বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টা : প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি মুভমেন্টে ডিউটিরত সিএএবির নিরাপত্তা সুপার লেহাজ উদ্দিন সাময়িক সাসপেন্ড! পার পেয়ে যাচ্ছে এন্ট্রি হ্যাইজেকপয়েন্টে কর্তব্যরত ৩ এফসেক সদস্য

বিশেষ সংবাদদাতা : চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান হ্যাইজ্যাক ঘটনায় ঘটনার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি মুভমেন্টে কর্তব্যরত সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা সুপাভাইজার লেহাজ উদ্দিন ভুইয়াকে সাময়িক সাসপেন্ড করেছে সিএএবি প্রশাসন। গত ২ মার্চ সিএএবির (সদস্য ফাইন্যান্স), সদস্য প্রশাসন হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. আব্দুুল হাই স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিকপত্রের আদশে তাকে সাসপেন্ড করা হয়। একই দাপ্তরিকপত্রে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ইউনুস হাওলাদারকে অভিযুক্ত করা
হলেও তাকে সাসপেন্ড করা হয়নি। বিষয়টি রহস্যজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অনেকে মনে করছেন।
অথচ এন্ট্রি হ্যাইজ্যাক পয়েন্টে ঘটনার সময় কর্তব্যরত এবং যারা বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টাকারি পলাশ মাহদির ল্যাগেজ এবং শারীরিক তল্লাশি করেছেন এফসেকের সেই ৩ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়নি, তাদের ডিউটিপোষ্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে মাত্র।এই ৩ এফসেক সদস্য হলেন : সার্জেন্ট সাইদুর,এলএসি হেমায়েত এবং আনসার ব্যাটালিয়ন আলিম। তাদের কর্তব্যে অবহেলার ছাপ ফুটে ওঠলেও তাদের সাসপেন্ড করা হয়নি। অথচ তাদের কর্তব্যে অবহেলা ও গাফেলতির জন্যই বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টাকারি পলাশ মাহদি সেদিন ডমেস্টিক দিয়ে ‘আইনেস’ বা শেষ চেকিং ছাড়াই বিমানে ওঠে যায় এবং বিমান ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত পাইলট ও ক্রুদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং কমান্ডো বাহিনীর তৎপরতায় তা রুখে দেয়া হয়।
নিরাপত্তা সুপার লেহাজ উদ্দিনকে সাসপেন্ড করার পর তিনি সদস্য নিরাপত্তার দপ্তরে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে সে দিনকার ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন। এ সময় সেখানে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক এবং পরিচালক নিরাপত্তা কাকতালীয়ভাবে উপস্থিখত হন। ঘটনার সংশ্লিষ্টতা না থাকার কথা ব্যাখ্যা করার পর নিরাপত্তা সুপার লেহাজ উদ্দিনকে তার লিখিত বক্তব্য প্রদানের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
সে দিনকার ( গত ২৪ ফেব্রুয়ারি) ঘটনা বর্ণনা করে নিরাপত্তা সুপার লেহাজ উদ্দিন ভুইয়া জানান, আমি কোন অপরাধ করিনি, আমাকে কেন অপরাধী বানানো হলো তা জানি না। তিনি বলেন, ঘটনার দিন ঘটনার শুরু থেকে শেষ পযন্ত আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি মুভমেন্টে ডিউটি শেষ করে বিকাল ৫টার পর ডমেস্টিকে ফিরে আসি। আমার সাথে নিরাপত্তারক্ষী ইউনুস হাওলাদার যে হেভী ল্যাগেজ মেশিনে ডিউটি করে সেই মেশিনে ছুরি,কাচি, দাও,ব্লেড ধরা পড়ে, কিন্ত আগ্নেয়াস্ত্র ,গুলি মেশিনে পায় না। গুলি ,আগ্নেয়াস্ত্র, পিস্তল এন্ট্রি হ্যাইজ্যাক পয়েন্টে দুটি মেশিনে ধরা পড়ে। সেদিন আনসার বাহিনী থেকে আগত আলিম নামের এফসেক সদস্য বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টাকারি পলাশ মাহদির ল্যাগেজ এবং বডি চেক করে। এ সময় ওখানে পোস্ট সুপারভাইজার হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন এফসেক সদস্য সার্জেন্ট সাইদুর ও এলএসি হেমায়েত।
সূত্র জানায়,ঘটনার সময় ডেপুটি নিরাপত্তা অফিসার( ডিএসও) রুকন উদ্দিন ডিউটি করলেও তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি।
সংশ্ষ্টি সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে ডমেস্টিকের কোন যাত্রী কোন আন্তর্জাতিক ফাøইটে ওঠার আগে তাকে ডমেস্টিক দিয়ে প্রবেশ করে প্রথমে হেভি ল্যাগেজ মেশিনে ল্যাগেজ স্ক্যান করে এন্ট্রি হ্যাইজ্যাক পয়েন্টে চেক করে আন্তর্জাতিকে ডিপারচার দিয়ে প্রবেশ করে আইনেস বা শেষ পরিক্ষা করে বিমানে উঠতে হতো। কিন্ত এফসেক বাহিনী দায়িত্ব নেয়ার পর তা উবে গেছে। এখন কোন আভ্যন্তরীন যাত্রীকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডিপারচার হয়ে আইনেস ছাড়াই বিমানে ওঠার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এখন ডমেস্টিকে এন্ট্রিহ্যাইজ্যাক পয়েন্ট দিয়ে পরিক্ষা করেই ডমেস্টিক দিয়ে মই দিয়ে যাত্রীকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বিমানে উঠানো হয়ে থাকে। বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টাকারি পলাশ মাহদিও এ ভাবেই আভ্যন্তরীন যাত্রী হয়ে আন্তজৃাতিক ফ্লাইটে উঠেছে।