নি্উুজ ডেক্স : নিয়োগের প্রায় চার বছর পার হলেও নানা জটিলতায় ৮৮৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এখনও স্থায়ী করেনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে তাদের বেতন – ভাতা আটকে রয়েছে। অডিট আপত্তির দোহাই দেয়া হচ্ছে। অতীতে অডিট আপত্তি ওভারটেক করে এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। মামলা শেষ না হলেও ফুল পেনসন দিয়ে বিদায় করা হয়েছে এক ইএম প্রকৌশলীকে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও চাকরি শেষ হয়নি, বরং ভুতাপেক্ষ তারিখ থেকে সিনিয়রটি দেয়া হয়েছে। আপত্তি সত্বেও চলতি দিয়ে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। পদোন্নতি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে স্বয়ং বেবিচকের এক বিদায়ী উর্ধতন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্ত তার প্রশ্ন ধোপে টিকেনি। বছরের পর বছর এ ধারা অব্যাহত। অথচ ৮৮৬ কর্মচারির বেলায় আইনের কথা বোর্ডসভায় জুড়ে দেয়া হয়েছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, ৩০৬তম বোর্ড সভায় এসব কর্মীর বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু বর্ধিত এ বেতন তুলতে নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষটি।
শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো কারণে অডিট আপত্তি উঠলে এসব কর্মীর বর্ধিত বেতনের পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। এই শর্ত মেনে মুচলেকাও দিতে হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, জনপ্রশাসন প্রবিধানমালার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এই কারণে মুচলেকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই শর্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
জানা গেছে, গত ৩০ জুন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ৩০৬তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৮৮৬ কর্মীর বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আড়াই মাস পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করতে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠায় বেবিচকের প্রশাসন বিভাগ।
বেবিচকের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবিদুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়, বোর্ড সভার ২-এর ক নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেবিচকের নবসৃষ্ট পদসমূহে যোগদানকারীদের মধ্যে ২ বছর অতিক্রান্ত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শর্তসাপেক্ষে বার্ষিক বেতন বর্ধনের বিষয়ে বোর্ড কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভবিষ্যতে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো অডিট আপত্তি বা প্রশ্ন উত্থাপিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্ত অর্থ ফেরত প্রদান করতে হবে মর্মে তাদের নিকট হতে লিখিত (মুচলেকা) গ্রহণ করতে হবে। চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ওই কর্মীদের বেতন বাড়াতে সম্মত হলেও এতে নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ভবিষ্যতে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির কারণে কোনো কর্মকর্তা বা অডিট কর্তৃপক্ষ আপত্তি উত্থাপন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে। এ জন্য তাদের কাছ থেকে আগেই লিখিত (মুচলেকা) নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত হয়, বেতন বৃদ্ধিসংক্রান্ত প্রবিধান শিথিলের বিষয়ে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে দ্রুত প্রস্তাব পাঠানো হবে। বিশেষ করে মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৭ সালের জনপ্রশাসন প্রবিধান অনুসারে প্রদত্ত নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বেবিচক চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২১-এর ১১ (৩) ধারা শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, ২০১৭ সালের জনপ্রশাসন প্রবিধানমালার আলোকে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যা পরে বেবিচকের চাকরি প্রবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করতে গেলেই অডিট আপত্তি আসতে পারে।
