জাল ভিসায় ইতালি পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: গ্রেফতার ১

নিউজ ডেক্স : ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দুই যুবকের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেওয়ার পর জাল ভিসায় তাদের ইতালি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মো. কামাল হোসেন (৪৭) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী দুই যুবককে ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে পাঠানোর আশ্বাস দেয় মানবপাচার চক্রের সদস্যরা। এ জন্য প্রত্যেকের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা করে চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দুই যুবক বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ২০ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা দেন।

এরপর তাদের ইতালি যাওয়ার জন্য বিমান টিকিট ও ভিসা দেওয়া হয়। গত ২৬ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তারা ইতালির উদ্দেশে রওনা হন।

রোমের বিমানবন্দরে ধরা পড়ে জাল ভিসা

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দুই যুবকের পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট যাচাই করে সেখানকার ইমিগ্রেশন পুলিশ। এ সময় তাদের পাসপোর্ট সঠিক থাকলেও পাসপোর্টে সংযুক্ত ইতালির শেনজেন ভিসা জাল বলে জানানো হয়। পরে ইতালির ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে।

আটক থাকার পর গত ২৮ মে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরে ভুক্তভোগীরা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

এ ঘটনায় একজন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গত ৩০ মে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মানবপাচার ও অভিবাসী প্রতিরোধ অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতিসংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে শনাক্ত, আদালতে পাঠানো

সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কামাল হোসেনকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হোসেন মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেফতার কামাল হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, অর্থের লেনদেন ও বণ্টন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।