শিকদার গ্রুপের অনিয়ম ও দুর্নীতি-৫ : ভারত থেকে পুরনো এয়ারক্রাফট কেনার জন্য বিমান মন্ত্রনালয়ের ‘এনওসি’ : অল কালার ‘ডি’ নিরাপত্তা পাস ইস্যু এবং অননুমোদিতভাবে শাহজালালের ভিআইপি লাউন্ঞ ব্যবহার : ভিডিও ফুটেজ : গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে : গঠিত হয়নি তদন্ত কমিটি

বিশেষ সংবাদদাতা : শিকদার গ্রুপের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারাবাহিক প্রতিবেদনে এবার এয়ারক্রাফট কেনা ও বিমান মন্ত্রনালয়ের ‘এনওসি’ নিয়ে। এয়ারক্রাফট কেনার নামে জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ১ শ’ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে তা লুটপাট করার ফন্দিফকির করা হচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। একই প্রকল্প বার বার দেখিয়ে শিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রিত ন্যাশনাল ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়াত্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা হুন্ডি করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে বলে দুদক তদন্ত করে রিপোর্ট দিলেও এখনও মামলা করেনি দুদক। একই অভিযোগে হল মার্ক, ডেসটিনি ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিরুদ্বে দুদক মামলা করলেও শিকদার গ্রুপ এখনও ধরাছোয়ার বাইরে। শিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রিত ‘আর এন্ডআর’ এভিয়েশনের বাংলাদেশে দৃশ্যমান কোন এয়ারক্রাফট না থাকলেও সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট সেফটি বিভাগে কোন জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। উপপরিচালক প্রশান্তকে ‘শাš’Í করেই সব জায়েজ করে নিচ্ছে শিকদার গ্রুপ।
সূত্র জানায়, শিকদার গ্রুপের ৪/৫টি হেলিকপ্টার থাকলেও বালাদেশে ‘আরএন্ডআর’ এভিয়েশনের কোন এয়ারক্রাফট নেই। একটি এয়ারক্রাফট আমেরিকার হকার কোম্পানি থেকে ক্রয়ের পর তা ফ্লাই না করে আমেরিকায় মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট সেফটি বিভাগের উপরিচালক প্রশান্ত জানান। কিন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে আমেরিকায় ওই এয়ারক্রাফটটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, এবার ‘আরএন্ডআর’ এভিয়েশন ভারত থেকে একটি পুরনো এয়ারক্রাফট কেনার জন্য সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট সেফটি বিভাগে গত নভেম্বর মাসে আবেদন করে। কোন রকম যাচাইবাছাই বা তদন্ত না করে বা কারিগরি পরিদর্শন না করে সিএএবির ডিডি প্রশান্তকে ম্যানেজ করে ‘আরএন্ডআর’ এভিয়েশনকে ‘এনওসি’র বা অনাপত্তি পত্রের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গত ৪ ডিসেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের সহকারি সচিব মো. আব্দুর রশিদ শিকদার গ্রুপের ‘আরএন্ডআর’ এভিয়েশনকে অনাপত্তি বা ‘এনওসি’ পাওয়ার চুড়ান্ত ব্যবস্থা পত্রে স্বাক্ষর করেছেন।অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব মো. আব্দুর রশিদ স্বাক্ষরিত শিকদার গ্রুপের আরএন্ডআর এভিয়েশনকে এয়ারক্রঅফট কেনার জন্য ‘এনওসি’ পত্র দিয়েছেন- যার স্মারকনং-৩০-০১৪.০০৫.০০.০০.০০২/২০১০-৯০৯/১(৪) তারিখ- ৪-১২-১৭।
সূত্র জানায় , সিভিল এভিয়েশন তথা মন্ত্রণালয়ের এনওসির জন্য ভারত থেকে পুরনো এয়ারক্রাফটটি কেনার জন্য জনতা ব্যাংকের প্রায় ১ শ’ কোটি টাকার ঋণপত্র আটকে ছিল। এবার এনওসি পাওয়ার ফলে জনতা ব্যাংক আরএন্ডআর এভিয়েশনের নামে শত কোটি টাকা ঋণ বিতরন করছে। এই ঋণের টাকা পুরনো ওই এয়ারক্রাফট কেনার নামে লুটপাট করার পায়তারা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আরএন্ডআর এভিয়েশনের কোন কার্যক্রম শাহজালাল বিমানবন্দরে না থাকলেও এই এভিয়েশনটি শাহজালার বিমানবন্দরে অফিস ভাড়া নিয়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ৪/.৫টি অল কালারের ‘ডি’ নিরাপত্তা পাস দেয়া হয়েছে। এই অল কালারের ‘ডি’ নিরাপত্তা পাস ব্যবহার করে শিকদার গ্রুপের কর্নধারা বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় অবাধ প্রবেশ করে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। গত নভেম্বর মাসে শিকদার গ্রুপের কর্নধাররা অননুমোদিতভাবে শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউন্ঞ ব্যবহার করেছে -যা ভিডিও ফুটেজে ধারন করা হয়েছে। কিন্ত এরপর পরও সিভিল এভিয়েশন প্রশাসন শিকদারের গ্রুপের বিরুদ্বে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়নি। বাতিল করা হয়নি তাদের অলকালার ‘ডি’ নিরাপত্তা পাস। শিকদার গ্রুপ কিভাবে শাহজালালের ভিআইপি লাউন্ঞ অনুনোমোদিতভাবে ব্যবহার করছে – সে ব্যাপারেও গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটি ।
সূত্রে জানা গেছে, শিকদার গ্রুপের ‘আরএন্ডআর’ এভিয়েশন কর্মকর্তাদের শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রটোকল করে থাকে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মী লাভলীর ভাই আরেক নিরাপত্তা কর্মী আজাদ।
আরএন্ডআর এভিয়েশনের কর্মকর্তা তথা শিকদার গ্রুপের কর্মকর্তারা কিভাবে শাহজালালে ভিআইপি লাউন্ঞ ব্যবহার করছে এবং কিভাবে ৪/৫টি নিরাপত্তা ‘ডি’ পাস ব্যবহার করছে- তার কোন সদ-উত্তর দিতে পারেননি শাহজালালের ডিডি মোশাররফ হোসেন।
এ ব্যাপারে ডিডি মোশাররফ হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোজখবর নিয়ে ব্যবস্থা করা হবে।