বেবিচকের চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী, নবনিযুক্তদের শিক্ষানবিশকাল দুই বছর। এ সময় তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। ফলে প্রবিধান অনুযায়ী, শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার পর তাদের চাকরি স্থায়ী হওয়ার কথা এবং স্বাভাবিক নিয়মে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। তবে নথিপত্র থেকে জানা গেছে, প্রবিধানমালার বেশ কয়েকটি ধারা এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
প্রবিধানের ধারা ৮ অনুযায়ী, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকার যেভাবে নির্ধারণ করবে সেভাবেই দেওয়া হবে। আবার জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর ধারা ১০ (১)-এ বলা আছে; সকল কর্মচারীর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির তারিখ হবে প্রতিবছর ১ জুলাই। নতুন যোগদানকারী কর্মচারী যদি ন্যূনতম ৬ মাস চাকরি করেন তবে তিনি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। অথচ চাকরি প্রবিধানমালা ২০২১-এর ধারা ৬ (৫) বলছে, অস্থায়ীভাবে সৃষ্ট পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি শিক্ষানবিশ হিসেবে গণ্য হবেন না। তবে অস্থায়ী পদ যেদিন স্থায়ী হবে, সেদিন থেকে তার চাকরিও স্থায়ী হবে। এ ছাড়া ধারা ১১ (৩) অনুযায়ী, কোনো শিক্ষানবিশ সফলভাবে শিক্ষানবিশকাল শেষ না করলে এবং চাকরিতে স্থায়ী না হলে তিনি বেতন বৃদ্ধির অধিকারী হবেন না।
প্রবিধানের জটিলতা এড়াতে মুচলেকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩০৬তম বোর্ড সভা। আর এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বেবিচকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তাদের দাবি, প্রবিধান অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মে যেটা পাওয়ার কথা, সেখানে মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে টাকা ফেরত দেওয়ার শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে- এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং চাকরি প্রবিধানের লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগি একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, বর্ধিত বেতন তুলতে এমন শর্ত ‘মনগড়া’ ও আইনবহির্ভূত। সরকারি চাকরির প্রবিধানমালায় কারও বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে তার চাকরি সরাসরি স্থায়ী হওয়ার বিধান রয়েছে। বেতন বৃদ্ধি কিংবা বর্ধিত বেতন পেতে এ ধরনের আজব নিয়ম এর আগে কেউ কখনও শোনেনি।
এ দিকে বিচকের ২ উর্ধতন কর্মকর্তার অভিযোগের ব্যাপারে দুটি গণমাধ্যামে রিপোর্ট এসেছে। উপদেষ্টা বরাবর ১৬ ব্যবসায়ীর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট তুলে ধরা হয়েছে।
অভিনেতা মাহফুজকে শমীর সাথে মিলিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের ইজারা নবায়ন না করে বাতিল করে গোয়েন্দাজালে আটকানোর প্রক্রিয়া চলছে। অথচ অভিনেতা মাহফুজ বেবিচকের সব শর্ত ফুলফিল করে নিয়মিত ইজারা শর্ত লংঘন না করে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্ত তাকেও রাজনৈতিক কালার দিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের ইজারা বাতিল করা হয়েছে। অথচ এখনও আওয়ামী দোসররা বেবিচকে ইজারা ব্যবসা করছেন।
এ দিকে ১২০০ কর্মচারির নিয়োগের তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দেয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। প্রশাসন বিভাগের কেরানি জাহিদ, রুকনোজ্জামান, মমিনুল ইসলাম তলব করা হলেও প্রশাসনিক এ্যাকশন নেয়া হয়নি। ডিডি আবিদুল ইসলাম ১৫ বছর ধরে প্রশাসনে বসে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। নিয়োগের সময়কার পরিচালক মানব সম্পদ ,বর্তমানে পরিচালক অডিটকেও জবাববদিহির আওতায় আনা হয়নি। ২ ক্যাডার কর্মকর্তার নামও ওঠে এসেছে।
এ নিয়ে একটি গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন আমলে নিয়েছেন বেবিচক কর্তৃপক্ষ।
বেবিচকে আওয়ামী দোসরদের জয়জয়কার : বেবিচকে আওয়ামী দোসরদের জয়জয়কার চলছে। এদের একজন চলতি দায়িত্বের ডিডি আনোয়ার হোসেন। বৈষমী বিরোধী কর্মচারীরা তাকেস ৬ জনকে দানবও উপাধি দিয়েছিল, মানব বন্ধন করে প্রত্যাহার দাবী করেছিল। কিন্ত আমলে নেয়নি বেবিচক। উল্টো পদোন্নতি দিয়ে ডিডি পদে স্থায়ী করা হয়েছে। আওয়ামী দোসররা এখন বিএনপি-জামায়াত সাজছে, উধৃতন আওয়ামী দোসররা বিএনপি নেতাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন বলে বেবিচকের চাউড় হয়েছে।
