সেমসুতে ট্রলি কেনাকাটায় দুর্নীতি : ভান্ডার থেকে টেন্ডার কল করা হয় : দায়িত্বে সাবেক ডিডি, বর্তমানে পরিচালক করিম  মোল্লা : টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিতে ছিলেন সা্বেক প্রেসিডেন্ট মরহুম জিল্লুর রহমানের আত্মীয়,  সাবেক মেম্বার অপস, সহকারি প্রকৌশলী ইএম :  বেবিচকে দ্বিগুণ মূল্যে ট্রলি ক্রয়, তদন্তে মাঠে দুদক, কাগজপত্র জব্দ

একুশে বার্তা রিপোর্ট : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মালামাল কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ২৬.০২.২০২৫ তারিখ  বুধবার একটি অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে ১৬০ ডলারের লাগেজ ট্রলি ৩৭০ ডলারে কেনার অভিযোগসহ অন্যান্য বিষয়ে দরপত্র সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

খোজখবর নিয়ে জানা যায়, সাবেক ডিডি ভান্ডার, বর্তমানে পরিচালক করিম মোল্লার ভান্ডার থেকে টেন্ডার আহবান করা হয়। সাথে সংশ্লিষ্ট সাবেক চেয়ারম্যান-এর ভায়রা ভাই রানা। টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিতে ছিলেন বেবিচকের সাবেক মেম্বার অপস, সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম জিল্লুর রহমানের আত্মীয় এএফএম আতিকুজ্জামান এবং সহকারি প্রকৌশলী  ইএম এনামুল কবীর।

Advertisement: 0:28

সূত্র জানিয়েছে, দেশের চারটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য এক হাজার হেভি লাগেজ ট্রলি ক্রয়ের জন্য রে ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এসব ট্রলির মূল্য ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। চীনে তৈরি একটি ট্রলির বাজার মূল্য যেখানে ১৬০ ডলার, সেখানে একই মানের সেই ট্রলি ৩৭০ ডলারে কেনা হয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের ট্রলি ক্রয়ে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এতে এমন শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছিল, যাতে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানই দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে। সেই প্রতিষ্ঠানটি যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, সেই দামে ট্রলিগুলো ক্রয় করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী দুদক সহকারী পরিচালক নাহিদ ইমরান জানিয়েছেন, আমরা জানতে চেয়েছিলাম, কেন অন্যান্য কোম্পানিকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। দুদক আরও জানিয়েছে, ট্রলি ক্রয়ের বাজারদর

যাচাই, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি, অনুমোদনের কপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে শিগগিরই কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।