রানওয়ে নিরাপত্তায় ৯ কোটি টাকায় আধুনিক সুইপার কিনছে বেবিচক

ডেস্ক রিপোর্ট:হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে নিরাপত্তা জোরদারে অবশেষে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘদিন ধরে রানওয়ে পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত সুইপার অচল থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রায় ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক রানওয়ে সুইপার কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।

বেবিচকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন সুইপার সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন, খসড়া দরপত্র বিজ্ঞপ্তি এবং স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। গত ২২ জুন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড স্টোর ইউনিট (সেমসু) প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অনুমোদন মিললেই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

গত এপ্রিল মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে সুইপার অচল হয়ে পড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ফলে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের বিভিন্ন অংশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মীদের হাতে ঝাড়ু ব্যবহার করতে হয়। এতে রানওয়েতে ফরেন অবজেক্ট ডেব্রিস (Foreign Object Debris-FOD)—যেমন ধাতব টুকরা, পাথর, রাবারের অংশ বা অন্যান্য বর্জ্য—জমে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, টায়ার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এদিকে, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর বিমান চলাচল এলাকার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম বাড়ানো হয়নি। ফলে একটি আধুনিক ও সক্ষম রানওয়ে সুইপারের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানান, প্রাথমিকভাবে একটি সুইপার কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রানওয়ে সবসময় সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ছোট একটি ধাতব টুকরোও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ কারণে উন্নত প্রযুক্তির সুইপার দিয়ে নিয়মিত রানওয়ে পরিষ্কার করা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর নিরাপত্তা মানদণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সংশ্লিষ্টরা নতুন সুইপার সংগ্রহের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি রানওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যন্ত্রটি কার্যক্রমে যুক্ত করা।