একুশে বার্তা প্রতিবেদন : পুলিশের অনুমতি না থাকায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মে দিবসের সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করতে পারেনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নকে জানানোর ঘোষণা দিয়েছি বিএনপি।
আজ মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম খান এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য। বাংলাদেশ আইএলও’র সদস্য। আইএলও’র কনস্টিটিউশন অনুযায়ী এবং বাংলাদেশ আইএলও’র কনভেশন-৮৭ বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যেখানে ফ্রিডম অব অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করার কথা, সেখানে আজকে আমাদের সেটা করতে দেওয়া হলো না।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে নিশ্চয়ই আমরা কখন কোন প্রোগ্রাম করি সেটা আমাদের জানাতে হয়। এই যে আমরা প্রোগ্রাম করতে পারলাম না, কেন পারলাম না সেটাও আমাদের জানাতে হবে, আমরা জানাব।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও জনসভা করতে দেওয়া হলো না। নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলও করতে দেওয়া হলো না। দিনে দিনে সরকার আরও বেশি স্বৈরাচারী হয়ে পড়েছে। এই তথ্য যখন বিশ্ববাসী জানবে, বাংলাদেশকে স্বৈরাচারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করা জার্মানির সেই প্রতিবেদনটিকে তা আরও শক্তিশালী করবে। সেই প্রতিবেদন যে সঠিক, সেটার পক্ষে আরেকটি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে সরকারের আজকের এই সিদ্ধান্ত।’
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে শ্রমিক দলের র্যােলী বের করার কথা ছিল। গতকাল সোমবার রাতে পল্টন মডেল থানা থেকে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনো র্যা্লি করা যাবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে শ্রমিক দল।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এস এম শিবলী নোমান। তিনি জানান, সমাবেশ বা শোভাযাত্রার কোনো অনুমতি চায়নি বিএনপি। তবে তাদের শোভাযাত্রার কথা ভেবে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তারা নিজেরাই কোনো র্যাউলী বা শোভাযাত্রা করেনি।
তবে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে র্যা লী করার জন্য অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করি। গতকাল বারবার আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সন্ধ্যা ৭টায় পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের জানিয়ে দেন, কোনো র্যা লী শ্রমিক দল করতে পারবে না।’
শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম বলেন, ‘আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাজার হাজার শ্রমিক মিছিল-মিটিং করছে। অথচ আমরা দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠন, মিছিল করতে অনুমতি দেওয়া হলো না। এই সরকারের পুলিশ বাহিনী ক্ষমতাসীন দলের নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে পরিণত হচ্ছে। এটা নিন্দনীয়।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ফজলুল হক মোল্লা, মনজুরুল ইসলামসহ শ্রমিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
