
সংবাদদাতা : টাংগাইলের কালিহাতী হাসাপাতালে অরাজকতা, অনিয়ম, দুর্নীতি চলছে, দেখার কেউ নেই, যিনি দেখবেন–সেই টিএসও রাহাত চৌধূরি রাজনৈতিক প্রভাবে স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে চলে গেছেন, ২১ মে তিনি বিদায় নিয়েছেন।
এ দিকে সিদ্দিকী পরিবারের নাম ভাংগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কালিহাতী হাসপাতালের অধীনে আটাবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে বহাল মাসুদ সিদ্দিকী , তিনি নাকি নিয়মিত অফিস করেন না মাসের পর মাস, বেতন-ভাতা ওঠিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি ওষধ পুকুরে ফেলে নষ্ট করার অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত রিপোর্ট ভেস্তে গেছে। তার টিকিটিও কেউ স্পর্শ করতে পারছে না। তার ভাবি সিনিয়র স্টাফ নার্স শিরিন কালিহাতি হাসপাতালে বহাল, কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। একটি মিথ্যা ভিডিওতে নেতৃত্ব দেন এই শিরিন-যা তদন্ত টিম জানতে পেরেছে।
সরকারি আদেশে মেডিকেল এ্যাসিসটেন্টদের রোগি দেখার এখতিয়ার না থাকলেও মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ফিরোজ হাসপাতালে বসে নিয়মিত রীতিমত রোগি দেখছেন, প্রেসক্রিপশন করছেন এবং তার রিলেটেড প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগি পাঠাচ্ছেন বলেও অভিযোগ। এমন দুটি প্রেসক্রিপশন আমাদের হাতে এসেছে।
এ দিকে ডাক্তার মাহমুদুল হাসান ( অর্থপেডিক্স) হাসপাতালে বসে ফি নিয়ে রোগি দেখে তার প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে। হাসপাতালে হাটূও ব্যথা নিয়ে আসা রোগিদের ইনজেকশন দেবার নিয়ম থাকলে তিনি তার প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে হাজার টাকায় ইনজেকশন পুশ করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ দিকে হাসপাতালের কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়েও অরাজকতা চলছে। ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারির নামে একরুমের বাসা বরাদ্দ নিয়ে পুরো কোয়ার্টার আগলে রেখেছেন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারিরা। উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ফিরোজ। তবে তিনি নাকি বাসা ছেড়ে দেবেন বলে হেড এ্যাসিসটেন্ট লাল মিয়া জানান।
এ দিকে বাসা বরাদ্দে অনিয়ম ধরা পড়ায় ১২ জনকে নোটিশ করা হয়েছে। তাদেরকে ৩১ মের মধ্যে বাসা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যে টিএসও এ নোটিশ দিয়েছেন তিনি আবার স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে গেছেন। তিনি রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে টিকতে পারেননি কালিহাতী হাসপাতালে–এমন কথা চাউড় হয়ে গেছে।
টিএসও শূন্য হাসপাতাল: টিএসও শূন্য হাসপাতাল চলছে কালিহাতিতে। ২১ মে টিএসও রাহাত চৌধুরি বিদায় নেবার পর নতুন করে কাউকে এ পদে পদায়ন করা হয়নি। ফলে প্রশাসনিক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে হেড এ্যাসিসটেন্ট লাল মিয়া জানান, ৪৭ আর্টিকেল ফিলআপ করা হয়েছে।
কালিহাতী হাসপাতাল কি টাংগাইলের জনবলের জন্য ? টাংগাইলের কালিহাতী ৫০ শয্যা হাসপাতালটি কি টাংগাইলের জনবলের জন্য বরাদ্দ নাকি বাইরের জেলার জনবল নিয়োগ দেয়া হবে? এ হাসাপালে স্টাফ নার্স থেকে শুরু করে ২.১ জন ডাক্তার ছাড়া সবই টাংগাইল জেলার বসতি। কোন কোন ডাক্তারের স্থায়ী ঠিকানা /বাসা হাসপাতালের অতিনিকটে। তিনি আবার এ হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। বরিশালের একমাত্র ডাক্তার ছাড়া বাকি সব টাংগাইল জেলার বসতি। ফলে এ হাসপাতালে রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিনের। কর্তৃপক্ষ এটা জিইয়ে রেখেছেন বলে জানা যায়।
