স্টাফ রিপোর্ট: থার্ড টার্মিনাল বদলে দেবে না ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। টার্মিনালটি চালু হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়বে আড়াই গুণ, বাড়বে উড়োজাহাজ ওঠানামাও। বাড়তি ফ্লাইটের চাপ সামাল দিতে আরেকটি বিকল্প স্বতন্দ্র রানওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত থাকলেও সেটি থেকে সরে এসেছে সরকার। অন্যদিকে ২০২৭ সাল নাগাদ বিদ্যমান রানওয়ের বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন হবে। সংস্কারকালে ব্যাহত হবে নিরবচ্ছিন্ন ফ্লাইট কার্যক্রম। এ অবস্থায় তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ২১ হাজার কোটি টাকা খরচ করেও এর সুফল পাবে না জনগণ। এর ব্যয নিয়ে দুর্ীতির শ্তেপত্র প্রকাশেরও দাবি ওঠছে। বিমান উপদেষ্টা নিজেও দুর্ীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা ভাবছেন। ব্যয় বাড়ছে কমিশন বাণিজ্র পেট ভরছে ার্র সাথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্কর্াদের। সব দুর্ীতির দায় পিডির ঘাড়ে চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। কলকাঠি নাড়ছে অর্ ও প্রশাসন বিভাগ। বেবিচকের অর্র বড় কর্া ঠিকাদারের পক্ষে ওকালতি করছেন বলেও শোনা যায়ি , এ যেন মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্ীতি।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) জরিপ বলেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিবছর ৮ শতাংশ হারে যাত্রী বাড়ছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করলেও তৃতীয় টার্মিনালটি চালুর পর বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে ২ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বাড়তি যাত্রী সামাল দিতে প্রয়োজন হবে বাড়তি ফ্লাইটের। জাইকার জরিপে বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে প্রায় ২ লাখ উড়োজাহাজ ওঠানামার চাহিদা তৈরি হবে বিমানবন্দরটিতে। যদিও বিদ্যমান রানওয়ে দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭০ হাজার উড়োজাহাজ ওঠানামা করা সম্ভব।
ভবিষ্যতে বাড়তি ফ্লাইটের চাপ সামাল দেওয়ার কথা মাথায় রেখে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে জমিস্বল্পতার কারণে আরেকটি স্বাধীন রানওয়ে নির্মাণ করার সুযোগ না থাকায় সিদ্ধান্ত ছিল ডিপেনডেন্ট রানওয়ের। তবে এখন সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন রানওয়ে নির্মাণ না করে স্মার্ট এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এটিএম) এবং উন্নত ‘স্লট ম্যানেজমেন্টের’ মাধ্যমে বিদ্যমান রানওয়ে থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতা আদায় করতে চায় বর্তমান সরকার।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বিদ্যমান রানওয়ের পূর্ণ ব্যবহার করতে এটিএম ও স্লট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উন্নত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কারণ সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু ব্যবস্থাপনা উন্নত করেই বিদ্যমান রানওয়ে দিয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যাত্রী চাহিদা মেটানো সম্ভব।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ৩৬টি বিদেশি কমার্শিয়াল এয়ারলাইনস, আটটি কার্গো এয়ারলাইনস, চারটি দেশীয় এয়ারলাইনস এবং হেলিকপ্টারসহ ১৩টি এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিমানবন্দরের ১ এবং ২ নম্বর টার্মিনাল সর্বশেষ ২০২৩ সালে ৯৫ লাখ যাত্রী হ্যান্ডেল করেছে। নতুন টার্মিনাল অর্থাৎ তৃতীয় টার্মিনালের ফলে যাত্রী হ্যান্ডেলের সক্ষমতা ২ কোটিতে গিয়ে ঠেকবে। এ ছাড়াও কার্গো সক্ষমতা ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ টন হবে।
শাহজালালের বিদ্যমান রানওয়েটি ৩ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ। কিছু বড় উড়োজাহাজ ছাড়া প্রায় সব ধরনের উড়োজাহাজই ওঠানামা করতে পারে বর্তমান রানওয়েতে। আবার রানওয়ে ৪৬ মিটার প্রশস্ত হওয়ায় ‘কোড এফ’ (বোয়িং ৭৪৭-৮/ এয়ারবাস এ-৩৮০-৮০০-এর মতো উড়োজাহাজ) ছাড়া সব ধরনের উড়োজাহাজ নির্বিঘ্নে ওঠানামা করতে পারে।
২০২৬ সালের পরই শেষ হচ্ছে বিদ্যমান রানওয়ের আয়ুষ্কাল। এরপরই নিরাপদ উড্ডয়নের জন্য বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর পর রানওয়ের বড় ধরনের সংস্কার করতে হয়। এ ধরনের সংস্কারে বিদ্যমান রানওয়ের ওপর ২০ সেন্টিমিটার এসফল্ট কংক্রিট আস্তরণ দেওয়া হয়। মূলত রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধির জন্য এসফল্ট কংক্রিটের আস্তরণ দেওয়া হয়। মেরামতের কাজ শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। এ সময় ব্যাহত হয় নিরবচ্ছিন্ন ফ্লাইট কার্যক্রম।
জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে চালু হয় ১৯৮০ সালে। ১৯৯৬ সালে প্রথম দফায় শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়ের মেরামতের কাজ করা হয়। সে সময় রানওয়েতে ২০ সেন্টিমিটার এসফল্ট কংক্রিটের আস্তরণ দেওয়া হয়। ১০ বছরমেয়াদি এ মেরামতের আয়ু শেষ হয় ২০০৬ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় মেরামতের উদ্যোগ না থাকায় রানওয়ে সার্ফেসে লম্বালম্বি ও আড়াআড়িভাবে ফাটলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে আয়ুষ্কাল পার হওয়ার পাঁচ বছর পর ২০১৩ সালে আরেক দফায় রানওয়েটি মেরামত করা হয়।
বেবিচক সূত্র বলছে, শাহজালাল বিমানবন্দরে বাড়তি ফ্লাইটের চাপ সামাল দিতে আরেকটি বিকল্প রানওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। নতুন রানওয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও করেছিল বেবিচক। তবে জায়গার-সংকট থাকায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল ডিপেনডেন্ট রানওয়ে নির্মাণের। কারণ, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী, পাশাপাশি দুটি রানওয়ের মধ্যে অন্তত ৭৫০ ফুট দূরত্ব থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরে রানওয়ে একটি হওয়ায় প্রায় পিক আওয়ারে একই সময়ে একাধিক ফ্লাইট থাকলে টেকঅফের জন্য উড়োজাহাজগুলোকে সিরিয়াল ধরে অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি না পেলে আকাশে গো-অ্যারাউন্ড করতে হয়। এতে এয়ারলাইনসগুলোর জ্বালানি খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখতেও বেগ পেতে হয়। আর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর ফ্লাইট কার্যক্রম বাড়ছে, এ সংকট আরও বাড়বে।
