বেবিচক : আওয়ামী দোসর ও প্রেতাত্মারা এখনও সক্রিয় : একজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে গোয়েন্দা রিপোর্টে ফাসিয়ে দেয়া : পতিত সরকারের বিমানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে চাকরিচ্যুতির নির্দেশ : এসবি রিপোর্ট এবং বেবিচক আভ্যন্তরীন তদন্তে তা বুমেরাং : এখনও ষড়যন্ত্র অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকে অন্তর্বর্তী সরকারের ৪ মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও আওয়ামী দোসর ও তাদের প্রেতাত্মারা এখনও সক্রিয়। বেবিচক প্রশাসনের পুরো সেটআপ এখনও আওয়ামী দোসর। এদের রদবদল করা হচ্ছে না। বিমান উপদেষ্টা হাসান আরিফ বেবিচক থেকে দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতির শে^তপত্র প্রকাশের কথা বললেও- আওয়ামী দোসরদের বহাল রেখে কি দুর্নীতির শে^পত্র প্রকাশ সম্ভব া- এ কথা ভেবে দেখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আওয়ামী দোসর একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বৈষম্য বিরোধী কর্মচারিকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে হুমকি দিলেও তার টিকিটিও স্পর্শ করা হচ্ছে না। আওয়ামী দোসররা বেবিচকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেকে বসে আছে। এই চিহ্নিত আওয়ামী দোসররা রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে কোন কোন কর্মকর্তাকে গত ১৫ বছর ঢাকার বাইরে পোস্টিং দিয়ে রেখেছে, কাউকে কাউকে ১৫ বছর ধরে পদোন্নতি বন্ধ করে রেখেছে। এ আমলেও প্রশাসনের কি- পয়েন্টে বসা আওয়ামী দোসর পুরনো ও নতুন প্রবিধানের দোহাই দিয়ে প্রকৌশল বিভাগে পদোন্নতি বন্ধ করে রেখেছে। কোন কোন প্রকৌশলীকে চাকরিচ্যুতির সরাসরি হুমকি দিয়েছে, ১৫ বছর ধরে পদোন্নতি বন্ঞিত করে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। অথচ এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও আওয়ামী দোসরদের পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে।
খোজখবর নিয়ে জানা গেছে, বেবিচকে ইএম বিভাগের সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার মোর্শেদ সিদ্দিকীকে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে তার নামে বেনামি চিঠি দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটে কনভেয়ার বেল্ট বন্ধ হওয়া নিয়ে গোয়েন্দ রিপোর্টে তাকে ফাসিয়ে দেবার পায়তারা করা হয়েছে। পতিত সরকারের বিমানমন্ত্রী ফারুক খান তাকে চাকরিচ্যুতির নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত এসবি রিপোর্ট এবং বেবিচকের আভ্যন্তীরন তদন্ত রিপোর্টে এ ষড়যন্ত্র মিথ্যা প্রমাণিত হবার পর মন্ত্রীর নিদের্শের পরও বেবিচকের তৎকালিন চেয়ারম্যানের ভূমিকায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ফলে এ যাত্রায় তিনি রক্ষা পান। কিন্ত তার বিরুদ্ধে এই সরকারের আমলেও আওয়ামী দোসররা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী বলয় এবং এর বাইরের সিন্ডিকেড সদস্যরা তাকে নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এরা সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর সিন্ডিকেড সদস্য বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফরের সময় ভিভিআইপি ফ্লাইটে চলাকালিন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ করে কনভেয়ার বেল্ট বন্ধ হয়ে , হঠাৎ করে আবার চালু হয়, পরে মেইনটেনেন্স করে বহুদিনের পুরনো এ কনভেয়ার বেল্টটি মেরামত করা হয়। এই কনভেয়ার বেল্টে দায়িত্ব না থাকার পরও প্রকৌশলী শাহরিয়ার মোর্শেদ সিদ্দিকীকে ফাসিয়ে দেয়া হয় সাবেক বিমানমন্ত্রী মীর নাছিরের লোক বলে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগানো হয়। তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট দাড় করানো হয়- যা পরবর্তীতে মিথ্যা, অসত্য বলে প্রমাণিত হয়।
প্রকৌশলীদের ডিউটি রোস্টার এবং দায়িত্ব বন্টন তালিকা থেকে জানা যায়, প্রকৌশলী শাহরিয়ার মোর্শেদ সিদ্দিকী কনভেয়ার বেল্টের দায়িত্বে ছিলেন না। তাই তার দায়িত্বে অবহেলার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্ত তারপরও তাকে ফাসিয়ে দেয়া হয়, চাকরিচ্যুতির পায়তারা করা হয়। কিন্ত বেবিচক চেয়ারম্যানের জোরালো ভূমিকায় তিনি সে দিনের সে যাত্রায় বেচে যান।
ডিউটি রোস্টার থেকে জানা যায়, কনভেয়ার বেল্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন সহকারি প্রকৌশলী ইএম বিকাশ চন্দ্র মল্লিক। কিন্ত তার টিকিটিও স্পর্শ করা হয়নি।
প্রকৌশলী শাহরিয়ার মোর্শেদ সিদ্দিকীকে নিয়ে এখনও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তার জুনিয়রদেরকে পুরনো গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হলেও তাকে ( মোর্শেদকে) পদোন্নতি বন্ঞিত করা হচ্ছে।
এ দিকে প্রকল্প প্রকৌশলীদের ভুতাপেক্ষ তারিখ কাউন্ট না করে রাজস্ব খাতের তারিখ অর্থাৎ ২০১০ সালকে কাউন্ট করে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এদেরকে আবার প্রধান প্রকৌশী করারও পায়তারা করা হয়। দুদক ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়। দুদক ক্লিয়ারেন্সে দুদকে অভিযোগ তদন্তাধীন আছে বলে বেবিচককে জানিয়ে দেয়া হয়।
এ নিয়ে প্রকৌশলী মিহির চাদ দে বেবিচক চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানা যায়।