সিএএবি : জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকীর নামকরে দেশের বিভিন্ন দর্শর্নীয়স্থানে ভ্রমণের নামে সরকারি টাকা খরচ: সরকারি আদেশ বাতিল করে টিএ/ডিএ প্রদান : হিসাবরক্ষক ফারজানা পেল অফিসারদের কোয়ার্টার ডরমেটরি-১

বিশেষ সংবাদদাতা : বিদেশে প্রমোদভ্রমণের পর এবার বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের নামে সরকারি লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে। প্রশাসনের কি-পয়েন্টে বসে থাকা এক কর্তাব্যক্তির নেতৃত্বে এসব হচ্ছে বলে সিএএবি সূত্রে জানা গেছে। আর এ জন্য সরকারি একটি মনজুরি আদেশ বাতিল করে টিএ-ডিএ দেয়া হচ্ছে। এতে সই করেছেন সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম। যার স্মারকনং-৩০.৩১-০০০০.২২১.২৬.০০৪.১৮/৮১৪/১৬৮৯, তারিখ: ১৯-০৮-২০১৮ খ্রি:। এই আদেশ জারি করে সরকারি আরেকটি মনজুরি আদেশ বাতিল করা হয়েছে। যার স্মারকনং-৩০.৩১.০০০০.২২১.২৬.০০৪.১৮/৭৭০/১৩২৭ তারিখ:০৮-০৮-২০১৮ খ্রি:।
প্রথম ও দ্বিতীয় টুর শেষে তৃতীয় টুর সিলেটের জাফলংয়ে, কক্সবাজারে গত ১৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। সিএএবির হিসাব বিভাগের ২৯ জন কর্মকর্ত-কর্মচারি এ ভ্রমণে অংশ নিচ্ছে। নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদস্য ( প্রশাসন), সরকারের যুগ্ম সচিব মো. হেমায়েত হোসেন।
প্রথম টুর গত ১৫ আগস্ট জাতির জনকের ৪৪তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে বংগবন্ধুর সমাধিস্থল যথাসময়ে টংগিপাড়া পৌছার কথা থাকলেও গত ১৪ আগস্ট টুর শুরু হয়ে কুষ্টিয়া- ফরিদ- বাগেরহাট হয়ে গত ১৫ আগস্ট সন্ধায় টংগিপাড়ায় যখন পৌছে তখন অনুষ্ঠান শেষ। পরে ১৫ আগস্ট রাতে টুরের লোকজন ঢাকায় ফিরে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টুরটির উদ্দেশ্য ছিল টংগিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিস্থলে অংশ নেয়া। কিন্ত সরকারি টাকায় টুরটি গত ১৪ আগস্ট কুষ্টিয়া যায়।্ সেখানে রবি ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি পরিদর্শন করে। পরে টুরটি রাতে ফরিদপুরে ফিরে আসে। রাতে সবাই এক হোটেলে ওঠেন।্ কিন্ত অডিট- এর ডিডি শাহিনা ও হিসাবরক্ষক ফারজানাকে নিয়ে সদস্য (প্রশাসন) ফরিদপুর সার্কিট হাউজে ওঠেন।
ঈরের দিন ১৫ আগস্ট সকালে বাগেরহাটে পৌছে সাত গম্বুজ মসজিদ এবং খানজাহান আলির মাজার পরিদর্শন শেষে দুপুর আড়াইটায় গোপালগনজের টংগি পাড়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যখন টুরের লোকজন টংগিপাড়া জাতির জনকের সমাধিস্থলে পৌছে তখন সমস্ত অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়। পরে টুরের লোকজন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
সূত্রে জানা গেছে, এর এক মাস পরে গত ১৫.৯-২০১৮ তারিখে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে ভ্রমণকারিরা সিলেটের জাফলং এবং কক্সবাজায় যায়। পরের দিন অর্থাৎ ১৬.৯-২০১৮ তারিখে ভ্রমণে নেতৃত্বদানকারি সিএএবির সদস্য (প্রশাসন) সিলেটে যান। সিলেট বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে ভ্রমণকারিরা গত ১৭.৯.২০১৮ তারিখে ঢাকায় ফিরে আসে। এরআগে গত ৩০ আগস্ট টুরটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করে। নিরাপত্তা বিভাগ থেকে হিসাব বিভাগে চলে আসা হিসাবরক্ষক শাহাদৎ হোসেন ওরফে শাহিনের ফেইজবুক স্টাটাসে এসব ভ্রমণের ছবি সম্বলিত বিবরণ দেয়া হয়েছে,তার ফেইজবুক আইডি এসএইচ শাহিন।
প্রতিটি ভ্রমণেই সরকারি টিএ/ডিএ দেয়া হচ্ছে। আর টুরের ফান্ড হিসেবে একজন সিনিয়র স্টোর অফিসারের থেকে ৩৫ হাজার টাকা চাদা নেয়া হয়েছে বলেও সূত্র জানায়। যোগাযোগ বিভাগের টেকনিক্যাল এসিসটেন্ট ফরিদের নেতৃত্বে এই চাদার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
ভ্রমণে অংশ নেয়া ০৯ নম্বর ক্রমিকে সিডি-৩-এ কর্মরত , সিএটিসি, ঢাকায় প্রশিক্ষণরত হিসাবরক্ষক মোছা: ফারজানা ইয়াসমিন ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন, তাকে নিয়ে নানা গুনজন শোনা যাচ্ছে। তাকে তার প্রাপ্যতার চেয়েও কয়েকদাফ এগিয়ে কাওলার আবাসিক এলাকায় অফিসারদের মতো ডরমেটরি-১-এ বাসা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ভ্রমণে অংশ নেয়া ০৩ নম্বর ক্রমিকে ডিডি( অডিট) শাহিনা আক্তারকে ইতিপূর্বে ‘ফেট’ পরিদর্শনের জন্য বিদেশে পাঠানোর নামে চেয়ারম্যান কর্তৃক গঠিত কমিটি তার নাম প্রস্তাব করে তালিকাভুক্ত করে। মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকেও ‘ফেট’ পরিদর্শনে অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হয়। এ যেন সরকারি টাকায় প্রমোদভ্রমণের মতো অবস্থা ।
‘ভ্রমণস্থল ঢাকা-গোপালন্ঞ-ঢাকা, ভ্রমণকাল ১৫-০৮-২০১৮ তারিখ যাতায়াত ব্যতিত ১ দিন এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল (টুংগিপাড়া) সদস্য ( প্রশাসন) মহোদয়ের নেতৃত্বে পুষ্টস্তবক অর্পণ’ অফিস আদেশে বলা হলেও তা লংঘন করে সারাদেশে সরকারি টাকায় ভ্রমণ করা হচ্ছে। এ যেন ‘সরকারি মাল দরিয়ামে ঢাল’।
এ ব্যাপারে ডিডি (প্রশাসন) মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের সেল ফোনে কল করলে তিনি বলেন, আমি বোর্ড মিটিংেেয় আছি।
সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মনজুরি আদেশ বাতিল করে ভ্রমণে অংশগ্রহণকারিদের টিএ/ডিএ দেয়া হচ্ছে।