একুশে বার্তা রিপোর্ট : কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারির ১১ দিনের মাথায় সেই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন শুক্রবার গণমাধ্যমে বলেছেন, “এ বিষয়ে একটা দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
গত ১৩ অক্টোবর কক্সবাজারকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিদেশি পর্যটক টানতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১ সালে। ওই প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরটির রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৭৭৫ থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ফুট করা হয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর বিগত আমলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও কক্সবাজার বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজ থেমে থাকেনি। গত মার্চে এ বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে যান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
এরপর বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনসহ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্তা-ব্যক্তিরাও একাধিকবার নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে সেখানে গেছেন। কারিগারি পরিদর্শনে বিদেশ গিয়ে সরকারের অনেক টাকা খরচ করা হয়। অডিটের ডিডি শাহিনাকেও ফেটে নিয়ে যাওয়া হয়। অথচ কারিগরি পরিদর্শনের সাথে ডিডি অডিট শাহিনার কোন সংশ্লিষ্টতা/দক্ষতা নেই। তাহলে কেন তাকে ফেটে নিয়ে হয়েছিল?
বেবিচক চেয়ারম্যান মনজুর কবীর ভুইয়া যখন এ বিমানবন্দরে মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন ঠিক সেই মূহুর্তে তাকে বেবিচক থেকে অপসারণ করে প্রঙাপন জারি করা হয়।
এ বিমানবন্দরের পিডি ইউনুস ভুইয়া দুই বউসহ দুদকের মামলার আসামি।
এ বিমানবন্দরে ফায়ারের জন্য রোজেনবাওয়ার কেনার টেন্ডার বাতিল করে নিম্নমানের গাড়ি কেনার পুন: টেন্ডার করা হয়। প্রথম দরপত্রে এ্যারোনেস নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও এবং রোজেনবাওয়ার গাড়ি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় হঠাৎ করে টেন্ডার বাতিল করা হয়। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে নিম্নমানের ফায়ার নির্বাপনের গাড়ি সরবরাহের ষোলকলা পূর্ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কলকাঠি নাড়েন বেবিচকের একজন প্রভাবশালি আওয়ামী দোসর সদস্য।
দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অগ্নি নির্বাপনের গাড়ি এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মী বাহিনী অলস সময় কাটায়, আগুন লাগলে চেয়ে দেখে , আগুন নেভাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে না। শাহজালালের আগুনের ঘটনায় রোজেনবাওয়ার গাড়ি এবং এর কর্মী বাহিনী আগুন নেভাতে কোন কার্যকর ভূমিকা রাখেনি বলে কথা ওঠেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরটিকে ‘আন্তর্জাতিক’ স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপক তোড়জোড় থাকলেও সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালানোর তেমন আগ্রহ দেখায়নি এয়ারলাইনগুলো।
চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি গন্তব্যের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চললেও কক্সবাজার থেকে এ ধরনের ফ্লাইট চালানো এয়ারলাইনগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মনে করছে না।
বেসরকারি এয়ারলাইনগুলো আগ্রহ না দেখালেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চলতি মাস থেকেই কক্সবাজার থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতা ফ্লাইট চালানোর কথা ছিল। তবে সেই ফ্লাইট ওড়ার আগেই ‘আন্তর্জাতিক’ মর্যাদা হারাল কক্সবাজার।
