপ্ত হয়। তারাই গত ১৭ মার্চ এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।

, চলতি বছরের শেষে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এই দৃষ্টিকোণে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এর ফলে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল করতে সাধারণ কর্মচারীদের উসকানি দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আন্দোলনকারীরা  জানান, ‘আমাদের ন্যায়ঙ্গত দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি। আন্দোলনে শুধু এভসেক বিভাগ নয়, সিভিল এভিয়েশনের অন্যান্য বিভাগও যোগ দিয়েছিল।’

আন্দোলনকারীরা আরো জানান,   ‘আমরা চাই, সিভিল এভিয়েশন তার নিজস্ব কর্মী দ্বারা পরিচালিত হোক। এখানে চেয়ারম্যান, সিকিউরিটি মেম্বার ছাড়া অন্য পোস্টগুলোতে বাইরে সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব লোক থাকবে। আর বিমান বাহিনী আমাদের গর্বের বাহিনী। তাদের ব্যাপকভাবে বিমানবন্দরে নিয়ে আসাও আইন ও বিধিসম্মত নয়। তাই আমরা কারও সঙ্গে বৈরী আচরণ না করে আমরা আমাদের মূলত দাবিগুলো জানিয়েছি। আমাদের দাবিগুলোর সঙ্গে যারাই একমত হয়েছেন, তারাই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন।’