বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ( সিএএবি)তে ইজিপিতে কে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে- ইজিপি কর্তৃপক্ষ না সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ তার অধীনস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী। এটা আজ সিএএবিতে প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়ার জন্য ইজিপি পদ্বতিতে টেন্ডার হওয়ার পরও আবার পুন টেন্ডার আহবান করার পায়তারা করা হচ্ছে। এতে সিভিল এভিয়েশনের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হলেও প্রধান প্রকৌশলীর কোন দায়দায়িত্ব নেই বলে ঠিকাদারদের ভাষ্য।
সূত্রে জানা গেছে, সিএএবির ই/এম ( ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ম্যাকানিক্যাল) ৯০ লাখ টাকার একটি ঠিকাদারি কাজের ইজিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার সম্পন্ন হওয়া সর্বনিম্ম দরদাতার চেয়ে সর্বোচ্চ দরদাতার দরের ব্যবধান প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। যার টেন্ডার আইডি নং-১১২৪১১। টেন্ডার হয় ৩১-০৮-২০১৭ তারিখে। টেন্ডার সিডিউলে যে সব শর্ত চাওয়া হয়েছে তার সবই মেনে সিএএবির তালিকাভুক্ত তিনজন ঠিকাদার টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। বাইরের সংস্থার কোন ঠিকাদার এতে অংশ নেয়নি। অথচ টেন্ডার হয় ইজিপি পদ্ধতিতেই। টেন্ডারটি কি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তা না হলে বাইরের সংস্থার কোন ঠিকাদার কেন এই টেনন্ডারটিতে অংশ নিতে পারলো না। টেন্ডারে সর্বনি¤œ দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করছে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ক্ষেত্রে টেন্ডারে কাগজপত্র সর্ট থাকা অর্থাৎ টেন্ডারে যে সব কাগজপত্রাদি চাওয়া হয়েছে তা জমা না দিয়ে সর্বনিম্ম দরদাতা টেন্ডারে অংশ নিয়েছে বলে বাহানা করা হচ্ছে। তাই সর্বনি¤œ দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে পুন টেন্ডার করার কথা বলা হচ্ছ্।ে এ ক্ষেত্রে সর্বনি¤œ দরদাতার বক্তব্য হচ্ছে টেন্ডারের সিডিউলে যে সব শর্ত চাওয়া হয়েছে তার সব সরবরাহ করেই আমরা টেন্ডারে অংশ নিয়েছি। বরং টেন্ডার সিডিউল শর্ত অনুসারে আমরা ইতালি থেকে পন্য সরবরাহ করবো আর সর্বোচ্চ দরদাতা ইংল্যান্ড থেকে পন্য সরবরাহ করবে বলে অফার দিয়েছে।
টেন্ডারটি শেষ পর্যন্ত পুন টেন্ডার আহবান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, শাহজালারা বিমানবন্দরের রানওয়ের লাইটিং সরবরাহকরন ইএম বিভাগের আরেকটি টেন্ডার ইজিপিতে সম্পন্ন হওয়ার পরও সর্ব নিম্ম দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। এ টেন্ডারেও সর্ব নিম্ম দরদাতার দরের চেয়ে সর্বোচ্চ দরদাতার দরের পার্থক্য ৮৬ লাখ টাকা। এ টেন্ডারটিও নিয়ন্ত্রণ করায় বাইরের সংস্থার কোন ঠিকাদার অংশ নিতে পারেনি।
সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ দরদাতাদ্বয়ের সাথে ইএম বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার মুর্শেদ সিদ্দিকীর ( চলতি দায়িত্ব) বিশেষ সম্পর্ক থাকা এবং মোটা অংকের উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ ওঠছে। আর সে জন্যই কৌশলে সর্বনি¤œ দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে কাজটির পুন টেন্ডার করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ইজিপি পদ্ধতিতে ৫০ হাজার থেকে ১ কোটি টাকার টেন্ডারের কার্যাদেশ দেয়ার ক্ষমতা প্রধান প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর। আর ১ কোটি টাকার ওপরের টেন্ডারের কার্যাদেশ দেয়ার ক্ষমতা সিএএবির চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ততা¡বধায়ক প্রকৌশলীর।
সূত্র জানায়, টেন্ডার আইডি নং-১১২৪১১ তে টেন্ডারে অংশ নেয়া সর্বোচ্চ দরদাতা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জনৈক পিরুর সাথে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিশেষ সম্পর্ক থাকার কারণে এবং মোটা অংকের টাকার উৎকোচ লেনদেনের কারণে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার পায়তারা করেও সাসকেস না হতে পেরে কাজটির পুন টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার মুর্শেদ সিদ্দিকীর সাথে তার সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান , টেন্ডার এমপিও নিয়ন্ত্রণ করে ততা¡বধায়ক প্রকৌশলী। আপনি ওনার সাথে কথা বলুন।
তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুর মালেক জানান, ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ কোটি টাকার টেন্ডার কার্যাদেশ দেয়ার দায়িত্ব প্রধান ও নির্বাহী প্রকৌশলীর। কাজটা যেহেতু কোটি টাকার নীচে, কাজেই এ কাজের কার্যাদেশ দেয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর। আমার দায়িত্ব হলো ১ কোটি টাকার ওপরের কাজের কার্যাদেশ দেয়া।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
