বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১০:০১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
দুর্নীতিবাজ রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল এখনও ঢাকা কাস্টমস হাউসে বহাল, এক্সপোর্টে ডিউটি, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও দুদকের মামলা, চার্জশাটে বাচানোর গোপন সমঝোতা

একুশে বার্তা রিপোর্ট : দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তা নজরুল এখনও ঢাকা কাস্টমস হাউজে বহাল। তাকে এক্সপোর্টে ডিউটি দেয়া হয়েছে। এখানে বসে দুর্নীতির ষোলকলা পূর্ন করছেন। এখানে বসে রপ্তানি পণ্যের আড়ালে মাদক পাচারসহ হুন্ডি পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে।মামলা হলেও তাকে দুদক গ্রেফতার করছে না। মামলা হলেও তাকে সাসপেন্ড করা হয়নি।মামলার চার্জশীট থেকে তার নাম ও স্ত্রীর নাম বাদ দিয়ে চার্জশীট দেয়ার গোপন সমঝোতা চলছে।

:কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সানজিদা আক্তারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় পৃথক দুইটি মামলা করেছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপ পরিচালক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে মামলা দুইটি করেছেন।
নজরুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা কাস্টম্স এক্সসাইজ ও ভ্যাট সুত্রাপুর সার্কেলে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি যশোর শহরে। তিনি ১৯৯৪ সালে কাস্টম্স এক্সসাইজ ও ভ্যাট যশোরের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে অফিস সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পেয়ে কাস্টমস, এক্মসাইজ ও ভ্যাট, যশোর অফিসে যোগদান করেন। তিনি ২০১২ সালে পরিদর্শক পদে চলতি দায়িত্ব লাভ করে বেনাপোলে কাস্টম হাউজে, খুলনা মোংলা কাস্টম হাউজ ও ঢাকা দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে রাজস্ব কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেয়ে রাজশাহী কাস্টমস, এক্মসাইজ ও ভ্যাট এবং সোনামসজিদ স্থল বন্দরে কর্মরত ছিলেন। নজরুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে সানজিদা আক্তারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। যিনি একজন গৃহিণী।

নজরুল ইসলাম ও সানজিদা আক্তারের বিরুদ্ধে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি হয়। এরপর ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বরে তারা সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সম্পদের বিবরণী যাচাই-বাছাই করে দুদকের কাছে উঠে আসে, নজুরুল ইসলামের নামে যশোর সদর ও অভয়নগর এলাকায় ১০টি দলিলের মাধ্যমে ১১৭.২৫ শতাংশ বাগান/ধানী জমি রয়েছে। যার দালিলিক মূল্য ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯৯২ টাকা। এছাড়া ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৪ লাখ ১১ হাজার ৯৯২ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দুদকের সম্পদ বিবরণ দাখিল করেন তিনি।

অন্যদিকে নজরুল ইসলামের স্ত্রী সানজিদা আক্তার ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, যশোরে একটি একতলা বাড়ি, একটি দোকান ও ৩টি দলিলমূলে যশোরে ক্রয়কৃত ৪৭.৫ শতক জমিসহ মোট ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ১৭৩ টাকার সম্পদের বিবরণ দাখিল করেন। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভয়ে দুদকে ১ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার ৪৯২ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ১৯ লাখ ২ হাজার ৬৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৬০ লাখ ৮৩ হাজার ১৬৫ টাকার সম্পদ থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

কিন্তু দুদকের যাচাই-বাছাইয়ে তাদের নামে ১ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার ৪৯২ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৬১ লাখ ১৯ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ২ কোটি ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া তাদের ঋণ ছিল ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৮ টাকা। সে হিসেবে তারা ৪২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন।

এছাড়া, দুদকের অনুসন্ধানে নজরুল ইসলামের মোট আয় পাওয়া যায় ৬১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬  টাকা। তার পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় ৩৩ লাখ ৭৪ হাজার ৮ টাকা। অপরদিকে তার স্ত্রী সানজিদা আক্তারের মোট আয় পাওয়া যায় ৬৯ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯৯ টাকা। একই সময়ে তার পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৩৬ হাজার ২৬ টাকা। দুজনের মোট আয় এককোটি ৪১ লাখ ৪ হাজার৭৬৫ টাকা। ব্যয় পাওয়া যায় ৫১ লাখ ১০ হাজার ৩৪ টাকা। ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদের মূল্য পাওয়া যায় ২ কোটি ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ টাকার। সে হিসেবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ পাওয়া য়ায় ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৮ টাকার অর্থাৎ এ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস খুঁজে পায়নি দুদক। সে কারণে রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সানজিদা আক্তারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় দুদক আইন ২০০৪ ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় পৃথক দুই মামলা করেছে।

 

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।