শাহজালাল বিমানবন্দরের বিভিন্ন বিঙাপনি সংস্থা ও লাউন্ঞগুলো আওয়ামী দোসরদের নামে বরাদ্দ বাতিল না করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুনরায় নবায়ন, শমী কায়সারের ধানসিড়ি, নায়ক মাহফুজের নকসিকাথাও বাদ যায়নি!

স্টাফ রিপোর্টার : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিঙাপনি সংস্থা লাউন্ঞগুলো আওয়ামী দোসরদের প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বিঙাপনি সংস্থা ও লাউন্ঞগুলো নামকাওয়াস্তা টাকায় বেবিচক থেকে আওয়ামী দোসররা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চড়া দামে ভাড়া দিয়েছে। এরমধ্যে আওয়ামী দোসর সদ্য ই-ক্যাব থেকে পদত্যাগি শমী কায়সার মাত্র ৬০ লাখ টাকায় শাহজালালে একটি লাউন্ঞ ভাড়া নিয়ে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় একটি ব্যাংককে ভাড়া দিয়েছে। শমী কায়সারের মাসে নীট ইনকাম হচ্ছে ২ কোটি টাকা। শমী কায়সারের এই প্রতিষ্ঠানের নাম  ধানসিড়ি। এই প্রতিষ্ঠানটি সদ্য সাবেক সদস্য অসপ-এর নেকনজড়ে বরাদ্দ বাতিল না করে পুনরায় নবায়ন করা হয়েছে।এটা করা হয়েছে এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত মাসের ১৪ তারিখে।এ নিয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও বেবিচক কর্তৃপক্ষ ‘কম্ভুকর্ন’।
জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের মেয়ের জামাই নায়ক মাহফুজের নকসি কাথা প্রতিষ্ঠানের নামেও শাহজালালে একটি লাউন্ঞ বরাদ্দ দিয়েছে বেবিচক কর্তৃপক্ষ। এটিও বরাদ্দ বাতিল না করে নবায়ন করা হচ্ছে। সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ভাতিজা আওরঙের ইননোভা প্রতিষ্ঠানের নামে আরেকটি বিঙাপনি সংস্থা শাহজালালে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর কোনটাই বরাদ্দ বাতিল না করে একটার পর একটা নবায়ন করা হচ্ছে।
মেম্বার অপসের নামে এ ব্যাপারে কলকাঠি নাড়ছেন ডিডি সম্পত্তি সাধন কুমার মোহন্ত, কেরানি আলামিন, মিজানুর রহমান। এই ৩ সিন্ডিকেড মেম্বার অপসের নেকনজড়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে এসব লাউন্ঞ ও বিঙাপনি সংস্থাগুলো আওয়ামী দোসরদের প্রতিষ্ঠানের নামে পুন: নবায়ন করেছে।
থার্ড টামিনালেও প্রায় শতাধিক দোকানপাট লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বরাদ্দ নাটক করছে। সংশ্লিষ্ট দোকান প্রত্যাশিদের বলা হচ্ছে ৩ লাখ টাকা করে টাকা দিয়ে রাখেন যখন কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ দেবেন তখন পেয়ে যাবেন। এভাবে এই সাধন কুমার মোহন্ত থার্ড টার্মিনালে শতাধিক দোকান বরাদ্দ দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- যা তদন্ত করলে বের হবে।
জানা যায়, সম্পত্তি বিভাগের দুটি অংশ, একটি শাহজালাল বিমানবন্দর কেন্দ্রিক, এটা মেম্বার অপারেশনের অধীনে। আর বাইরের সম্পত্তি ইজারা, বরাদ্দ দেখভাল করেন মেম্বার এডমিন।
শাহজালাল বিমানবন্দরে আরো যে সব লাউন্ঞ ও বিঙাপনি সংস্থা গত সরকারের আমলে আওয়ামী দোসরদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো: ডালাস, এর মালিক আমিনুল ইসলাম,আলবেট, মালিক আমিনুল ইসলাম, হলোগ্রাম, মালিক মোহাম্মদ আলি, মোহাম্মদ এন্টারপ্রাইজ, মালিক ফজলে রাব্বি। এর চুক্তি এখনও নবায়ন হয়নি। এরোস, মালিক নাঈম, ইননোভা, মালিক সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ভাতিজা আওরঙ, কর্পোরেট সর্ভিসেস এজেন্সী, মালিক গোলাম কিবরিয়া।
শাহজালালে লাউন্ঞ ব্যবসায় আওয়ামী দোসরদের তালিকা: নকসি কাথা, মালিক সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদেরের মেয়ের জামাই নায়ক মাহফুজ। ধানসিড়ি, মালিক আওয়ামী দোসর শমী কায়সার। এদের সকলের প্রতিষ্ঠানের নামে বেবিচক কর্তৃক বরাদ্দ বাতিল করার দাবি করছে সিএএবির কর্মচারীরা।
এদিকে বেবিচক এক ঠিকাদার জানান, সাংবাদিক কোটায় বহিরাগতদের নামে বেবিচক সদর দপ্তরে একটি রেস্টুরেন্ট নামকাওয়াস্ত ভাড়ায় বরাদ্দ দিয়েছে বেবিচক কর্তৃপক্ষ, এর ডেকোরেশন খরচ প্রায় কোটি টাকা, মাসে বিদ্যুত বিল আসে ৫০ হাজার টাকার মতো, এই রেস্টরেন্টের ভাড়া মাত্র ৫ হাজার টাকা। এর সাথে নাকি সাবেক চেয়ারম্যানের আত্মীয় সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।
এ ছাড়াও শাহজালাল বিমানবন্দরে ‘কনক’ নামে একটি রেস্টুরেন্টও সাংবাদিক কোটায় বহিরাগতদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া শাহজালালে কার পার্কিংও সাংবাদিক কোটায় বহিরাগতদের নামে ইজারা দেয়া হয়েছে। শাহজালালে কয়েকটি দোকানপাটও নাকি সাংবাদিকদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এগুলোর বরাদ্দ বাতিল না করে পুন পুন নবায়ন করা হচ্ছে। থার্ড টার্মিনালেও সাংবাদিক কোটায় রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেয়ার পায়তারা করা হচ্ছে বলে জানা যায়। প্রশ্ন ওঠেছে বেবিচকে কি সাংবাদিক কোটায় ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম রয়েছে।