দুদকের পর এবার মন্ত্রণালয় বেবিচকের নিষ্ঠাবান প্রধান প্রকৌশলীসহ ৪ জনের দুর্নীতির তথ‍্য চেয়ে চিঠি , এটা কি আইওয়াশ?

একুশে বার্তা রিপোর্ট : দুদকের পর এবার বিমান মন্ত্রণালয় বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানসহ চার কর্মকর্তার দুর্নীতির তথ্য চেয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
দুর্নীতির মামলা থাকার পরও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে আবারও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে তোড়জোড় চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে মন্ত্রণালয়। সে কারণেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতির তথ‍্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৯ মার্চ এ দাপ্তরিক চিঠি বেবিচকে পাঠায় মন্ত্রণালয়।
বিমান মন্ত্রণালয় তো জানে যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুর্নীতির মামলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে, এরপর আবার নতুন করে দুর্নীতির তথ্য চেয়ে দাপ্তরিক চিঠি কেন? সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল অফরোজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দুদকে অভিযোগ তদন্তাধীণ থাকার পরও প্রকৌশলী জাকারিয়াকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে থার্ড টার্মিনালের পিডি করা হয়েছে। আবার তার ব্যাপারে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় কি আইওয়াশের জন্য এ সব করছে।
চিঠিতে যাদের বিষয়ে তথ‍্য চাওয়া হয়েছে তারা হলেন: বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল আফরোজ, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইএম, বর্তমান থার্ড টার্মিনালের পিডি মো. জাকারিয়া হোসেনে এবং তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইএম, ঢাকার বাইরের স্টেশন শুভাশীষ বড়ুয়া। চিঠিতে এসব কর্মকর্তার অতীত দুর্নীতির তথ্য এবং বর্তমানে মামলা থাকলে তার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আগামী ২৩ মার্চ প্রধান প্রকৌশলীর পদটি খালি হবে। ২২ মার্চ বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে নানা মহলে তদবির করে আসছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা হয়েছে দুদকে। তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তারপরও তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে বেবিচকের কয়েকজন কর্মকর্তা উঠে পড়ে লেগেছেন।
শহীদুল আফরোজের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আগামি ৬ এপ্রিল মামলার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা আছে।
তবে যে মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে ওই ঘটনায় বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ মিথ‍্যা প্রমাণিত হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও হাবিবুর রহমানকে দিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্রিফ করার চেষ্টা হয়েছে। নানা সমালোচনার পর বাধ‍্য হয়ে হাবিবুর রহমান কক্সবাজারগামী বিমানের টিকিট বাতিল করতে বাধ্য হন। তার পরিবর্তে প্রধান উপদেষ্টাকে বিমানবন্দরে সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্রিফ করেন বেবিচকের চেয়ারম‍্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া।
জানা গেছে, হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে চারটি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক (যার নং (ক)৮২/২০২৫, (খ)৮৩/২০২৫, (গ)৮৪/২০২৫, (ঘ)৮৫/২০২৫)। এসব মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব জনেদ্রনাথ সরকার, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, বেবিচকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক।
বেবিচকের বোর্ড সভায় তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে করা আবেদনে হাবিবুর রহমানকে নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে কক্সবাজার বিমানবন্দর (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যামান রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্পসহ আরও ছোট-বড় প্রকল্পের পরিচালক পদে নিষ্ঠা ও সাফল্যের সঙ্গে পালন করেন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য আটটি ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, হাবিবুর রহমানের অবসর ছুটি বাতিলপূর্বক চলতি বছরের ২৫ মার্চ থেকে ২০২৭ সারের ২২ মার্চ পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।