বিভাগীয় নিষ্পত্তি, দায়িত্ব প্রদান ফের ওএসডি বেবিচক কর্মকর্তা

নয় বছর আগে ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ করতে কেনা হয় যুক্তরাজ্যের এনইপি কোম্পানির শক্তিশালী জেনারেটর। বসানো হয় বিমানবন্দরের একপাশে পাওয়ার হাউসে। দীর্ঘদিন ধরেই জেনারেটরটি সচল এবং সার্ভিস দিচ্ছে। কিন্তু প্রধান প্রকৌশলী পদ নিয়ে বেবিচকে থাকা একটি চক্র জেনারেটরটি গায়েব করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। এ কারণে মামলাও হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে।
জানা গেছে, জেনারেটরটি গায়েব হয়নি। কক্সবাজার বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট জায়গায় রয়েছে এবং এখনও সার্ভিস দিচ্ছে। সূত্রমতে, কক্সবাজার বিমানবন্দরে ৩০০ কেভিএর জেনারেটর কেনার নামে ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বছর ছয়েক আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বেবিচকের সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ভবেশ চন্দ্র সরকার, (বর্তমানে অবসরে), উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম ম-ল, কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার মো. হাসান জহির, (বর্তমানে সিনিয়র এরোড্রাম অফিসার অ্যাপ্রোন কন্ট্রোলার), বেবিচকের নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চন্দ্র দে, (চলতি মাসে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে
অবসর গ্রহণ করেছেন) এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শহিদুল আফরোজকে (রুটিন দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদ থেকে অপসারণ করে ওএসডি) আসামি করে মামলা করে দুদক।
এদিকে বেবিচক আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করে উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে। মামলা ও তদন্তে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে তাদের বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। বহাল রাখা হয় তাদের নিজ কর্মে। প্রকৌশলী শহিদুল আফরোজকেও দায়মুক্তি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পরিবর্তে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে রটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ‘গায়েব হওয়ার’ অজুহাতে প্রকৌশলী শহিদুল আফরোজকে গত বছর ২৫ নভেম্বর ওএসডি করে কর্তৃপক্ষ। তাকে দায়মুক্তি দিয়েও আবার কেন ওএসডি করা হলো এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। তবে বেবিচকে ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। জেনারেটর কা- ঘটিয়ে দুদকের ভুয়া মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে বেবিচকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ। বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, বিনা কারণে শহিদুল আফরোজকে ওএসডি করা হয়েছে। প্রায় দশ মাস তিনি বেবিচকের রুটিন মাফিক প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়মের তথ্য এ পর্যন্ত মেলেনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য একটি ৩০০ কেভিএ জেনারেটর কেনার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কয়েক কর্মকর্তা- ঠিকাদার যোগসাজশ করে না কিনেই জেনারেটর কেনা হয়েছে দেখিয়ে ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে দুদক। দীর্ঘ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দুদকের চট্টগ্রাম অঞ্চল-২-এর উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের মেকানিক নুরুদ্দিন ভূঁইয়া এবং মনির হোসেনের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এ মামলা করা হয়েছে বলে জানা যায়। ওই সময় বেবিচক বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে ঘটনার তদন্ত করে। বিভাগীয় মামলাও করা হয়। মামলায় শহীদুল আফরোজসহ সবাই নির্দোষ প্রমাণিত হন। বেবিচকের তদন্তেও বলা হয়েছে, জেনারেটর কেনা হয়েছে। সার্ভিসও দিচ্ছে ঠিকমতো। পরে শহীদুল আফরোজকে দায়মুক্তি দিয়ে বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় ১০ মাস তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন।
বেবিচকের একটি সূত্র জানায়, গত ২৫ নভেম্বর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হঠাৎ করে প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজকে ওএসডি করে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে। ইতোমধ্যে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে দুদকে। দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাকে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব থেকে সরাতে উচ্চ আদালতে রিটও করা হয়েছে। আদালত থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ২২ মার্চ থেকে তার চাকরি শেষে অবসরে (এলপিআর) যাওয়ার কথা রয়েছে।