স্বাস্থ ডেক্স : তিতা স্বাদের মসলা হলেও মেথিতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানো এবং তারুণ্য ধরে রাখার বিস্ময়কর ক্ষমতা। ক্যান্সারসহ নানা রোগের কার্যকর প্রতিষেধক মেথি। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) বগুড়ার শিবগঞ্জের মসলা গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব) বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, দূষিত পরিবেশ এবং ভেজাল খাবারের রাজ্যেও সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব, যদি প্রতিদিন মেথি খাওয়া যায়।
মেথিতে রয়েছে ৩৫.৫ ভাগ ক্যালরি, ৬.৪ ভাগ প্রোটিন, ০.৭ ভাগ ফ্যাট, ২.৭ ভাগ ফাইবার এবং ৩.৭ ভাগ আয়রন। এছাড়াও রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি৬-এর মতো পুষ্টিকর উপাদান, যা নানা দিক দিয়ে শরীর গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যারা নিয়মিত মেথি খান, তারা সহজে বুড়িয়ে যান না। রাতে এক চা চামচ মেথি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি এবং ওই ভিজানো মেথি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চিবিয়ে খেলে শরীরের কৃমিসহ বিভিন্ন ধরণের রোগ-জীবাণু মরে যায়। এছাড়া রক্তের চিনির মাত্রা, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা উল্লেখযোগ্য কমে যায়।
প্রতিদিন মেথি খেলে চেহারায় বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়ে না, ফলে চেহারা সুন্দর থাকে। মেথিতে আছে প্রাকৃতিক তন্তু, যা ওজন ও স্থুলতা কমাতে বেশ কার্যকর। নিয়মিত মেথি খেলে সর্দি কাশি হতে পারবে না। চুল পড়া ঠকাতে মেথি খেলে উপকার পাওয়া যায়। পেট জ্বালা, বদ হজম ও গ্যাস-অম্বলের মতো রোগও সারায়। কনস্টিপেশন এবং স্টমাক ইনফ্লেমেশনের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে।
মেথি শরীরে প্রবেশ করার পর মুখের আলসার, পেপটিক আলসার, ফোঁড়া, ব্রঙ্কাইটিস, টিউবারকুলোসিস, সর্দি-কাশি এবং ক্যান্সারের মতো রোগও হতে দেয় না এবং হয়ে থাকলে সেগুলো ভাল করে। মেথি কিডনির কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। আমাশয়, গ্যাষ্ট্রিক ও শূল রোগে উপকারি। অ্যািনিমিয়া রোগের পথ্য হিসেবে কাজ করতে পারে। মাতৃদুগ্ধ বাড়াতে ওষুধের বিকল্প হলো মেথি। নিয়মিত মেথি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে, ছোট-বড় কোনো রোগই হতে পারে না। মেথি সকল বাত ব্যথায় বিশেষ কার্যকর। পিত্তজনিত রোগ নিরাময় করে।
মেনোপজ হলে নারীর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে। হরমোনের এই পরিবর্তন কালে মেথি ভালো একটি পথ্য। এছাড়া মেথি পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
