বেবিচক : প্রকৌশল বিভাগে ‘নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী’ পদে গ্রেড জটিলতার অবসান : মন্ত্রণালয়ের প্রঙাপন জারি: ১০ নির্বাহী প্রকৌশলী এখন নতুন গ্রেড-৫-এ উন্নীত : নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার মুর্শেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ভুয়া বেনামি চিঠি, গোয়েন্দা রিপোর্ট উবে গেছে : বন্ঞনার শিকার , ফিডার পদ পূর্ন , ইএম বিভাগ থেকে তাকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দিতে জটিলতা নেই, থার্ড টার্মিনালের পিডির জন্য প্রকৌশলী জাকারিয়ার নাম প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ- বেবিচকে প্রকৌশল বিভাগে ইএম এবং সিভিল ডিভিশন দুই বিভাগেই পুরনো গ্রেড-৬ এবং নতুন গ্রেড-৫ নিয়ে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটিলতা বিরাজ করছিল, এটা প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছিল, ডিপিসি বৈঠকেও এ নিয়ে আপত্তি ওঠেছে। যদিও পুরনো গ্রেড (গ্রেড-৬)-এ অনেকেই ইতিপূর্বে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।
এদের মধ্যে জাকারিয়া-বড়–য়ার ফিডার পদ পূর্ন হয়নি, প্রজেক্ট থেকে রাজস্ব খাতে নেয়ার সময় এদেরকে ভুতাপেক্ষ তারিখ অনুসরণ করে চাকরি স্থায়ী করা হয়নি, পদোন্নতিও প্রদান করা হয়নি। আবার সিভিল ডিভিশনের দুই এক্স, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীকে পুরনো গ্রেডে ( গ্রেড-৬) থেকে গ্রেড-৪-এ উন্নীত করে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। কিন্ত এবার এই গ্রেড জটিলতা নিয়ে কারো কারো নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি আটকে দেয়া হয়েছে।
এই গ্রেড জটিলতা নিরসনে বিমান মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই এই গ্রেড জটিলতা নিরসন করে ১০ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে গ্রেড-৫-এ উন্নীত করেছে। পুরনো অর্গনুগ্রামে এরা গ্রেড-৬-এ ছিল। এখন আর গ্রেড-৬ এবং গ্রেড-৫ নিয়ে আপত্তি ওঠবে না। গত ১২ ডিসেম্বর /২০২৪ তারিখে মন্ত্রণালয় এ গ্রেড জটিলতা নিরসন করে এক প্রঙাপন জারি করেছে। যার স্মারক নম্বরÑ৩০.০০.০০০.০১৩.২২.০০৯.২২-৭১ তারিখ: ১২-১২-২০২৪। এ প্রঙাপনে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারি সচিব জিনিয়া জিন্নাত।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে একুশে বার্তার অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ দিকে ইএম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার মুর্শেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বেনামি চিঠি, ভুয়া গোয়েন্দা রিপোর্ট বেবিচক চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসানের তদন্ত প্রতিবেদনের পর বুমেরাং হবার পরও তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে ৪ বছরের ওপরে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে, তাকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি। ইতিমধ্যেই তিনি যোগ্যতা অর্জন করেছেন , তিনি তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদ কোয়ালিফাই করেন, তাকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করা যেতে পারে।
আবার তত্বাবধায়ক প্রকৌশী জাকারিয়া প্রথম থেকেই থার্ড টার্মিনালের সাথে সম্পৃক্ত। একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে তিনি থার্ড টার্মিনালের ডিপিডির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাকে পিডি করার জন্য ইতিমধ্যেই বেবিচক থেকে মন্ত্রণালয়ে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাকে পিডি করা হলে ওই খালি পদে শাহরিয়ার মুর্শেদ সিদ্দিকীকে পদোন্নতি দিয়ে ওই পোস্টে বসিয়ে দেয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাদ দের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান। ফাইনাল রায় হবার আগেই তিনি পিআরএল-এ চলে যাবেন। তাকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দিতে আইনগত জটিলতা রয়েছে।
কাজেই ইএম বিভাগের একমাত্র নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার মুর্শেদ সিদ্দিকীকে সবদিক বিবেচনায় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া এখন সময়ের দাবি। ইএম বিভাগে এরপরের সিরিয়ালে যারা আছেন তাদের কেবলমাত্র গত ২৬ ডিসেম্বর/২৪ এসডি থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী করা হলো মাত্র। ৫ বছর পর তাদের ফিডার পদ পূর্ন হবে। এই ৫ বছর কি তাহলে শাহরিয়ার মুর্শেদ সিদ্দিকীকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে বসিয়ে রাখা হবে? নাকি তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে আপগ্রেড করা হবে?