
নিজস্ব প্রতিবেদক : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশিদা সুলতানা গত বেশ কিছুদিন যাবত নিয়মিত অফিসে আসছেন না বলে জানিয়েছেন তার নিয়ামক কর্মকর্তা। এরপর গত দুদিন যাবত অফিসে না এসে তিনি একখানা ছুটির আবেদন দিয়ে চলে গেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নাম ভাংগিয়ে চললেও, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের গুনগান গেয়ে মুখে ফেনা তুললেও বংগবন্ধুর ৭ মার্চের এৗতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ না নিয়ে তার দুদিন আগেই তিনি ( সিএসও রাশিদা ) তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে পারি জমিয়েছেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রি পরিষদ সচিব গত ২৪ নভেম্বর এক প্রেস ব্রিফিং-এ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ২৫ নভেম্বরের আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়ার আহবান জানালেও বিমানবন্দরের সিএসও রাশিদা যেন এ কর্মসূচি থেকে ব্যতিক্রম।
শাহজালাল বিমানবন্দরের সিএসও রাশিদা সুলতানার বিরুদ্বে বিভিন্ন অভিযোগ , ওদ্ধত্যপূর্ন আচরন এবং নিয়মিত অফিসে না আসা তথা বিমানবন্দরের চেইন অব কমান্ড ভেংগে যাওয়ার প্রশ্ন ওঠার পর তার উর্ধতন কর্মকর্তা তাকে গত ১৩ নভেম্বর বিমানবন্দর থেকে বদলির সুপারিশ করে সিএএবির চেয়ারম্যান বরাবর দাপ্তরিক চিঠি দেয়ার প্রায় পক্ষকাল পরও তাকে বিমানবন্দর থেকে সরানো হয়নি। গত ২ দিন ধরে অফিসে না এসে সিএসও একখানা ছুটির আবেদন দিয়ে চলে গেছেন বলে জানা গেল।
এদিকে গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবত ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলের শাহজালাল বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিদর্শন করার সময়ও সিএসও রাশিদা সুলতানা ওই টিমর সাথে অংশ নেননি বলে জানা গেছে। চেইন অব কমান্ড ভংগ করে সিএসও রাশিদা সুলতানা তার ইচ্ছামাফিক অফিস আসছেন- যাচ্ছেন – এমন অভিযোগ এনেছেন তার নিয়ামক কর্মকর্তা। কিন্ত এর পরও তার বিরুদ্বে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে অনেকে মনে করেন। কোন জুজুর ভয়ে তাকে বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছেনা- এমন প্রশ্ন তুলেছেন সিএএরি কর্মকর্তারই। সিএএবির চেয়ারম্যান কেন একজন ওদ্ধত্য আচরনকারি ও সরকারি কাজে শৃংখলা ভংগ- অমান্যকারি কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত হলেও সিএসও রাশিদা সুলতানাকে বিমানবন্দর থেকে বদলি করছেন না- এমন প্রশ্নও বিমানবন্দরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের পরিচালক সিএসও রাশিদা সুলতানাকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বদলির সুপারিশ করায় তাকেই ( পরিচালক ) বিমানবন্দর থেকে বদলির করার জন্য রাশিদা সুলতানা তদবির করে বেড়াচ্ছেন । তিনি ( সিএসও ) নাকি পরিচালককেই বিমানবন্দর থেকে বদলি করে ক্ষমতা কাকে বলে দেখিয়ে ছাড়বেন। এ জন্য তিনি ( রাশিদা) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাপ পারছেন বলেও সিএএবির অনেককে আলোচনা করতে শোনা যায়।
সূত্রমতে, চারটি কারন দর্শানো নোটিশ, কৈফিয়ত তলব এবং সর্বশেষ তাকে বদলির সুপারিশের পরও কিভাবে তিনি ( সিএসও) বিমানবন্দরে বহাল ? তার ফাইল পর্যন্ত পটুআপ দিচ্ছে না সিএএবির প্রশাসন বিভাগ।
তার বদলির সুপারিশের দাপ্তরিক চিঠিতে পরিচালক শাহজালাল লিখেছেন ‘তিনি ইদানিং অত্যন্ত বেপরোয়া এবং ওদ্ধত্য আচরন শুরু করেছেন। বিগত কয়েকদিন যাবত তিনি ওয়াকিটকির মাধ্যমে নিরাপত্তা কর্মীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ও অশোভন বাক্যালাপ করছেন, যা বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের সামিল। ’
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
