একুশে বার্তা রিপোর্ট : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিএফও কর্মকর্তা নওশাদের গাফিলতি নাকি ইচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ৫ লাখ ডলার আড়াই বছর ধরে আটকে আছে ইরানে। এই টাকা লন্ডনে না পাঠিয়ে ইরানে পাঠানো হয়। বিপুল এই অর্থের গন্তব্য ছিল লন্ডনে। শুধু তাই নয়, এইা সরকারি ব্যাংকে রাখার নিয়ম থাকলেও বিমানের ৪৭২ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রহস্যজনক কারণে অপেক্ষাকৃত কম সুদে ঝুঁকিপূর্ণ ফরমার্মস ব্যাংকে রাখেন নওশাদ হোসেন। এতে বিমানের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ফারমার্স ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় সেখানে রাখা ১০ কোটি টাকা এখন উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এতোকিছুর পরও অলোচিত-সমালোচিত এই কর্মকর্তাকে প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে মানব সম্পদ ও প্রশাসনের দায়িত্ব দিয়ে আরো লুটপাটের রামরাজত্ব কায়েম করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে বলে বিমানে চাউড় হয়েছে। আওয়ামী দোসর এই কর্মকর্তা বিমানের সাবেক এমডির খয়েরখা বলে অনেকে জানান।
বিমানের দুর্নীতি থেকে রিলিজ পাওয়া কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামকে চাকরির শেষ সময়ে বন্ঞিত করে প্রশাসন থেকে তাকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। নওশাদকে ডবল স্ট্যান্ডার্ড করা হয়েছে। কিন্ত অনিয়ম-দুর্নীতি তার পিছু ছাড়ছে না। লন্ডপনে পাঠানো ৫ কোটি টাকা ঞাতছাড়া হবার উপক্রম হলেও নওশাদ বহাল, উল্টো প্রাইজ পোস্টিং।
বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এ ব্যা্পারে যত তাড়াতাড়ি হস্তক্ষেপ করবেন ততই দেশ ও জাতির জন্য মংগল।
এদিকে গাফিলতির খেসারত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বছরের পর বছর ধরে গুনলেও অভিযুক্ত বিমানের অর্থ বিভাগের পরিচালক (সিএফও) নওশাদ হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তার টিকিটিও কেউ স্পর্শ করতে পারছেন না। পুরস্কারস্বরূপ তাকে অর্থ বিভাগের প্রধানের পাশাপাশি বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ মাথায় তিনি ৩ টুপি পরছেন। নওশাদ হোসেনের দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে এর আগে বিমানের সাবেক এমডি ও সিইও শফিউল আজিম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।এ নিয়ে আমাদের সময়ে এক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
বিমান ও ব্যাংক নথি সূত্রে জানা গেছে, নওশাদ হোসেন ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দরের সোনালী ব্যাংকের শাখায় পরিচালিত ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট নং- ০১২৮৯০৭০০০০০১-এর মাধ্যমে ৫ লাখ ইউএস ডলার পাঠাতে ইরান এয়ারপোর্ট এয়ার নেভিগেশন কোম্পানি এবং এমিরেটস জেনারেল পেট্রোলিয়ামের ইনভয়েস ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে ছিল এক বছর। লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এই বিপুল অর্থ শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিমানের একাধিক কর্মকর্তা।
জানা গেছে, বিমানের টাকা সরকারি ব্যাংকে রাখার নিয়ম রয়েছে। সেখানে আমানতের সুদহার শতকরা ৯.৫। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকে আমানতের সুদ হার কম। নওশাদ হোসেন অনিয়মের মাধ্যমে বিমানের অনুমতি না নিয়েই বিভিন্ন ব্যাংকে ৪৭২ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখেন। যার অধিকাংশ হলুদ ও লাল তালিকাভুক্ত। ফলে বিপুল পরিমাণ মুনাফা হারাচ্ছে বিমান।
বিমানের সাবেক এমডি ও সিইও শফিউল আজিম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেওয়া চিঠিতে নওশাদকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, বিমানের একটি দুর্নীতিবাজ চক্র বিশেষ করে দীর্ঘদিন কর্মরত বিসিএস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. নওশাদ হোসেন ও তার অধীনে কর্মরত অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তা ৪টি ব্যাংকের নামে কিছু বেসরকারি অখ্যাত/দায়গ্রস্ত ব্যাংকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে বিমানের শতকোটি টাকা আমানত রেখেছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
তবে এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বিমানের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) নওশাদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, বিমানের কোনো টাকা লন্ডনে, আবার কোনো টাকা ইরানে পাঠানো হয়। ৫ লাখ ডলার পাঠানোর বিষয়ে ইনভয়েসে ছিল
ইরানে ওভার ফ্লাইং একটা বিল পেমেন্ট হবে। এ রকম একটা ইস্যু ছিল। এখানে শাখা একটা ভুল করেছে। আমরা ফুয়েল প্রাইজসহ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময়ে লন্ডনে টাকা পাঠাই। ওরা এই ইনভয়েসটা ব্যবহার করেছে। ইরান ও মিডলইস্টের পেমেন্ট কখনও লন্ডন থেকে যায় নাই। ক্যাশ অ্যান্ড ব্যাংকিং শাখা থেকে ভুল ইনভয়েস লিখে ফেলেছে। ফলে ওই ট্রানজেকশনটা আটকে দিয়েছে।
লন্ডনের টাকা আটকে যাওয়ার পর সোনালী ব্যাংক টাকাটা আমাদের দিয়ে দেওয়ার কথা। কারণ আমরা তো জানি না কোথায় কী, কার সঙ্গে এমবার্গো রয়েছে। আমরা সোনালী ব্যাংকের সিস্টেমটা ব্যবহার করেছি। সমস্যার এখনও সমাধান হয়নি। লন্ডন থেকে আমাদেরকে একটা আইডি নম্বর দিয়েছে। সেটা দিয়ে আমরা এখন দেখতে পারছি টাকাটা কী অবস্থায় আছে। ওরাও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে। টাকাটা (ডলার) উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ দিকে দুর্নীতির অভিযোগে বার বার অভিযুক্ত, ১/১১’র সময়ে চাকরিচ্যুত বিমানের নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক হেড, বর্তমানে পরিচালক পদধারি মমিনুল ইসলামকে দুদক দুর্নীতির তকমা থেকে রিলিজ দিয়ে প্রঙাপন জারি করেছে, ওই প্রঙাপন একুশে বার্তা দপ্তরে সংরক্ষিত, তার কাছ থেকে পরিচালক প্রশাসন পদটি কেড়ে নিয়ে দুর্নীতিবাজ নওশাদকে উপহার দেয়া হয়েছে।
