সরকারি কাজে সারাদিন ব্যস্ত, কক্সবাজার বিমানবন্দরে মিটিং করছেন, সাইট ভিজিট করছেন, হঠাৎ করে বদলির খবর !

স্টাফ রিপোর্টার : তিনি সরকারি কাজে সারাদিন ব্যস্ত, কক্সবাজার বিমান বন্দর সাইট ভিজিট করছেন, মিটিং করছেন, এর ২ দিন আগে তিনি সরকারি কাজে বিদেশ সফর করে এসেছেন। তিনি যখন সরকারি কাজে কক্সবাজার বিমানবন্দরে ব্যস্ত ঠিক তখনই হঠাৎ করে বদলির খবর এলো,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রঙাপনও জারি হয়ে গেল। এ কেমন বদলি!
বেবিচক চেয়ারমান এয়ার ভাইস মার্শাল মনজুর কবীর ভুইয়ার কথাই বলছিলাম। তাকে হঠাৎ করে বদলির ‘শানেনুজুল’ খুজে পাওয়া গেল না। আজকে প্রথম আলো ওনাকে নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছে, রিপোর্টের বিষয়বস্তু হলো, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্কিং সংযোগ নিয়ে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানকে বার বার ফোন করেও নাকি পাওয়া যায়নি, পরে ম্যাজেস দেয়া হলে ওনি উত্তর দেন যে, ওনি দেশের বাইরে আছেন। অ্যামাটব- বিটিআরসি- বেবিচক বার বার মিটিং করেও নাকি থার্ড টার্মিনালের মোবাইল নেটওয়াকিং অ্যামাটবকে না দিয়ে ওটিএম -এর মাধ্যমে টেন্ডার আহবান করা হবে-এমন কথা রিপোর্টে ওঠে এসেছে।ওনি নাকি তৃতীয় পক্ষকে থার্ড টার্মিনালের মোবাইল নেটওয়ার্কিং দিতে আগ্রহী।
তাছাড়া অতিকথন এবং সবজান্তা ভাব নাকি ওনার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে বলে একজন মন্তব্য করেছেন।
তবে বেবিচক চেয়ারম্যান মনজুর কবীর ভুইয়ার হঠাৎ বদলির নেপথ্য কারণ এখনও জানা যায়নি।
তিনি তো আওয়ামী দোসর না, পতিত সরকারের কারো ঘণিষ্ঠও না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাকে প্রেষণে বিমান বাহিনী থেকে বেবিচকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
বেবিচকে নিয়োগ পাওয়ার পর গত ১১ মাসে তিনি সিভিল এভিয়েশনে অনেক উন্নয়নমুল কাজে মনোনিবেশ করেছেন। তার রুটিন দায়িত্ব হিসেবে তিনি দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর চষে বেড়িয়েছেন। নতুন করে ৭ টি বিমানবন্দর চালুর কাজে হাত দিয়েছেন। তবে তিনি বেশকিছু প্রকল্প বাদ দিয়েছেন বলে জানা যায়।
বেবিচক থেকে সব আওয়ামী দোসরদের বদলি করা হলো। দোসর না হয়েও চেয়ারম্যানকে বিদায় নিতে হচ্ছে। কিন্ত বেবিচকে জেকে বসা ৩ জন আওয়ামী দোসর এখনও বহাল। এর ২ জন প্রশাসন ক্যাডার, একজন এয়ারফোর্সের। সবাই প্রেষণে। এরমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে এক কর্মকর্তা বেবিচকে মেম্বার অর্থ’র দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। রাষ্ট্রপতির পিএসও নাকি তার ঘনিষ্ঠ। তাকে এই সরকারের আমলে আবার পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে।
অন্যজনও প্রশাসন ক্যাডারের, তিনি মেম্বার প্রশাসন। তিনি সাবেক মন্ত্রী পলকের ঘনিষ্ঠ।
এদের ২ জনকে বেবিচক থেকে বদলির জন্য ব্যানার টাংগিয়ে বৈষম্য বিরোধী কর্মচারিরা প্রতিবাদ করলেও এ ২জন এখন বেবিচকে বহাল। এরা ২ জন গত সরকারের আমল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বেবিচকে বহাল। এদের নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক রিপোর্ট প্রখাশিত হলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। এ ২জনকে বেবিচক থেকে বদলি করে -এমন সাধ্য কার- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
আরেকজন হলেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ভাগিনা। তিনি বেবিচকে সেমসুর নির্বাহী পরিচালক।
বেবিচকে কতো কর্মকর্তা এলা-গেল, কিন্ত এরা ৩ জন বেবিচকে রয়েই গেলেন। এদের বদলি এখন সময়ের দাবি। এই ৩ কর্মকর্তার আমলে বেবিচকে ৪ জন চেয়ারম্যান বিদায় হলেন, কিন্ত এ ৩ জন এখনও বেবিচকে দিব্যি চাকরি করছেন।