বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১০:৫১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
এনবিআর যেন মতিউরদের ঘাঁটি: দ্বিতীয় শ্রেণীর সাবেক কর্মকর্তা হেলাল এখনও ধরাছোয়ার বাইরে, গুলশানের নিকেতনে ২৫ কোটি টাকার বাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে একাধিক গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ফোরাম এফবিসিসিআই, মেট্রোপলিটন চেম্বার, ঢাকা চেম্বার, পোশাক খাতের বিজিএমইএ-বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন চেম্বার ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিতই এনবিআর কর্মকর্তাদের হয়রাণি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ও প্রতিবাদ করেছেন। করদাতাদের বিভিন্ন কৌশলে হয়রানি করে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আছে। এমনকি সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক অনুষ্ঠানে নিজে ব্যবসায়ী হিসেবে এনবিআর থেকে সেবা নিতে গিয়ে নানামুখী বিপাকে পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যনকে। কিন্তু কাজের কাজ বা প্রতিকার নেই। দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

‘ছাগলকাণ্ডের’ ড. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি করে শত শত কোটি টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ‘সম্পদের পাহাড়’ গড়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। এসব খবর সামনে আসায় তাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরানো হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ থেকেও। ড. মতিউরকে নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে তখন এনবিআরের প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের দুর্নীতির খবর সামনে আসে। দুজনের বিরুদ্ধেই ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক অনুসন্ধানেই তাদের শত শত কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও এনবিআর’র ডজন খানেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ উঠে আসছে গণমাধ্যমে।

অবশ্য এনবিআর কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানির বিষয়ে ব্যবসায়ী মহল থেকে বিভিন্ন সময়ে কথাবার্তা হলেও ছাগলকাণ্ডের আগে এ বিষয়ে জোড়ালো কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। গত ৯ জুন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, ১০ টাকা ভ্যাট আদায়ের আড়ালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৯০ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। এনবিআরকে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। এর কয়েকদিন আগে গত ২৩ মে এক অনুষ্ঠানে সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, কর আদায়ের নামে হয়রানি করছে এনবিআর। হয়রানি বন্ধে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া অটোমেশন করার তাগিদ দেন তিনি।

চলতি বছরের জুনের শুরুতে অনুষ্ঠিত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) এক সভায় কাস্টমসের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তোলেন সংগঠনের সভাপতি এস এম মান্নান কচি। তিনি বলেন, কাস্টমসের অনেক কর্মকর্তা আমদানি-রফতানিকে বাধাগ্রস্ত করছে, উদ্যোক্তাদের হয়রানি করছে। এসব কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমসের হয়রানির বিষয়টি মন্ত্রিসভায় তোলা হবে বলে জানিয়েছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। এর আগে ২০১৫ সালে এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ ওই সময়ের এনবিআর চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বলেছিলেন, ১ টাকা কর দিতে গিয়ে ৩ টাকার হয়রানি হতে হয়।
অবশ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি এক সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অনিয়ম-দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন। এর পর কেটে গেছে সাড়ে তিন বছর। এরমধ্যে একাধিকবার তিনি এরকম হুশিয়ারি দিয়েছেন কিন্তু এখনও রাজস্ব কর্মকর্তা বা কর্মচারিরা অনিয়ম-দুর্নীতির শাস্তির তেমন উদাহরণ আসেনি। যদিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের গোয়েন্দা শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ভালোমন্দ সব জায়গায় আছে। মতিউর রহমানের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসায় ঢালাওভাবে অনেকে আমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা করছে। এনবিআর তদন্তের মাধ্যমে সৎ-অসৎ চিহ্নিত করলে সুবিধা হবে।

অবশ্য এ ধরণের শাস্তির বিরুদ্ধে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি বলছে, দুর্নীতির অভিযোগে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বদলি, বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসরসহ কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে তা দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয়। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তাকে বদলি বা বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে, যা বিভাগীয় পদক্ষেপ হিসেবে আশাব্যঞ্জক প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

দুর্নীতির অভিযোগে আগেও এসেছে যেসব নাম
এনবিআরের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনেকবারই অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী চিহ্নিত হয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘুষ নেওয়ার দায়ে সহকারী কর কমিশনার অভিজিৎ কুমারকে চাকরি থেকে অপসারণ করেছে এনবিআর। তাকে ২০১৯ সালে ঘুষের ৫০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করে দুদক। গত ১১ জুন এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) সাবেক ভ্যাট কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর নামে মামলা দায়ের করেছে দুদক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে ৪ মোবাইল অপারেটরের ১৫২ কোটি টাকার ভ্যাট মওকুফ করেছেন। এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধেও দুদক অনুসন্ধান করছে।

খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনার সঙ্গে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুদাম থেকে স্বর্ণ চুরি এবং ফেনী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে থাকা অবস্থায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা গোলামুর রহমান, মজিবুর রহমান সরকার ও জি এম শাহজাহানকে চাকরিচ্যুত করা হয় এনবিআর থেকে। মাগুরায় ভুয়া মামলা দেখিয়ে ভিশন ড্রাগস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবি এবং ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ভ্যাট অফিসের দুই রাজস্ব কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। বেনাপোল কাস্টম হাউসে চাকরিরত অবস্থায় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খন্দকার মুকুল হোসেনকে প্রায় ২৩ লাখ টাকা পাচারকালে আটক করা হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে এনবিআর এ শুল্ক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং বিভাগীয় মামলা করারও নজির আছে।

