ভোট দেননি আব্বাস দম্পত্তি

ডেক্স রিপোর্ট : ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও ৯ আসনের প্রার্থী আফরোজা আব্বাস ভোট দেননি। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসে এ দুই প্রার্থী ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই দম্পতি ভোট কেন্দ্রে আসার পর বিপুল পরিমাণ কর্মী সমর্থক তাদের ঘিরে ধরেন। এ সময় তাদের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন কর্মী-সমর্থকরা। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি, হাজার হাজার ভোটার বাইরে অপেক্ষা করছেন। ভেতরে ব্যালট পেপার নিয়ে যাচ্ছে সরকারদলীয় ক্যাডাররা। তারা প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারছে। অন্যদিকে বাইরে ভোটাররা অপেক্ষা করছেন ভোট দিতে।

তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কেন্দ্রেই অসুস্থ শরীর নিয়ে নীলফামারী থেকে ভোট দিতে ঢাকা এসেছেন মো. আজাহার (৪৫)। এক সময় তিনি রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় থাকতেন। সেই হিসেবে তার ভোটকেন্দ্র পড়েছে মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজে। ১০ বছর পর জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ এসেছে। তাই দু’দিন আগেই ছুটে এসেছেন ঢাকায়। পূর্ব পরিচিত ভোটারদের সঙ্গে এসেছেন কেন্দ্রে। কিন্তু সকাল ৮ থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত  অপেক্ষা করে তার আর ভোট দেয়া হয়নি। ভারাক্রান্ত মনে বলছিলেন, এত টাকা খরচ করে অসুস্থ শরীর নিয়ে আসাটাই ভুল হইছে। কেন ভোট দিতে পারেননি এমন প্রশ্নে আজাহার বলেন, সেই সকালে এখানে এসেছি। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভোট দিতে চাইলে স্লিপ ছাড়া আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। স্লিপ আনতে গেলে নৌকার এজেন্টরা বলাবলি করে ওরে স্লিপ দিও না ও ধানের শীষে ভোট দিবো। এভাবে বহু লোকের কাছে গিয়েও আমাকে স্লিপ দেয়া হয়নি।
বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই মনোয়ারা বেগমের। পায়ে বাতের ব্যথা সঙ্গে ডায়বেটিসও আছে। আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কিনা জানেন না। তাই এবার অনেক আশা নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। ঘুম থেকে উঠে সোজা এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। সকালের নাশতাটুকু করতে পারেননি। ভোটকেন্দ্রে আসার পর মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন একটা স্লিপের জন্য। কিন্তু কেউ তাকে স্লিপ দিচ্ছে না। যাকে দেখেন তাকেই বলছেন একটা স্লিপ দেয়ার জন্য। অবশেষে স্লিপ না পেয়ে তিনি ভোট দিতে পারেননি। স্লিপ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে ওই এলাকার সবক’টি কেন্দ্রে। ভোট দিতে গেলে প্রথমেই চাওয়া হয় এনআইডি। সেটা দেয়া হলে চাওয়া হয় স্লিপ। আবার কেউ এনআইডি না আনলে তাকে সেটা নিয়ে আসতে বলা হয়। এনআইডি আনার পর বলা হয় স্লিপ নিয়ে আসেন। কিন্তু কেন্দ্রের কিছুটা দূরে আওয়ামী লীগের লোকজন চেয়ার টেবিল আর স্লিপ নিয়ে বসেছেন। সেখানে গেলে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বলা হয় স্লিপ পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর স্লিপের অভাবে বহু ভোটার ভোট দিতে পারেননি।