বেবিচক : যশোহর এয়ারপোর্টের ম্যানেজার মাসুদকে ঢাকায় বদলি

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী দোসর, বাড়ি কিশোরগন্ঞে, পাপনের এলাকায় গত দেড় বছরে যশোর বিমানবন্দরের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকায়বস্থায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ,স্কুলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ, সাবেক মন্ত্রী পাপনের আত্মীয় পরিচয়দানকারি রিয়াদুল ইসলাম মাসুদকে ঢাকায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে সহকারি পরিচালক এটিএম-এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার সিন্ডিকেড বাহিনীর সদস্যরা এখনও যশোহর বিমানবন্দরে বহাল।সিন্ডিকেড বাহিনীর সদস্যরা হলো: এলডিএ আমানউল্লাহ, এলডিএ আল হেলাল, ড্রাইভার জাহিদ, সবুজ শাহ, এ্যারোডাম সহকারি শাহাদৎ হোসেন । এই সিন্ডিকেড সদস্যরা ম্যানেজার মাসুদের নেতৃত্বে যশোহর বিমানবন্দরে সকল অপকর্মের সংঘটিত করছে। এদের নিকট যশোহর বিমানবন্দর জিম্মি। এ সব অপকর্মের খবর বেবিচক কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে ম্যানেজার মাসুদকে দ্রুত ঢাকায় প্রত্যাহার করা হয়।
২০২২ সাল থেকে মার্চ ২০২৪ সাল পর্যন্ত যশোহর এয়ারপোর্টের ম্যানেজার ছিলেন রিয়াদুল ইসলাম মাসুদ। গত দেড় বছরে বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে জড়িত থেকে আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন , কোটিপতি বনে গেছেন, ঢাকায় কাওলায় ২টি ফ্লাট বাড়ি, নামে-বেনামে জায়গা-সম্পত্তি করেছেন।
জানা যায়, যশোহর বিমানবন্দরে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করে মোটা অংকের টাকা লুটপাট, কার পার্কিংয়ে তার মনোনীত ২ জন মফিজ, হেলালকে দিয়ে প্রবেশ কার পার্কিং টিকিট জালিয়াতি করে সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে নিজেরা মোটাতাজা হয়েছেন। এ্যারোডাম সহকারি শাহাদত হোসেনের মাধ্যমে ওয়েলফেয়ার মার্কেট থেকে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতি। জ্বলানী তেল চুরি, ড্রাইভার জাহিদ ও সবুজ শাহ’র মাধ্যমে এই তেল চুরি করা হয়। গাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্মসাত, স্টেশনারি সামগ্রি ক্রয়ের নামে ভুয়া বিল –ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাত, কোন সভা-সেমিনার না করে মিটিংয়ের নামে বিল উত্তোলনে স্বাক্ষর নিয়ে বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতকরণ, কর্মচারি-কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের নামে( স্থানীয় প্রশিক্ষনে) অর্থ আত্মসাত, আউটসোর্স কোম্পানি ক্লিনিং কোম্পানির কর্মীদের বাসায় নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার,
কর্মচারিরা অভিযোগ করেন, ম্যানেজার মাসুদের স্বেচ্ছাচারিতা চরমে, কথায় কথায় কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মানসিক নির্যাতন, ওভারটাইমের অতিরিক্ত খাটুনির টাকা আত্মসাত, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প তৈরি করে বেবিচকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত, নিম্নমানের পন্য দিয়ে নির্মাণ কাজ করা, কাজ না করেও প্রত্যয়ন দেয়া হতো পার্সেসেন্টের বিনিময়ে। বার্ষিক বনভোজনের নামে নিজস্ব জনবল থেকে চাদা আদায় করার পরও বিভিন্ন কোম্পানির থেকে চাদা আদায় করে পকেটস্থ করা, ওয়েলফেয়ারের টাকা পকেটস্থ করা।

জানা যায়, যশোহর বিমানবন্দ হাইস্কুলের সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালিন অর্থ আত্মসাত করার দায়ে ম্যানেজার মাসুদের নামে মামলা হয়েছে, মামলা বিচারধীন, আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
দেড়বছর যশোহর বিমানবন্দরের ম্যানেজার থাকাকালিন আয় বর্হিভুত অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ঢাকার কাওলায় ২টি বিলাসবহুল ফ্লাট কিনেছেন, নামে-বেনামে আরো অনেক সম্পদ করেছেন। যশোহর বিমানবন্দরে তার সহযোগি কেরানি সামাদ, মফিজ, আল হেলাল, প্লাম্বার ইব্রাহিম, এ্যারোডাম সহকারি শাহাদত, ড্রাইভার জাহিদ, সবুজ শাহ তার দুর্নীতির সহযোগি। ম্যানেজার মাসুদের নেতৃত্বে এদের সহায়তায় সকল অপকর্ম সংঘটিত হয়।এদের হাতে যশোর বিমানবন্দর জিম্মি।এ সকল অপকর্মের খবর বেবিচক কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর ম্যানেজার রিয়াদুল ইসলাম মাসুদকে দ্রুত ঢাকায় প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাকে সহকারি পরিচালক এ্যারোডাম দায়িত্বে শাহজালাল বিমানবন্দরে কন্ট্রোল টাওয়ারে বদলি করা হয়েছে।