ডেক্স প্রতিবেদন : পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সময়ে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়তে হয় সাংবাদিকদের। হত্যা, নির্যাতন ও হামলা-মামলার শিকার হতে হয় তাঁদের। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে সারা বিশ্বে নিহত হয়েছেন ৬৫ জন গণমাধ্যমকর্মী। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন পেশাদার প্রতিবেদক। নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে ৩৯ জন খুন হয়েছেন। অন্যরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিহত হন।
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে সাংবাদিক হত্যা কমলেও এখনো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৪ বছরের মধ্যে এবারই বিশ্বে সবচেয়ে কম প্রতিবেদক নিহত হয়েছেন। সহিংস এলাকা এড়িয়ে চলা, উন্নত প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় অতি সচেতনভাবে তথ্য সংগ্রহ করার কারণে সাংবাদিক নিহত হওয়ার সংখ্যা এবার কমেছে। আগের দুই বছর ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে বিশ্বে সাংবাদিক নিহত হওয়ার সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১১০ ও ৭৪ জন।
আরএসএফ বলছে, বিশ্বে সাংবাদিক হত্যা কমলেও তাঁদের জন্য এখনো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। এ বছর দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ১২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এরপরই আছে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো। দেশটিতে প্রাণ গেছে ১১ জন সংবাদকর্মীর। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় মেক্সিকোর সাংবাদিকেরা মারাত্মক হুমকির মধ্য দিয়ে কাজ করেন। এ ছাড়া রাজনীতিতে দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন করায় দেশটিতে সাংবাদিকদের ঝুঁকি বাড়ছে। মাদকবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক মেক্সিকোর বিখ্যাত সাংবাদিক জেভিয়ার ভালদেজকে গত মে মাসে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া এএফপির একজন কন্ট্রিবিউটরকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ সিনালোয়ায় দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
আরএসএফের বরাত দিয়ে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ ফিলিপাইন। চলতি বছর কমপক্ষে পাঁচজন সাংবাদিককে গুলি করা হয়, যাঁদের চারজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে চীন (৫২), তুরস্ক (৪২), সিরিয়া (২৪), ইরান (২৩) ও ভিয়েতনাম (১৯)।
