বিশেষ সংবাদদাতা : বর্তমান দুদকের চেয়ারম্যান, সাবেক জন প্রশাসন সচিবের আদেশকে থোরাইকেয়ার করে ১৯৯৬ সালের বদলে ২০১০ সাল থেকে সিনিয়রটি দিয়ে ৪ মাসের মধ্যে আবার নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দিয়ে সরকারের ৩ কোটি টাকার লুটপাটের দুদকের তদন্তপূর্বক তলবি চিঠি সিভিল এভিয়েশনের প্রশাসন শাখা থেকে গায়েব গায়েব হয়েছে নাকি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে- তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। আবার এদের মধ্যে একজনকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
এ দিকে ১ বছর ৫ মাস পরও জবাবদিহিতায় আওতায় আনা হচ্ছে না সিএএবির ইএম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেন ( বর্তমানে তত্ববধায়ক প্রকৌশলী ) এবং নির্বাহী প্রকৌ্শলী সুভাশিষ বড়–য়াকে। ফলে দুর্নীতি করেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। এ কাতারে আছেন অরো ৪ প্রকৌশলী। এরা হলেন: সহকারি প্রকৌশলী আছালত হোসেন খান, শাহিনুর আলম, শফিকুল আলম , আয়েশা হক।
অন্য দিকে সরাসরি রাজস্ব খাতের প্রকৌশলীরা জুনিয়র হয়ে মানবতের জীবনযাপন করছেন। এদের মধ্যে কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেও সুবিচার না পেয়ে ক্ষোভে অনেকে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন।
আর যাদেরকে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশকে থোরাইকেয়ার করে সিনিয়রটি দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সুবিধা নিয়ে এদেরকে আগলে রেখেছেন। সিএএবির চেয়ারম্যানও এ ব্যাপারে নীরব। কারণ চেয়ারম্যান বরাবর বার বার সুবিচারের জন্য সংশ্লিষ্টরা আবেদন করলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। অনেক সময় দাপ্তরিক চিঠি চেয়ারম্যান সচিবালয় পর্যন্ত যাবার আগেই তা প্রশাসন থেকে গায়েব করে দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মূখ্য ভুমিকা পালন করে থাকেন ডিডি প্রশাসন। তার নিজের ফাইল থেকেও নাকি গোয়েন্দা রিপোর্ট গায়েব করে দেয়া হয়েছে।
সিভিল এভিয়েশনের দুই প্রকৌশলী জাকারিয়া হোসেন এবং সুভাশিষ বড়–য়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য গত ২ মে ২০১৯ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান স্বাক্ষরিত সিএএবির চেয়ারম্যান বরাবর এক দাপ্তরিক চিঠি পাঠনো হয়। পত্র প্রাপ্তির ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তপূর্বক একটি প্রতিবেদন চাওয়া হলেও গত ১ বছর ৫ মাস পরও তা চুড়ান্ত করা হয়নি। বরং চেয়ারম্যান দপ্তর পর্যন্ত পৌছার আগেই দুদকের এ তলবি চিঠি গায়েব করে দেয়া হয়েছে প্রশাসন বিভাগে থেকে- এমন কথা শোনা যাচ্ছে।
দুদক চেয়ারম্যান বরাবর ‘ ব্যাকডেটে প্রায় ১৫ বছর পূর্বের তারিখে চাকরি স্থায়ীকরণ/নিয়মিতকরণের তারিখ দেখিয়ে পদোন্নতি গ্রহণের মাধ্যমে সিভিল এভিয়েশনের প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া এবং সুভাশিষ বড়–য়ার সরকারি কোষাগার হতে অবৈধভাবে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাত’ শিরোনামে বিষয়ের দুদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করার পর দুদক তা আমলে নিয়ে তদন্ত করতে সিএএবি চেয়ারম্যান বরাবর তলবি চিঠি জারি করে। কিন্ত সিএএবির প্রশাসন থেকে তা গায়েব হয়ে যায়। দুদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগের চিঠিতে বলা হয়েছে- ‘দুই প্রকৌশলীকে ১৯৯৬ সাল থেকে সিনিয়রটি দেয়া হয় সিএএবি প্রশাসনকে ১ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে, ৭ বছরের অভিঙ্ঞতা ছাড়াই মাত্র ৪ মাসের মধ্যে তাদেরকে আবার পদোন্নতি দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী করা হয়।’
