ডেস্ক রিপোর্ট: ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে একের পর এক আইন অমান্য করছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। এনবিআরে ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগে গ্রেড-২ পদে দুজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার সুযোগ থাকলে চার জনকে পদোন্নতি দিচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে তারা এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) সুপারিশ পেয়েছেন তারা। এখন গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা। এছাড়া বোর্ডে ভ্যাট ও কাস্টমস ক্যাডারের আট জন কর্মকর্তা রাখার সুযোগ থাকলেও এখন আছে ১০ জন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর অজুহাতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আদায় করে নিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ-আইআরডি সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি তিনি।
এনবিআরের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, বোর্ডে সদস্য পদে ভ্যাট-কাস্টমসের আট জন কর্মকর্তা থাকতে পারেন। কিন্তু এখন আছেন ১০ জন। অর্থাৎ বোর্ডে এখন দুজন কর্মকর্তা আছেন অগ্রানোগ্রামের বাইরে। এছাড়া সদস্যদের মধ্যে গ্রেড-২ পদমর্যাদা পাওয়ার সুযোগ আছে পাঁচ জনের। আর গ্রেড-১ হতে পারবেন তিন কর্মকর্তা। বর্তমানে ভ্যাট ও কাস্টমসে গ্রেড-১ কোনো কর্মকর্তা নেই। তবে গ্রেড-২ আছেন তিন জন। তারা হলেন- ফারজানা আফরোজ, হোসেন আহমদ ও আল আমিন প্রামানিক।
রোববার আরও চার কর্মকর্তাকে গ্রেড-২ পদে সুপারিশ করেছে এসএসবি। তারা হলেন- বেলাল হোসাইন চৌধুরী, কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, মুহাম্মদ মুবীনুল কবীর ও মোয়াজ্জেম হোসেন। অর্থাৎ অতিরিক্ত দুজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির সুপারিশ করেছে এসএসবি।
গত রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন নিয়োগ-৩ শাখা থেকে উপসচিব তৌহিদ বিন হাসান স্বাক্ষরিত একটি কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গেজেট হলে গ্রেড-২ কর্মকর্তা হবেন মোট সাত জন। নতুন করে পদোন্নতির সুপারিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে আদালতে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
এসএসবি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌহিদ বিন হাসান জানান, পদোন্নতি দেয়া না হলে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হতে পারে, বৈঠকে এমন তথ্য উপস্থাপন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। আইনের লংঘন হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রয়োজনের বেশি দুজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। এর বিপরীতে কিছু কর্মকর্তাকে গ্রেড-১ পদে চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি দিয়ে ব্যালেন্স করবেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তবে, এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, গ্রেড-১ পদে চলতি দায়িত্ব দেয়ার বিধান নেই।
এনবিআর পৃথিকীকরণের খসড়া অধ্যাদেশ অনুমোদনের পর থেকে আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। তবে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অনেকেই এই আন্দোলনে সমর্থন দেননি। আন্দোলন ধীরে ধীরে কলমবিরতিতে রুপ নেয়। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলন বানচালে কিছু কর্মকর্তা এনবিআর চেয়ারম্যানের পক্ষ নেন। বহিরাগত ভাড়া করে আন্দোলন ঠেকানোরও অভিযোগ ওঠে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তিনিও পদোন্নতির সুপারিশ পেয়েছেন। আন্দোলনের মধ্যে গত আট মে বসে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড বিসিএসের (শুল্ক ও আবগারি) সভা। এতে এনবিআরের সদস্য পদে গ্রেড-২ এর দুটি পদের বিপরীতে চার কর্মকর্তাকে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসএসবি সভায় গ্রেড-২ পদে বিসিএস-১৩ ব্যাচের কাজী মোস্তাফিজুর রহমান ও বিসিএস-১৫ ব্যাচের মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর,মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী এবং মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।
সংস্থাটির আবেদনের প্রেক্ষিতে বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সচিব শেলিনা খানমকে কল করা হলেও সাড়া দেননি। মুঠোফোনে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি। বক্তব্য জানতে এসএসবির অন্যতম সদস্য অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে কল করা হলেও সাড়া মেলেনি।
