২৮ দিনের ঝড়, মুক্ত পরী, মেহেদীর বার্তা দুমুখো সাপদের জন্য : ট্রমার মধ্যে আছি

নিউজ ডেক্স : র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি। গ্রেপ্তার, রিমান্ড। ২৮ দিনে কী ঝড়টাই না গেল তার ওপর দিয়ে। হঠাৎই হয়ে পড়েন একা। বন্ধুরা হয়ে যান অচেনা। সমর্থনের বদলে, পরিত্যাগের নীতি নেন সহকর্মীরা। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে তার মুখে ফিরেছে হাসি। আপাত স্বস্তি এসেছে ঢাকাই সিনেমার বহুল আলোচিত নায়িকা পরীমনির জীবনে।

বনানীর বাসায় ফিরেছেন তিনি।

বাসায় ফেরার পর মোবাইল ফোনে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি মানবজমিনকে বলেন, একটা কথাই বলবো, শান্তিতে বাঁচতে চাই। এই মুহূর্তে একটা ট্রমার মধ্যে আছি। একটু অসুস্থ। খানিকটা মাথাব্যথা করছে।  সবার সাপোর্ট ছাড়া তো এটা কাটিয়ে উঠতে পারবো না। আমাকে একটু সময় দেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে অবশ্যই কথা বলবো। আমার কী অনুভূতি সব বিস্তারিত জানাবো আপনাদের।
গত ৪ঠা আগস্ট বনানীর এ বাসা থেকেই শুরু হয় পরীমণির জীবনের অন্যরকম এক অধ্যায়ের। যেদিনটি আসবে তা হয়তো কোনোদিনও ভাবতে পারেননি তিনি। লাইভে এসে জানান, কারা যেন তার দরজায় নক করছে। উদ্বেগ-আতঙ্কিত পরীমনি সাহায্য চান। কিছু সময় পর জানা যায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাসায় অভিযান চালাচ্ছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় র‌্যাব কার্যালয়ে। নানা গল্প ছড়াতে থাকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মামলা হয় মাদক আইনে। এ মামলা থানা-ডিবি হয়ে শেষ পর্যন্ত যায় সিআইডিতে। তিন দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। আদালত থেকে আদালতে ছোটেন তার আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার মিলে জামিন। গভীর রাতে আদালতের আদেশ পৌঁছায় কারাগারে।

বুধবার সকাল। আগের দিন থেকেই ভক্ত-অনুরাগীদের ভিড় কাশিমপুর কারাগারের ফটকে। স্বপ্নের নায়িকাকে রঙিন পর্দায় তারা দেখেছেন অনেকবার। কিন্তু বাস্তবে কখনো দেখা মিলেনি পরীর। ঘড়িতে ৯টা ৩৬ মিনিট। কারাগার থেকে বের হন তিনি। সাদা পোশাক। মাথায় ওড়না প্যাঁচানো। মুখে হাসির ঝিলিক। কে বলবে এতটা কষ্টের সময় পেরিয়ে এসেছেন তিনি! পরীর হাসি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে তার শত শত ভক্তের মুখে। উচ্ছ্বসিত, উদ্বেলিত তারা। এটা যেন তাদের কাছে অবিশ্বাস্য। হুডখোলা গাড়িতে করে নায়িকা সেলফি তোলেন ভক্তদের সঙ্গে। হাত নেড়ে জানান শুভেচ্ছা। ধীরে ধীরে এগুতে থাকে গাড়ি। তবে ভক্তরা ভিড় করলেও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের এদিনও পরীমনির পাশে দেখা যায়নি। কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন তার আইনজীবী ও স্বজনেরা।

পরীমনির হাতে মেহেদিতে লেখা একটি ইংরেজি বাক্য দৃষ্টি কাড়ে অনেকের। ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’। মূলত একটি গানের কথা। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এরইমধ্যে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। এ বার্তা  কাকে দিলেন তিনি? কাকে বললেন, আমাকে ভালোবাসিস না। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এই হাসিমুখ আর মেহেদির বার্তা ভিন্ন। অদম্য আর সাহসী এক নারী হিসেবে নিজেকে সামনে নিয়ে আসতে চেয়েছেন পরীমনি। বলতে চেয়েছেন, আমি কাউকে পরোয়া করি না। এটাই আমার শক্তি। পরীমনি অবশ্য একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, কাদের উদ্দেশ্যে তার এই বার্তা। তিনি বলেন, খুব সাধারণ উত্তর, আমার এই বার্তা বিচদের জন্য। ভালো মানুষদের জন্য নয়। এটা লিখেছি আমার চারপাশের দু’মুখো সাপগুলোর জন্য। যারা ভালোবাসা মুখে দেখায়, কিন্তু হৃদয়ে বিষ ধারণ করে। আমার বিশ্বাস, যাদের জন্য বলেছি, তারা ঠিকই  টের পেয়েছেন। বাসায় ফেরার পর বাসা ছাড়ার নোটিশ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। বলেন, চারদিন আগে তাকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে মালিকের পক্ষ থেকে। বুধবার বাসায় ফিরে তিনি সেটা জানতে পারেন।

ফেসবুকে কোটির বেশি ফলোয়ার পরীমনির। জায়গা পেয়েছিলেন, ফোর্বসের তালিকায়ও। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক মাস ধরেই তাকে নিয়ে রীতিমতো বিভক্ত। কেউ কেউ মনে করেন, তিনি অপরাধী। তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। পরীমনির সংবাদ প্রকাশের কারণে সংবাদমাধ্যমের ওপরও বিরক্ত তারা। আরেক দল মনে করেন, পরীমনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তারা এই নায়িকার জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে সরব থেকেছেন শুরু থেকেই।মানব জমিন