বুধবার, ১৭ Jul ২০২৪, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
পিপিপি চুক্তি সই নিয়ে সময়ক্ষেপণ : স্বপ্নের তৃতীয় টার্মিনাল কবে নাগাদ চালু হবে তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না সিএএবি চেয়ারম্যান

ডেক্স রিপোর্ট : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক তৃতীয় টার্মিনাল  চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পিপিপি সই নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ পিপিপি সই হবে তা বলতে পারছে না সিএএবি কর্তৃপক্ষ। ফলে তৃতীয় টার্মিনাল কার্যক্রম  চালু হওয়া নিয়ে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। কবে নাগাদ তৃতীয় টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হবে তা স্পটষ্ট করে বলতে পারছেন না সংস্থার চেয়ারম্যান। অবশ্য বর্তমান চেয়ারম্যানের দ্বিতীয় দফার চাকরির মেয়াদ শেষ হবে জুন মাসে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেবার পর তৃতীয় টার্মিনালের উদ্ধোধনী হতে আরো সময় নিতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেকে।

প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। আগামী অক্টোবরে স্বপ্নের এ টার্মিনালটি চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ নিয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তি সই না হওয়ায় টার্মিনাল চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অবশ্য বিমান মন্ত্রী তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করে বলেছিলেন, ৯৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের ৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, বেবিচক কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এ পর্যন্ত টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। গত ৩০ মে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান প্রকল্প পরিদর্শন করে বলেছিলেন, ‘টার্মিনাল নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হবে না।’ এ ক্ষেত্রে কাজের গাফিলতিও মন্ত্রীর নজরে আসে। তবে বেবিচক কর্তৃপক্ষের দাবি, আগামী অক্টোবরের আগেই প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হচ্ছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, প্রখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিনের নকশায় তৈরি হচ্ছে তৃতীয় টার্মিনাল। এর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজও পেতে যাচ্ছে জাপান। বর্তমানে বিমানবন্দরের ১ ও ২ নম্বর টার্মিনাল থেকে সেবা পান ৮০ লাখ যাত্রী। তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ সম্পন্ন হলে আরও ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া যাবে। সেই হিসাবে বছরে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রী সেবা নিতে পারবেন।
বেবিচক সূত্র জানায়, তৃতীয় টার্মিনালে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, অ্যারাইভাল লাউঞ্জ, ক্যান্টিন, ডিউটি ফ্রি শপ ও বোর্ডিং ব্রিজসহ ৫৪টি কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। রানওয়েতে আইএলএস (ইনস্ট্রুমেন্ট  ল্যান্ডিং সিস্টেম) সিস্টেম উন্নত করা হচ্ছে। টার্মিনালে ৪১ হাজার ৫০০ বর্গমিটারজুড়ে দুটি এপিটাফ ওয়ে রয়েছে, যাতে উড়োজাহাজ অবতরণের পর দ্রুত রানওয়ে ছেড়ে যেতে পারে।
নতুন টার্মিনালে ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য একটি বড় লাউঞ্জ রয়েছে, যা বছরে ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেবে। ভিআইপিদের সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ বর্গমিটার এলাকা। টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ায় হাজিক্যাম্প থেকে উত্তরা পর্যন্ত থাকবে পাতাল রেল। এ ছাড়া এয়ারলাইন্স লাউঞ্জ, ডে-রুম, মুভি লাউঞ্জ, শিশুদের জন্য প্লে-জোন এবং ফুডকোর্ট যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেবে।

এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান  গণ মাধ্যমে  জানান, অক্টোবরের মধ্যেই শতভাগ নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে তৃতীয় টার্মিনালের। অক্টোবরের উদ্বোধন করতে আমরা প্রস্তুত। তবে এই টার্মিনাল পরিচালনা ব্যয় নির্ধারণ নিয়ে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে পিপিপি চুক্তিটি এখনও সই হয়নি। কবে নাগাদ টার্মিনালটি চালু, তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

 

এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।