বেবিচক : প্রকৌশলী জাকারিয়া-বড়–য়ার চাকরির অসংগতি পর্যালোচনা করতে কমিটি গঠিত : কমিটিতে প্রশাসন ক্যাডার -আইন কর্মকর্তা নেই : ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ : একই অসংগতিতে থাকা ৪ প্রকৌশলীর তদন্তে ঠাই হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকে ইএম বিভাগের ২ প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া হোসেন এবং শুভাশীষ বড়–য়ার চাকরিতে অসংগতির অভিযোগ তদন্তে পর্যালাচনা/ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর/২৪ এ কমিটি গঠন করে প্রঙাপন জারি করা হয়। হয়। যার স্মারক নং- ৩০.৩১.০০০০.২০১.৫৩.০১১.১৭.(অংশ-১)-৩৭৫৯, তারিখ-২৬.১২.২০২৪। প্রঙাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপপরিচালক মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সাধারণ প্রশিক্ষণ আবিদুল ইসলাম। কমিটির আহবায়ক হলেন- বেবিচকের সদস্য এটিএম এয়ার কমোডর জিয়াউল হক। দুইজন সদস্য হলেন- প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান ও পরিচালক অর্থ মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।এই কমিটিতে প্রশাসন ক্যাডার নেই , নেই কোন আইন কর্মকর্তা।
কমিটির কর্মকর্তাদের সরকারি চাকুরিবিধান, চাকরিতে অসংগতি পর্যালোচনাপূর্বক মতামতসহ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ওঠেছে এটা কি তদন্ত কমিটি নাকি পর্যালোচনা কমিটি নাকি মতামত প্রদান কমিটি। চিঠির শেষাংশে বলা হয়েছে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাষ্ট্রপতির মন্ঞুরি আদেশে ১৯৯৬ সালে বোর্ডিং ব্রীজ প্রকল্পে- প্রকল্প আছে চাকরি আছে, প্রকল্প শেষ চাকরি শেষ- শর্তে মো. জাকারিয়া হোসেনকে সহকারি প্রকৌশলী ইলেকট্রনিক্স এবং শুভাশীষ বড়–য়াকে সহকারি প্রকৌশলী মেকানিক্যাল পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই আদেশে আরো ৪ প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেয়া হয়। এরা হলেন- আছালত, আয়শা, সফিকুল, শাহিনুর। ২০১০ সালে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হয়। কিন্ত এদের চাকরি ২০২৪ সালেও শেষ হয়নি, চাকরির অসংগতি দূরকরণে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
জানা যায়, ৫ মন্ত্রনালয়ে কাঠখড় পুড়িয়ে এদের চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য বেবিচক থেকে দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি শুরু হয়। তৎকালিন সংস্থাপন , আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয় আপত্তি তুলে। পরে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এদের রাজস্ব খাতে নিয়ে আসা হয়। এ নিয়ে এদের বিরুদ্ধে সরকারের কয়েক কোটি টাকা লোকসান হবে বলে মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করা হয়, বেবিচক চেয়ারম্যানকে অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয়। এই অভিযোগ তদন্ত না করে ধামাচাপা পড়েছে বলে জানা যায়। দুদকও এদেরকে তলব করে।
এদের পদ পরিবর্তন করে নতুন করে নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় কোন নিয়োগ বিঙপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, প্রতিযোগিতামুলক নিয়োগ পরিক্ষা নেয়া হয়নি। প্রশ্ন ওঠেছে, তাহলে দ্বিতীয়বার এদের পদ পরিবর্তন করে চাকরি হলো কোন সরকারি বিধিতে? যা আগের পদের সাথে সাংঘর্ষিক বলে অনেকে মনে করেন।
২০১১ সালে আগের পদের সাথে মিল না রেখে জাকারিয়াকে ( আগের পদ সহকারি প্রকৌশলী ইলেকটিক্যাল) ‘সহকারি প্রকৌশলী ইএম এবং বড়–য়াকে সহকারি প্রকৌশলী মেকানিক্যাল থেকে ‘সহকারি প্রকৌশলী ইএম’ পদে চাকরি স্থায়ী করা হয়।
এদের ২ জনকে আবার ২০১১ সালে চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী এবং ‘১০-০১-২০১১’ তারিখে ১১/১২ মাসের মাথায় ‘ নির্বাহী প্রকৌশলী ’পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। যদিও ফিডার পদ ৭ বছর পূর্ন হলে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির বিধান রয়েছে। এদের ২জনকে আবার একই ডেটে অর্থাৎ ‘১৮-০৫-২০২১’ তারিখে তত্বাবধায়ক প্রকৌশী পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়।
১১/১২ মসের মাথায় এদের ২ জনকে কোনরকম নিয়োগ বিঙপ্তি ছাড়া, নিয়োগ পরিক্ষা ছাড়া নিয়োগ করার পর আবার তত্বাবধায় প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করে এসই (তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) হিসেবে জাকারিয়াকে ইএম ১/২-এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং বড়–য়াকে ঢাকার বাইরের বিমানবন্দরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এরমধ্যে জাকারিয়াকে আবার শুরু থেকেই থার্ড টার্মিনালের ডিপিডি করা হয়েছে।
এবার আবার তাকে পিডি করার জন্য বেবিচক মন্ত্রণালয়ে দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছে।
এর আগে জাকারিয়াকে প্রধান প্রকৌশলী করার জন্য বেবিচক চেয়ারম্যান বেবিচক থেকে ক্লিয়ারেন্স চেয়ে দুদকে দাপ্তরিক চিঠি পাঠান।
দুদক ক্লিয়ারেন্সে-এ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ তদন্তাধীন আছে বলে বেবিচককে দাপ্তরিক চিঠিতে জানিয়ে দেয়া হয়।
এরপর দুদকের অভিযোগ তদন্তাধীন অবস্থায় ‘এই কমিটির সদস্য’কে প্রধান প্রকৌশলী করা হয়- যিনি জাকারিয়া-বড়–য়ার চাকরির অসংগতি সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করছেন।
এ ২জন ছাড়াও আরো ৪ প্রকৌশলীর চাকরির অসংগতির বিষয়টি গঠিত তদন্ত কমিটিতে ঠাই পায়নি।

