বেবিচক চেয়ারম্যান দেশের বাইরে : শাহজালাল ও অন্যান্য বিমানবন্দরে আওয়ামী দোসরদের প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেয়া লাউন্ঞ, বিঙাপনি বিলবোর্ড , হোটেল, ফাস্টফুড দোকান আবারও নবায়নের পায়তারা

স্টাফ রিপোর্টার : শাহজালাল ও দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরে আওয়ামী দোসরদের নামে ও তাদের ঘনিষ্ঠদের নামে বেবিচকের এক কর্মকর্তার তত্বাবধানে আওয়ামী দোসরদের নামে বরাদ্দ দেয়া এবং বার বার তা নবায়ন করা লাউন্ঞ, বিঙাপনী বিলবোর্ড, হোটের-রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুডের দোকান আগামি ৩০ জুন বরাদ্দ বাতিলের ঘোষণা দিলেও বেবিচকের এক কর্মকর্তার আর্শীবাদপুষ্ট সম্পত্তি বিভাগের ডিডি, এডি, ম্যানেজার, কেরানিরা মিলে আবারও নবায়ন করার পায়তারা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। বেবিচক চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থাকায় এ সুযোগ নেয়া হচ্ছে বলে শোনা যায়।
পরিচালক ফ্লাইট সেফটি জিয়ার বান্ববী খ্যাত শমী কায়সারের প্রতিষ্ঠানের নামে ৬০ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেয়া লাউন্ঞটি সিটি ব্যাংককে ২ কোটি টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। বাতিল হচ্ছে না বলে শোনা যায়। শমীর ম্যানেজার মৃনাল লাউন্ঞটি আবারও নবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই তদবির শুরু করেছেন। গত আগস্টে এই মৃনালের তদবিরে শমীর ধানসিড়ি লাউন্ঞটি বেবিচকের ডিডি নবায়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগে তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। কিন্ত তার অন্যতম সহযোগি মিজানুর রহমান, সুব্রতরা এখনও বহাল। এইচক্র বেবিচকের জায়গাজমি কাগুজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দিয়ে লুটপাট করছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট কাগজে-কলমে ৩৬০০০ হাজার বর্গফুট বরাদ্দ দেবার পর এর পাশে আরো ৫০০০ হাজার বর্গফুট দখল করলেও তা উদ্ধার না করে অবৈধ দখলকারীদের থেকে মাসোহারা খাচ্ছে। এ পূর্ব পাশে ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নামে নেতা শাহাদতকে আরো প্রায় ৩৬০০০ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে– সেখানেও সাইনবোর্ড ব্যতিত বহুতল মর্কেট গড়ে তোলা হয়েছে। এই মার্কেটে দোকানপাট বরাদ্দ দিয়ে বেবিচক কর্মচারি শাহাদত আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। ছাত্রলীগের এক নেতা টিপুকেও এই মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এ ছাড়াও এই শাহাদত কাওলার আবাসিক এলাকায় ওয়েলফেয়ার মার্কেট করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়ে আখের গুছিয়েছেন।
আওয়ামী প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ আওরঙকে শাহজালালে লাউন্ঞ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একটি ফটোসেশনে হাসনাত আব্দুল্লহর পাশে আওরঙকে দেখা যাচ্ছে।


আওয়ামী দোসর বলে খ্যাত সাংবাদিকদের নামেও শাহজালালে দোকানপাট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জয় বাংলা সংগঠনের সভাপতি আবদুল কাদিরের কথিত আত্মীয়’র  প্রতিষ্ঠানের ও তার নিকট আত্মীয়দের নামে বেবিচকের সদর দপ্তরে বিশাল রেস্টরেন্ট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মাসিক ভাড়া মাত্র ৫ হাজার টাকা। এখানে বেবিচকের বিদ্যুত বিল মাসে ৫০ হাজার টাকা–যা বেবিচককে পরিশোধ করতে হয়।
ওই সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানের নামে শাহজালালে জিনের বাদশার সেই ‘কনক’ দোকানটিও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
আওয়ামী দোসর সাংবাদিক ২৮ জনের তালিকাভুক্ত আরেকজনের  প্রতিষ্ঠানের নামে শাহজালালে ২টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
২৮ জনের আওয়ামী দোসর সাংবাদিকের তালিকায় থাকা ওই সাংবাদিকের  ব্যাংক একাউন্টে ৩ কোটি টাকার লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। ইউটিউবে ওই ২৮ জনের খবর প্রচার করা হয়েছে, প্রচারিত খবরে  তার  ছবিও দেখানো হয়েছে, পাঠ করা হয়েছে  অন্যজনের  নাম। এক সময়ের চুনোপুটি এই  সাংবাদিক  বেবিচকে ঠিকাদারি ব্যবসা ও দোকানপাট ব্যবসার নামে কোটি কোটি কামিয়ে আমেরিকা পাড়ি জমিয়েছে, তার পরিবার নাকি আমেরিকায়, তিনি আমেরিকা যান-আসেন।