দুর্নীতির দায়ে ২০১৬ সালেও তিন কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয় এনবিআর। ওই কর্মকর্তারা হলেন রংপুর কর কমিশনার অনিমেষ রায়, অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. রিয়াজুল ইসলাম ও উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ আমিরুল করিম মুন্সী। ওই বছরে সর্বোচ্চ করদাতা মনোনয়নে দুর্নীতির অভিযোগে সহকারী কর কমিশনার সফি-উল-আলম নামে এক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে কাস্টমস কমিশনার এম হাফিজুর রহমান, সহকারী কর কমিশনার জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা কর পরিদর্শন পরিদফতরের উপ-পরিচালক বিদ্যুৎ নারায়ণ সরকারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া আলোচনায় থাকলেও বর্তমান ও সাবেক অনেক কর্মকর্তারা এখনও ধরাছোয়ার বাইরে। এদের মধ্যে রয়েছেন এনবিআর’র আরেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুল্ক, রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের (ডেডো) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তার অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে জনৈক ব্যক্তি।
সূত্র জানিয়েছে, একাধিকবার তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগও দেয়া হয়েছে। তবে আগে গুরুত্ব না দিলেও বর্তমান দুদক সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, দুদকে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজ নেওয়া শুরু করলে বেরিয়ে এসেছে ড. তাজুল ইসলামের শত শত কোটি টাকার নামে-বেনামে সম্পদের তথ্য। অনুসন্ধান পর্যায়ের তদন্তে যেসব তথ্য বা অবৈধ সম্পদের উৎস পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে ড. তাজুলের কী পরিমান অবৈধ সম্পদের খোঁজ তারা পেয়েছেন সেটি স্পষ্ট হবে দুদকের অনুসন্ধানকারী দলের প্রতিবেদন কমিশনের নিয়মিত সভায় উত্থাপনের পর। যদিও ইতোমধ্যেই যে সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে, তা অনেক বলে আভাস জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সহকারী পরিচালক বদরুন নাহারের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। সম্পদের তথ্য গোপনসহ সাত কোটি সাত লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। গত সোমবার দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করেন।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কাস্টমসের দ্বিতীয় শ্রেণীর সাবেক কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিনের অঢেল সম্পদের তথ্য। যদিও তার এসব সম্পদ সন্তান ও পরিবারের অন্যান্যদের নামে রয়েছে। তথ্য মতে, হেলাল উদ্দিনের রাজধানীর নিকেতন মসজিদের ঠিক উল্টোদিকে ৪ নং রোডের ব্লক-এ’র ১৫৩ নম্বরে ৯তলা একটি ভবন রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ২৫ কোটি টাকা। পুলিশ প্লাজায় রয়েছে ২টি দোকান। বসুন্ধরায় তিনটি প্লট রয়েছে। এরমধ্যে ১০ কাঠার একটি, ৫ কাঠার দুটি। আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি। বড় ছেলে মহতাসিনকে লেখাপড়া করিয়েছেন কানাডাতে। সেখানে স্থাযীভাবে বসবাস করছেন। ছেলের নামে কানাডাতে বাড়ি রয়েছে। এতে দেশ থেকে টাকা পাচারের অভিযোগ আছে। মো. হেলাল উদ্দিনের ছোট ছেলে সাতাব লেখাপড়া করেছে মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরের সন্ন্যাসির চর ঝগড়ার চর বাজারে ৩ বিঘা জমি আছে। যার ১ বিঘা জমির উপর ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে মার্কেট করা হয়েছে। এখানকার জমির দামও কয়েক কোটি টাকা। বর্তমানে কোটি টাকার গাড়ী ব্যবহার করছেন। এছাড়া এলাকা এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হেলাল উদ্দিনের বাবা, ভাই ও স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমান সম্পদ আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অবশ্য ড. মতিউর, আবু মাহমুদ ফয়সাল, মোখলেছুর রহমান, ড. তাজুল, বদরুন নাহার বা হেলাল উদ্দিনই নয়; অসংখ্য কর্মকর্তা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তথ্য মতে, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই কর্মক্ষেত্রে খুব সাধারণভাবে চলাফেরা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ব্যক্তিজীবনে আলিশান ফ্ল্যাট ও দামি গাড়ির মালিক, রয়েছে মোটা অঙ্কের ব্যাংক-ব্যালেন্স। এসব কর্মকর্তা কর্মচারীর অনেকে করদাতাদের বিভিন্ন কৌশলে হয়রানি করে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ব্যবসা করেছেন। অনেকে পরিচতজন বা স্ত্রী ও সন্তানের নামেও ব্যবসা করেছেন। অনেকে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্টেরও মালিক। অনেকের সন্তান বিদেশে নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরে কোটি টাকা খরচ করে পড়াশোনা করেছে বা করছে। অনেকের বিদেশে ফ্ল্যাট ও বাড়ি আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সমাধান  কী “:এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মতিউরদের সংখ্যাই এনবিআরে বেশি। মতিউরদের মতো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা এখন ৯০ শতাংশের বেশি। তাদের ভয়েই মানুষ সরকারকে কর দিতে চায় না। তিনি বলেন, এনবিআরে মতিউরদের দাপট কমাতে পারলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। আমরা এর বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি। আমরা দেখছি, বড় বড় পদে থাকা ব্যক্তিরাও দুর্নীতি করে পার পাচ্ছেন না। আমরা চাই এইসব দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

 

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।