সিভিল এভিয়েশনে ৬ প্রকৌশলীর চাকরিতে নবনিয়োগ ২০১১ সালে : সিনিয়রটি কাউন্ট হচ্ছে ১৫ বছর আগের ১৯৯৬ সাল থেকে !

: এ দিকে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনে ৬ প্রকৌশলীর (ইএম) চাকরিতে ২০১১ সালে নবনিয়োগ হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি লংঘন করে ১৫ বছর আগে ১৯৯৬ থেকে তাদেরকে সিনিয়রটি দেয়া হয়েছে। এতে করে সরাসরি রাজস্ব খাতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা বন্ঞনার শিকার হচ্ছেন। ১৫ বছর আগে থেকে ৬ প্রকৌশলীকে সিনিয়রটি দেয়ায় রাজস্ব খাতে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা জুনিয়র হয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে চাকরি করছেন।
১৫ বছর আাগে – ১৯৯৬ থেকে সিনিয়রটি দেয়া এই ৬ প্রকৌশলী হলো : প্রকৌশলী জাকারিয়া, সুভাশিষ বড়–য়া, সহকারি প্রকৌশলী আছালত হোসেন খান, শাহিনুর আলম, আয়েশা হক, সফিকুল আলম।
রাষ্ট্রপতির মনজুরি আদেশে এই ৬ প্রকৌশলীকে ১৯৯৬ সালে ব্রোর্ডিং ব্রীজ প্রকল্পে চাকরি দেয়া হয়। ২০১০ সালে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হয়, ওদের চাকরিও শেষ হয়। ২০১১ সালে আবার ওই ৬ প্রকৌশলীকে নবনিয়োগ দেয়া হয়। ২০১১ সালে ৫ মন্ত্রণালয়ের হাতঘুরে ওদের চাকরি রাজস্ব খাতে ন্যস্ত করা হয়। সেই থেকে ওরা রাজস্ব খাতে। কিন্ত সিনিয়রটি দেয়া হয়েছে ১৯৯৬ সাল থেকেই। এ নিয়ে সিভিল এভিয়েশনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চাকরির অসংগতির বিষয়ে জাকারিয়া-বড়ুয়া এ ২ জনের তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও বাকি ৪ জন কি ধরাছোয়ার বাইরে?

সেই ৬ প্রকৌশলীকে দুদকে :

বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের ইএম বিভাগে কর্মরত- যাদেরকে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ ভংগ করে প্রকল্প শেষে নতুন করে চাকরির সময় থেকে সিনিয়রটি না দিয়ে প্রকল্পের সময় থেকে সিনিয়রটি দেয়ার বিষয় সংক্রান্ত দুদকের তলবি চিঠি জারি করে , ওই চিঠি সিএএবি থেকে হাওয়া হয়েছে। ফলে পার পেয়ে যাচ্ছেন ওই ৬ প্রকৌশলী। এরা হচ্ছেন- ডিভিশন-৩-এ কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী ইএম মো. জাকারিয়া হোসেন, ইএম-২-এ কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশী সুভাশিষ বড়–য়া, সহকারি প্রকৌশলী আাছালত হোসেন খান, সহকারি প্রকৌশলী শাহিনুর আলম, আয়েশা হক ও সফিকুল আলম।
এই ৬ প্রকৌশলীকে নিয়ে একুশ শতকের কাগজ ‘একুশে বার্তা’র অনলাইন সংস্করণে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তা আমলে নিয়ে তদন্ত কাজে হাত দেয়। এরই ফলশ্রুতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয় থেকে উপপরিচলক মাহফুজাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুদকের উপপরিচালক মাহফুজা সিএএবির ওই ৬ প্রকৌশলী সিনিয়রটি জালিয়াতির তদন্তের জন্য গত ২ মে /২০১৯ এক দাপ্তরিক চিঠি জারি করে তাদেরকে তলব করেন। সিনিয়রটি জালিয়াতরা সরকারের কোটি কোটি টাকার সুভিধাভোগী ৬ প্রকৌশলী সরকারকে ওই টাকা ফেরত দিতে হতে পারে- এমন আশংকা করছেন। যার স্মারক নম্বর-০০.০০১০০০০-৫০৩.২৬.১৬২.১৯-১৭৭৫৬ তারিখ-০২-০৫-২০১৯। কিন্ত দুদকের ওই তলবি চিঠিটি ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে পার পেয়ে যান ওই ৬ প্রকৌশলী।