বিশেষ সংবাদদাতা : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এবিআরের) আদেশে ১১৬জন যুগ্ম কমিশনারের বদলির তালিকায় ঢাকা কাস্টমস হাউজে কর্মরত যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর রহমানকেও বদলি করা হয়। কিন্ত বদলির পর রহস্যজনক কারনে ১১৬ জনের মধ্য থেকে কয়েকজনের বদলি রদবদল করে আবার আরেকটি বদলির সার্কুলার জারি করে এনবিআর। সেই নতুন সার্কুলারে ঢাকা কাস্টমস হাউজের জেসি মাহবুব ঢাকা কাস্টমস হাউজেই থেকে যান। তার বিরুদ্ধে একজন এআরও এবং একজন পিয়নকে মারধরের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। গোয়েন্দা তদন্তে জেসি মাহবুবের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউজ সূত্রে জানা গেছে, জেসি মাহবুবের বদলি ঠেকানোর পর তাকে ঢাকা কাস্টমস হাউজে তার মূল দায়িত্বে পাশাপাশি আরো অতিরিক্ত ১৫ টি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন ওঠেছে তিনিই কি তাহলে ঢাকা কাস্টমস হাউজের কমিশনার? আর কি কোন যোগ্য কর্মকর্তা নেই যাদেরকে ২/১টি করে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারতো?
সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে জব্দকৃত বিভিন্ন পণ্য এডজুডিকেশনের নামে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। কাস্টমস আ্ইনে এডজুডিকেশনের পর পণ্য ছাড় করার নিয়ম থাকলেও নানা অজুহাতে মাসের পর মাস পণ্য আটকে দেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ তুলছেন। এই প্রক্রিয়ার সাথে জেসি মাহবুবের নাম ভাংগিয়ে যুক্ত হয়েছেন বিচার শাখার কেরানি হাবিবুল ইসলাম এবং বিমানবন্দরের মূল্যবান গুদাম রক্ষক- যিনি নিজেকে একজন সৎ অফিসার বলে দাবি করেন সেই বিমানবন্দরের ট্রানজিট গুদামের দায়িত্বে নিয়োজিত সাকিল জাহিদুর রহমান।
ইতিপুর্বে বিমানবন্দর ট্রানজিট গুদাম থেকে ১০ কেজি সোনা পাচারের দায়ে এআরও মুজিবুর রহমান সরকার এবং সহকারি কমিশনার (এসি) সাল্হা উদ্দিন রিপন চাকরিচ্যুতও হয়েছেন। কিন্ত সৎ কর্মকর্তা বলে নিজকে জাহির করা এআরও সাকিল এসব প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করে মাঠে নেমেছেন বলে তিনি নিজেই তা স্বীকার করেছেন। আলাপচারিতায় তিনি জানান, এখনকার এআরও/ইন্সপেক্টর আর আগের সময়ের এআরও/ইন্সপেক্টর আসমান-জমিন পার্থক্য। বিবিএস দিয়ে পিএসসির মাধ্যমে কাস্টমসে জয়েন করেছি, কর্তৃপক্ষ ভাল জানে বলে প্রথমেই প্রিভেনটিভে পোস্টিং দেয় এরপর শাহজালালে ট্রানজিট গুদাম রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আগের গুদামরক্ষকরা বুড়োধুড়ো ছিল, আমরা ইয়াং।
একাধিক যাত্রী যাদের পণ্য ডিএম করা হয়েছে ৩ মাস আগে- তাদের পণ্যের ব্রান্ড নম্বর ডিএম কপিতে না লিখে তা কৌশলে গুদাম থেকে পাচার করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। গুদামে পুরনো মোবাইল ও জাল ডলার এবং আসল সোনা সরিয়ে নকল সোনা ঢুকিয়ে তা বাইরে পাচার করে দেয়াার বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে।
একজন ব্যবসায়ির ১৩টি দামি মোবাইল জব্দ করার পর ডিএম মূল কপিতে মোবাইল ব্রান্ড নম্বর না লিখে তা গোডাউন জমা করা হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী বিচারাদেশ পেয়ে মোবাইল নিতে গেলে ব্রান্ডনম্বর না থাকায় তিনি তা পাচ্ছে না বলে জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মোবাইলের ব্রান্ড নম্বর কৌশলে ডিএম কপিতে না লিখে তা গায়েব করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কমিশনার বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে বলে ওই ব্যবসায়ি জানান।
এ দিকে ১২ ব্যবসায়ির ২৩৪ গ্রাম স্বর্নবার ডিএম করার পর গত ২৬ জুন তা ছাড়করনের জন্য ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ বিচারাদেশ দেন। বিচারাদেশ নম্বর-২৭০/কাস/২০১৮। ওই বিচারাদেশ অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা সোনালি ব্যাংক ঢাকা কাস্টমস হাউজ শাখায় গত ২৮ জুন ৫ লাখ ৬০ হাজার ১৮৭ টাকা জমা দেন- যার স্ক্রল নম্বর-১৪৭ । কিন্ত গত ৩ মাসেও ওই ২৩৪ গ্রাম স্বর্নবার ছাড়করন না করে ওই ব্যবসায়ীদের আজ না কাল কাল না পরশু সর্বশেষ ঈদের পর আসুন বলে কালক্ষেপণ করছেন বলে ব্যবসায়িরা জানান।
এ ব্যাপারে গুদামরক্ষক এআরও সাকিল জাহিদুর রহমান জানান, ১/২টা বিচারাদেশ নিয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে যাই না , ১০/১২টা বিচারাদেশ জমলে তা নিয়ে আমরা বিবিতে যাই এবং স্বর্ন এনে পার্টিকে বুঝিয়ে দেই।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
