বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১১:০৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর : কংক্রিটের স্ল্যাব বিক্রি করে ২ প্রকৌশলীর ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ : স্টোর থেকে পুরনো মালমাল বিক্রির অভিযোগ : তারেক-ইসমাইল সিন্ডিকেড বহাল : তারেককে বদলির পরও উর্ধতন এক কর্মকর্তা ও এক সাংবাদিকের তদবিরে বদলি ক্যানসেল : মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে বার বার সিএএবিকে দাপ্তরিক চিঠি, জবাব দিচ্ছে না সিএএবি কর্তৃপক্ষ

একুশে বার্তা রিপোর্ট : সিভিল এভিয়েশনে সিডি-১-এ কর্মরত  সহকারি প্রকৌশলী ইসমাইল- উপ-সহকারি প্রকৌশলী ( বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে সহকারি প্রকৌশলী) তারেক দীর্ঘদিন যাবত বহাল। ফলে এইজন মিলে সিন্ডিকেড গড়ে তুলেছে। এদেরকে সিডি-১ থেকে বদলি করা হয় না। এদের কাজের প্রাক্কলন বাণিজ্য জমজমাট। শতকরা ৫% টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঠিকাদারদের  কাজের প্রাক্কলন বা ইস্টিমেট দিয়ে থাকে। এই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে স্টোর থেকে পুরনো মালামাল ‍বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে। মন্ত্রণালয় থেকে সিএএবি কর্তৃপক্ষকে বার বার দাপ্তরিক চিঠি দেয়া হলেও এদের সমর্পকীয় তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিচ্ছে না সিএএবি কর্তৃপক্ষ। খুররম নামের এক ঠিকাদারকেই এই দুই প্রকৌশলী মিলে  ৬ কোটি টাকার ইস্টিমেট দিয়েছে বলে জানা যায়। এক সাংবাদিকের সাথে এদের সুসম্পর্ক। ওই সাংবাদিককে বর্তমান অর্থবছরে শাহজালালে বিমানবন্দরের  রানওয়েতে এপ্রোন এলাকায় ৪ কোটি টাকার ইস্টিমেট দিয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।এদের বিরুদ্ধে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে  ১২ কোটি টাকার কংক্রিট স্লাব  বিক্রি করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে।

এ নিয়ে ১৭ মে দৈনিক সমকালে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কংক্রিটের স্ল্যাব বিক্রি করে ১০-১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচককে চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

১৬ মে  বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে আবারও বেবিচককে চিঠি দিয়ে ওই ঘটনা তদন্ত করে ৩০ মের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন– জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তারেক আহমেদ ও সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. ইসমাইল।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অনুপ কুমার তালুকদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গত বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনালের প্রকল্প পরিচালক এম মাকসুদুল ইসলামের নির্দেশে জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তারেক আহমেদ ও সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. ইসমাইল গত ১৫ বছরের কংক্রিট স্ল্যাবের ভাঙা অংশগুলো ঠিকাদার অশ্রু ও মোমিনের সহযোগিতায় বিক্রি করে ১০-১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে গত ২৫ জুন মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগে জানানো হয়েছে, গত ৫ বছরে যদি বিমানবন্দরে ১ হাজার স্ল্যাব ভাঙা হয়ে থাকে তবে তার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি টাকা। এ ছাড়া সরকারি সম্পত্তি নিলামে বিক্রি না করে এগুলো গোপনে সরিয়ে বাইরে বিক্রি করা হয়েছে। স্ল্যাবগুলো প্রশাসন কেন নিলামের ব্যবস্থা নেয়নি– সে বিষয়ে অভিযোগকারী প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও বেবিচক থেকে অদ্যবধি কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বেবিচকের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে জিনিপত্র কেনা ও স্থাপনার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

এদের বিরুদ্ধে কাওলার হেলিপ্যাডে  কবরস্থানের পাশে একটি পুকুরে আংশিক মাটি ভরাট করে ঠিকাদারকে ২৫ কোটি টাকার বিল দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট  ঠিকাদার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বলেছেন আমরা শতভাগ কাজ করেছি। ওই ঠিকাদার পুকুরে মাটি ভরাট করার ভিডিও পাঠিয়েছেন- যা একুশে বার্তার অফিসে  জমা আছে। ভিডিওতে দেখা যায়  মাটি ভরাট কাজ পরিদর্শন করছেন সাবেক প্রধান প্রকৗশরীসহ সিএএবির কয়েকজন প্রকৌশলী।

থার্ড টার্মিনালের মাটি গেল কোথায়? শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমা্নবন্দরে থার্ড টার্মিনাল নির্মানকরণে মাটি সবারার জন্য  ২৫ কোটি টাকার বাজেট করা হয়। তবে থার্ড টামিনালের এ মাটি গেল কোথায়? –এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে শাহজালাল বিমানবন্দরের ওয়লফেয়ার সমিতির সেক্রেটারি শাহাদত থার্ড টার্মিনালের এ মাটি নিয়ে সিএএবি থেকে  লিজকৃত আশকোনা হজ ক্যাম্পের অপজিটে বহতল বিশিষ্ট নির্মাণাধীন মার্কেটে ফেলা হয়েছে। এতে শাহাদতের মার্কেটে মাটি ভরাটকরণ কাজও  হলো আবার সিএএবির ২৫ কোটি টাকার বিলও পেল। তবে ওই ২৫ কোটি  টাকা সিএএবির কতিপয়  প্রকৌশলী ও সিএএবির কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে –যা গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে।

 

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।