পুতিনের ঘোষণা : অপ্রতিরোধ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে রাশিয়া

বিবিসি : রাশিয়া নতুন ও অপ্রতিরোধ্য একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার দাবি, এ ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশ্বের যেকোনো জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম। গত ১ মার্চ বৃহস্পতিবার মস্কোতে বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণে এসব ঘোষণা দেন পুতিন।

আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হতে এ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পুতিন। এ নির্বাচনেও তিনিই জয়ী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের ১৭ দিন আগে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের দুই করে যৌথ অধিবেশনে বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সে সময় একটি ভিডিওর মাধ্যমে রাশিয়ার ‘তৈরিকৃত’ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এবং পানির তলদেশ দিয়ে চলাচলে সমতাসম্পন্ন একটি ড্রোন প্রদর্শন করেন তিনি। এ দুই ব্যবস্থার নামকরণ করার জন্য রুশ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান পুতিন।
রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, নতুন ক্রুজ পেণাস্ত্রটি শনাক্ত করা কঠিন, এটি অসীম পাল্লার এবং এটি দুর্ভেদ্য ও অদম্য।
বক্তব্যের প্রথম ভাগে আগামী ছয় বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

২০০০ সালে রাশিয়ার ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো। বর্তমানে এ সংখ্যা দুই কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এটি আরো কমানো প্রয়োজন বলে উলে­খ করেছেন পুতিন।

রাশিয়ায় হামলা চালাতে ইউরোপীয়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : ল্যাভরভ

এএফপি                                           
রাশিয়ার ওপর পারমাণবিক হামলা চালানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এর ফলে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তিনি।

বুধবার জাতিসঙ্ঘ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় ল্যাভরভ বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী ইউরোপজুড়ে কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্র মোতায়েন করেছে এবং সেগুলোকে নিয়ে ন্যাটো জোটের বাইরের দেশগুলোসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সাথে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। আমরা সবাই জানি যে, এই ধরনের তৎপরতা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির লঙ্ঘন এবং পরমাণু অস্ত্র নেই এমন দেশকে মহড়ায় অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করে তাদেরকে পরমাণু অস্ত্র কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তার প্রশিণ দিচ্ছে আমেরিকা।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু স্নায়ুযুদ্ধের অংশই নয়, এটি একটি আগ্রাসী নীতিও। আমেরিকাকে একমাত্র পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ল্যাভরভ বলেন, ইউরোপের জনগণের উচিত নয় তাদের অঞ্চলে এই শক্তিশালী ও গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন মেনে নেয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা এখন পর্যন্ত এই বোমা ব্যবহার করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনের একটি ঘোষণা কথা উল্লেখ করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র ছোট আকারের পারমাণবিক বোমা তৈরি ও মোতায়েন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। ওয়াশিংটন বলেছে, মস্কো ও বেইজিংয়ের পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা এই পরিকল্পনা নিয়েছে।

বুধবারের বক্তৃতায় ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই পদক্ষেপ ছোট মাত্রার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে সুযোগ সৃষ্টি করবে। নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি রবার্ট উড। তিনি ল্যাভরভের বক্তৃতার প্রতিবাদ করে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গতানুগতিক রুশ বিবৃতি, যাতে সব কিছুর জন্যই যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়।’