স্টাফ রিপোর্টার : যেখানে অর্থ ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রনালয় থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান বাহিনী থেকে ১৪৫০ এভসেক সদস্য মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে সেখনে এবার বিমানবন্দরের সব নিরাপত্তা এভসেকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ১৮ নভেম্বর বেবিচক এক সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে স্বাক্ষর করেছেন বেবিচকের সদস্য নিরাপত্তা মো. নাইমুজ্জামান খান। এ নিয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, শাহজালাল বিমানবন্দর কি বিমানবাহিনীর অধীনে চলে যাচ্ছে? এপিবিএনের সাথে এভসেকের শীতল সম্পর্ক চলছে। এপিবিএন এভসেকের বিরুদ্ধে তাদের অফিস দখলের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় জিডিও করেছে। ৭১ টিভি প্রচার করেছে কার নির্দেশে অতিরিক্ত ১৪৫০ জনকে বিমান বাহিণী থেকে নিয়োগ করা হয়েছে তা জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বেবিচককে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বেবিচক চেয়ারম্যান বলছেন, এটা বেবিচকের এখতিয়ার । এ দিকে বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগে ৪৫০ জনকে নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন যাবত ঝুলে আছে। বেবিচক এদেরকে নিয়োগ দিচ্ছে না। অথচ দিন দিন বিমান বাহিনী থেকে জনবল বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ নিয়ে বেবিচক কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মনোক্ষুন্ন।
এ দিকে দুটি গণমাধ্যম বেবিচক চেয়ারম্যানকে কোট করে প্রচার করেছে, বর্তমান চেয়ারম্যানের আমলে বিমানবন্দরে শতভাগ নিরাপত্তা এসেছে, বিদেশগামি ও বিদেশ ফেরত যাত্রীদের জন্য লাউন্ঞ করা হয়েছে, ডে কেয়ার করা হয়েছে, বেবিচক চেয়ারম্যান বলছেন যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে যেন মনে করে যে তারা নিজের বাড়িতে আসলেন।
কিন্ত বিশ্লেষকরা মনে করছেন বিমানবন্দরে এখনও শতভাগ নিরাপত্তা, শতভাগ যাত্রী সেবা এখনও কায়েম হয়নি, শৃংখলা শতভাগ ফিরে আসেনি। এখনও নিত্য হাজার হাজার যাত্রীর রিসিভাররা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে স্বজনদের জন্য বাইরে অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য এখনও আন্তর্জাতিক আগমনী ও বর্হিগমন হল (কনকোর্স) দুটি খুলে দেয়া হয়নি। স্বর্ণ চোরাচালান পাল্লা দিয়ে চলছে।মানব পাচার নিত্যদিনকার। এর সাথে বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য- যাদেরকে গত সরকারের আমলে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রত্যাহার করার জন্য দাপ্তরিক চিঠি দেয়া হয়েছিল বেবিচককে। কিন্ত বেবিচক এখনও তা কার্যকর করেনি। প্রায় অর্ধশত বেবিচক কর্মচারি মানব পাচরসহ স্বর্ন পাচারে জড়িত বলে বিভিন্ন সময়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট হয়েছে। নির্বাহী পরিচালকের পিয়ন মতির ভাই রেজাউল স্বর্ন পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে। মেম্বার অপসের পিএ জাফরউল্লাহর আপন ভাই ইউসুফ কামাল স্বর্ন পাচারে ধরা খেলেও তাকে সেইভ করে যশোহরে বদলি করা হয়েছে। শেখ সেলিমের প্রটোকলকারি গার্ড মেজবাহ বডি ফিটিংস স্বর্ন পাচার করে ধরা খেয়ে চাকরিচ্যুত হয়েছে, স্বর্ন পাচারকারি গার্ড তালেব মারা গেছেন। পরিচালক নূরুল ইসলামের কথিত ভাগিনা হাকিম দুই দুইবার স্বর্ন পাচার করে ধরা খেয়ে এখনও বহাল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে এভসেকে এয়ারফোর্স আসার পর বেবিচকের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ( সিএসও) পদটি উবে গেছে। উচ্চ আদালত থেকে এ পদে বেবিচক থেকে ‘সিএসও’ নিয়োগের আদেশ দেন। এর আগে সেনাবাহিনীর মেজর পর্যায়ের কর্মকর্তা দ্বারা এ পদ প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হতো। এ পদে সিএসও হিসেবে ৯০’র দশকে সর্বশেষ মেজর মিজানুর রহমান দায়িত্ব পালন করেন। এর পর থেকে বেবিচকের সহকারি পরিচালক / উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হতো। সর্বশেষ রাশিদা সুলতানা এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিমানবন্দরে কার নির্দেশে ‘সিএসও’ পদটি বাতিল করা হলো তা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। এখন ওই পদে পরিচালক এভসেক দায়িত্ব পালন করেন। শাহজালালে এখন ২ জন পরিচালক বিমান বাহিনী থেকে আগত একজন নির্বাহী পরিচালক, তিনি এয়ারফোর্সের গ্রুপ ক্যাপ্টেন, আরেকজন পরিচালক এভসেক, তিনিও বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন। একজন দেখেন প্রশাসন আরেকজন দেখেন নিরাপত্তা, এদের ওপরে আবার একজন সদস্য নিরাপত্তা বিমান বাহিনী থেকে প্রেষণে বেবিচকে দায়িত্ব পালন করছেন। আরো ২ সদস্য বিমান বাহিনী থেকে আগত, একজন সদস্য অপস ( অপারেশন এন্ড প্লানিং) আরেকজন সদস্য এফএসআর ( ফ্লাইট স্ট্যাান্ডার্ড রেগুলেশন)। সর্বোপরি বেবিচক চেয়ারম্যান বিমান বাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল, তার স্টাফ অফিসারও বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন।
এ দিকে বেবিচকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একযোগে সিন্ডিকেড নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলেও তা ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। এর নেপথ্যে কাজ করছে বেবিচকে বসা এক কর্তাব্যক্তি বলে শোনা যায়। তাকে আবার দুদক তলবও করেছে। এ ক্ষেত্রে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচের কথাও শোনা যায়। এতে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকেও বিবৃতকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বেবিচক কর্তৃপক্ষ মোস্ট সিনিয়র প্রকৌশলী শহিদুল আফরোজকে বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহারে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশে রুটিন দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ করে। এ ছাড়া বেবিচকের কাছে বিকল্প নেই। কারণ এর নীচের পর্যায়ে ইএম এবং সিভিলে যারা প্রকৌশলী আছেন তারা তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কনফার্ম হননি। নতুন চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিয়ে যারা চলতি দায়িত্বে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আছেন তাদের ডিপিসি করে পদোন্নতি দেয়া যায় কিনা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্ত বাধ সাধে দুদক। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুদকের জাল থেকে প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানও বাদ যাননি। কিন্ত নেপথ্যে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে, মেম্বার এডমিনকে কব্জা করা হয়েছে বলেও শোনা যায়। বেবিচকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্টারদের ম্যানেজ করে একের পর এক সিন্ডিকেড রিপোর্ট – বেবিচককে কুরুক্ষেত্র বানানো বলেও অনেকে মনে করেন।
এ দিকে এই মুহূর্তে রুটিন দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল আফরোজকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলে বেবিচক থেকে প্রধান প্রকৌশলীর পদ পূরণ করার কেউ নেই। সে ক্ষেত্রে আর্মি থেকে প্রেষণে এ পদ পূরণ করতে হবে বলে অনেকে মনে করেন।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
