চর দখলের মতো শাহজালাল বিমানবন্দরে বিএমইটি জনবলকে তাড়িয়ে কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্ত-কমচারী দ্বারা দখল: কল্যাণ বোর্ডের ডিডি শরীফ এডি শওকত, ৫ ডিএডির সহায়তায় মানব পাচার : গোয়েন্দা রিপোর্টে চাকরিচ্যুত : এএসও শামসুন্নাহারের পোস্টিং ঢাকার বাইরে হলেও সংযুক্তি শাহজালালে! এডি টাংগাইল আনোয়ার গণশুনানিতে অভিযুক্ত, দুদকের সতর্ক বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসি কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএমইটির মূল সরকারি কর্মকর্ত-কর্মচারিদের তাড়িয়ে স্বায়ত্বশায়িত কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা চর দখলের মতো দখলে নিয়ে জেকে বসেছেন। হাতেগোনা কয়েকজন জনবল আছে মাত্র বিএমইটির। বাকি সব জনবল কল্যাণ বোর্ডের, কল্যাণ বোর্ডের পিয়ন-ড্রাইভার, ১০৯ জন আউট সোর্সিং জনবলকেও বিমানবন্দরে ডিউটি দেয়া হয়েছে। কল্যাণ বোর্ডের উপপরিচালক(ডিডি) শরীফ এবং আওয়ামী দোসর বিএমইটি পরিচালক প্রশাস/অর্থ মাসুদ রানার নেতৃত্বে বদলি বাণিজ্যসহ এ সব কার্যক্রম চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ওই আওয়ামী দোসর পরিচালক বিএমইটি প্রশাসন/অর্থ ইতিপূর্বে এডি/ডিডিদের বদলি বাণিজ্য করলেও তার ্ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অর্ডারে এখন এডি/ডিডিদের বদলি করা থাকে। কিন্ত কর্মচারিদের বদলির ক্ষমতা এখনও পরিচালক প্রশাসনের এখতিয়ার।
আর এ সুবাধে টাংগাইল বিএমইটর এডি- সহকারি পরিচালক আনোয়ার হোসেনকে বিধি লংঘন করে নিজ জেলা টাংগাইলে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এডি আনোয়ার ২০১৩ সাল পর্যন্ত টাংগাইলে থাকার পর মাঝে একবার ঢাকার বাইরে ঘুরে এসে আবার টাংগাইলে জেকে বসেছেন। তার বিরুদ্ধে ফিংগার বাণিজ্য, পিডিও সনদ বাণিজ্য, পাসপোট বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। গণ শুনানিতে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক তাকে সতর্ক করে দিয়েছে। কিন্ত টাংগাইল থেকে তাকে কর্তৃপক্ষ এখনও বদলি করেনি। তার খুটির জোর আওয়ামী দোসর পরিচালক প্রশাসন মাসুদ রানা বলে জানা যায়। এই এডির ডানহাত বলে খ্যাত জরিপ কর্মকর্তা কামরুন্নাহার। কামরুন্নাহার গত ১৫ বছর বছর যাবত টাংগাইলে কর্মরত থাকলে তাকে রহস্যজনক কারণে বদলি করা হচ্ছে না। অফিসের পাশে তার ছেলে কম্পিউটার দোকানে বসে থাকেন, গ্রীন সিগনালের মাধ্যমে ফিংগার, পিডিও সনদ, পিপি ,এনআইডি সংশোধন বাবদ জনপ্রতি ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। প্রতিদিন এই এডি আনোয়ার হোসনের অবৈধ নিট ইনকাম প্রায় ২ লাখ টাকার মতো, মাসে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও শোনা যায়। গণ শুনানিতে অভিযুক্ত , দুদক সতর্ক করার পরও তাকে টাংগাইল নিজ জেলা থেকে বদলি করা হয় না। তিনি টাংগাইলের এক প্রভাবশালি বিএনপি নেতার নাম ভাংগিয়ে চলছেন, ওই নেতার সাথে নাকি তার ফটোসেশনও রয়েছে। এই ফটোসেশন তিনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ওই এডির বাড়ি টাগাইলের সখিপুরে।
এ দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে কল্যাণ বোর্ডের বিমানবন্দর ইনচার্জ কম্পিউটার অপারেটর থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারি পরচালক (এডি) শওকত হোসেনের নেতৃত্বে ৫ ডিএডির সহায়তায় মানব পাচার জমজমাট। এদের সাথে কয়েকজন কম্পিউটার অপারেটর, পিয়ন সাইফুল ইসলাম সিন্ডিকেড সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। এই পিয়ন সাইফুল ১৫ বছর যাবত বিমানবন্দরে কর্মরত, তাকে এখান থেকে বদলি করা হয় না। এই সিন্ডিকেড সদস্যরা ভুয়া বিএমইটি কার্ড স্পান্ঞ করে বুকে ঝুলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করে দিচ্ছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার শলা পরামর্শে বুকে বিএমইটি কার্ড স্পান্ঞ করে ঝুলিয়ে দিলে এদের আর বিমানে ওঠার আগ পর্যন্ত জবাবদিহি করতে হয় না। ফলে এই আদমরা সহজে বিমানে ওঠে পাচার হয়ে যাচ্ছে মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। আর এ বিনিময়ে এই সিন্ডিকেড সদস্যরা প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এদের গতিবিধি গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা যায়।
এতিপূর্বে বিমানবন্দরে মানব পাচারের অভিযোগে ডিএডি মোশাররফ চাকরিচ্যুত হন। পরে মামলা করে চাকরি ফিরে পেয়েছেন, আবার তাকে বিমানবন্দরেই পোস্টিং দেয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেড সদস্যরা হলেন: ডিএডি মোশাররফ হোসেন, ডিএডি কামরুল ইসলাম, ডিএডি আশরাফুল ইসলাম, ডিএডি শহিদুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর বদিউজ্জামান, নাজমুল হোসেন, অফিস সহায়ক সাইফুল ইসলাম।
এদের মধ্যে মানব পাচারের অপরাধে ডিএডি মোশাররফ চাকরিচ্যুত হন।মামলা করে চাকরি ফিরে পেয়ে আবারও বিমানবন্দরে পোস্টিং। তার সাথে একই পালায় ডিউট করে থাকেন বিএমইটির এএসও (জরিপ) কর্মকর্তা শামসুন্নাহার।
শামসুন্নাহারের মূল পোস্টিং বগুড়া হলেও তাকে বিমানবন্দরে সংযুক্তি করা হয়েছে।
সিন্ডিকেড সদস্য ডিএডি আশরাফকে গোয়েন্দা রিপোর্টে বিমানবন্দর থেকে ২০১৯ সালে বদলি করা হলেও আবার তদবির করে বিমানবন্দরে পোস্টিং নিয়ে মানব পাচারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। চলবে