একুশে বার্তা ডেক্স : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না- এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রিটের শুনানি শেষে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং মুবিনা আসাফের ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার চৌধুরী মোর্শেদ কামাল টিপু। রিটের শুনানিতে সরকার পক্ষে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।
রিটকারীরা জানান, বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ও বরখাস্ত করতে ৬ আইনজীবীর পক্ষ ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান গত ১০ ফেব্রুয়ারি রিট করেন। রিটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেবিচকের চেয়ারম্যান, পরিচালক (প্রশাসন) ও প্রধান প্রকৗশলী মো. হাবিবুর রহমানকে বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে উৎখাত হওয়া হাসিনা সরকারের সময় এয়ারপোর্টগুলোতে প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের অনুসন্ধানে এসব দুর্নীতিতে হাবিবের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পৃথক ৪টি মামলা করেছে দুদক। অথচ দুর্নীতিবাজ এই প্রধান প্রকৌশলী এখনো চাকরিতে বহাল। তার বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাকে চাকরিতে বহাল রাখলে দুদকের স্বাভাবিক তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। দুর্নীতির প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। দুর্নীতির প্রমাণকস্বরূপ গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও নথি বিনষ্ট করে ফেলতে পারেন। তিনি স্বপদে থাকলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকাটা স্বাভাবিক।
প্রসঙ্গত, বেবিচকের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলায় ইতোমধ্যে আসামী হয়েছেনÑ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক বিমান সচিব মহিবুল হক, যুগ্মসচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক ও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আওতাধীন দেশের বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। ইতোমধ্যে থার্ড টার্মিনালসহ দেশের ৮ বিমানবন্দরে ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৯শ’ কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে মামলা হয়েছে।
এসব বিষয় উল্লেখ করে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) ব্যারিস্টার মাহদী জামান (বনি), অ্যাড. বায়েজীদ হোসাইন, অ্যাড. নাঈম সরদার, অ্যাড. মো: শাহেদ সিদ্দিকী ও অ্যাড. খায়রুল বাশার বাদী হয়ে রিট করেন।
