বেবিচক : প্রকল্পের প্রকৌশলীদের প্রধান প্রকৌশলী করার পায়তারা! মাতাব্বরি করছে অডিট বিভাগ

স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৯৬ সালের বোর্ডিং ব্রীজ প্রকল্প। এ প্রকল্পে উপসহকারি/ সহকারি প্রকৌশলী ইলেকট্রনিক্স একং সহকারি প্রকৌশলী ম্যাকানিক্যাল পদে চাকরি দেয়া হয় ৬ প্রকৌশলীকে। ২০১০ সালে প্রকল্প শেষ চাকরি শেষ, কিন্ত ৬ প্রকৌশলীর চাকরি শেষ হয়নি।
২০১০ সালে এদেরকে পদ বিবর্তন করে কোন রকম নিয়োগ বিঙপ্তি না দিয়ে ‘উপসহকারি প্রকৌশলী ইএম’ এবং ‘সহকারি প্রকৌশলী ইএম’ পদে এদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেয়া হয়।
এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের পর তদন্ত করা হয়, কিন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে করে সরকারের এ পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো।
এদেরকে আবার ৭ দিনের মধ্যে উপসহকারি প্রকৌশলী থেকে সহকারি প্রকৌশলী পদে এবং সহকারি প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। ১ বছরের মধ্যে আবার ২ জনকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়। যেখানে ফিডার পদে ৭ বছর চাকরি করার পর তত্বাধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়ার বিধান রয়েছে।
এই ২ জনকে ডিপিসি করে প্রান প্রকৌশলী করার পায়তারা করা হচ্ছে। এই ২ জনের দুদক ক্লিয়ারেন্স চেয়ে দাপ্তরিক পত্র পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় এদের ব্যাপারে দুদকে অভিযোগ/অভিযোগপত্র/. মামলা আছে কিনা- জানতে চেয়ে বেবিচক দপ্তরে দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন।
বোর্ডিং ব্রীজ প্রকল্পের এই ৬ প্রকৌশলী হলেন : তত্বাবধায় প্রকৌশলী ইএম জাকারিয়, শুভাশিষ বড়–য়া, সহকারি প্রকৌশলী আছালত হোসেন খান, আয়েশা হক, সফিকুল আলম, শাহিনুর আলম।
বেবিচকের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ২ জন প্রকৌশলীকে ইএম থেকে প্রধান প্রকৌশলী করা হয়। এরা হলেন কামাল উদ্দিন এবং আব্দুল মালেক। কারণ বেবিচকে সিভিল ডিভিশনের কাজ অত্যধিক, ইএমের কাজ কম।
আব্দুল মালেককে পলিট্রিক্যাল কারণে প্রধান প্রকৌশী করা হয়। কারণ তখন সিভিল ডিভিশনে তত্বাবধায়ক প্রকৌলী একমাত্র হাবিবুর রহমান ছাড়া কেউ ছিলেন না, তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগানো হয়। আর গোস্বাসি চাকরিচ্যুত হবার পর হাবিবুর রহমানেরই প্রধান প্রকৌশলী করার কথা, কিন্ত কোন এককালে বিশ^বিদ্যালয়ে ‘ছাত্রদল’ করার কারণে তাকে প্রকৌশল বিভাগ থেকেই আউট করে এফএসআরে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে মোস্ট সিনিয়র শহিদুল আফরোজ, এরপর হাবিবুর রহমান, এরপর নূরুদ্দিন চৌধুরি, কিন্ত নূরুদ্দিন চৌধুরিকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে কনফার্ম করা হয়নি গত ১০ বছর। গত সচিবের আমলে বৈষম্যের শিকার, এবার তার পদোন্নতি নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইএমের নীচের দিকে প্রকল্পের প্রকৌশীদের ডিপিসি করে নির্বাহী প্রকৌশলী করার জন্য দদুক ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়েছে।
আর ৪ জনের মধ্য থেকে প্রধান প্রকৌশলী করার পায়তারা চলছে। এরমেধ্যে প্রকল্প থেকে আসা ইএমর ২ জন এবং সিভিলের ২জন। এদেরমধ্যে আবার দুদকের মামলার আসামীদেরও ডিপিসি করার পদক্ষেপ চলছে।
ছড়ি ঘুরাচ্ছে অডিটের লোাকজন : ইস্টিমেট প্রাক্কলন/ টেন্ডার বাতিল করা বা কাজ না করা বা কাজ করার দরকার আছে কি নাই- তা বলতে পারে একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীরা। কিন্ত এখানে মাতাব্বরি করছে অডিট বিভাগের জাহিদ গংরা। এদের রিপোর্টে চেয়ারম্যান টেন্ডার ইস্টিমেট বাতিল করে দিয়েছেন। সিডি-২-এ এ প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অডিট বিভাগের লোকজন বলে বেড়াচ্ছে চেয়ারম্যান স্যার আমাদেরকে ইস্টিমেট বাতিল করার ক্ষমতা দিয়েছেন, তাই আমরা ইস্টিমেট বাতিল করছি।
এ ব্যাপারে ডিডি অডিট শাহিনা আকতারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।