স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন. মানুষের শেষ ভরসাস্থল আদালত। আর উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র ও সুশাসনের বড় প্রয়োজন, এর কোন বিকল্প হতে পারে না। রাষ্ট্রপতি গত শনিবার বিচার বিভাগীয় সম্মেলনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার উপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদ।
তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে মনে রাখতে হবে এক বিভাগের কর্মকাণ্ডে যাতে অন্য বিভাগের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় বা জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত না নয়। তিনি বলেন, এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাকালে বিভিন্ন বিষয়ে সরকার ও সংসদের সঙ্গে বিচার বিভাগের টানাপড়েন দেখা দিয়েছিল।
তবে বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের পর ওই আলোচনা স্তিমিত হয়ে এসেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, “উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র ও সুশাসনের বিকল্প নেই। আর গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক ও সমন্বয় খুবই জরুরি।
আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষা এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
পেশায় আইনজীবী আবদুল হামিদ মামলার রায় দেওয়ায় দেরি না করার উপর জোর দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের বিচার ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা বিচারে বিলম্ব এবং মোকদ্দমার জট। এ বিলম্বের কারণ বহুবিধ। বিচারে কাঙ্ক্ষিত গতি আনয়নের জন্য পর্যাপ্ত বিচার কক্ষ, বিচারকের শূন্যপদে নিয়োগ এবং বিচারক ও মোকদ্দমার সংখ্যায় যুক্তিসঙ্গত ভারসাম্য রক্ষা করা আবশ্যক।
একটি দরখাস্তের শুনানি সমাপ্ত হবার পর যখন আদেশ লাভে বিলম্ব ঘটে বা মোকদ্দমার যুক্তিতর্ক শুনানির পর যখন রায় প্রকাশিত হতে বিলম্ব হয়, তখন সে বিলম্বের একক দায় সংশ্লিষ্ট বিচারককেই নিতে হবে। কারণ রায় বা আদেশ তৈরির দায়িত্ব এককভাবে বিচারকদের। রায় বা আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচারকদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, মনে রাখতে হবে মানুষের শেষ ভরসার স্থল আদালত। বিচারকগণ পক্ষপাতহীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন-এটাই সবার কাছে প্রত্যাশিত।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিয়া। বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিকাশ কুমার সাহা প্রমুখ।
