সিভিল এভিয়েশন : প্রকৌশলী আবুবকরের নিয়োগ , পদাবনতি, আবার স্বপদে নিয়োগ, পদোন্নতি, আবার স্থগিত, আদালতে রিট মামলা , অবশেষে কোর্ট কন্টটেম্প মামলা : সিএএবি প্রশাসনের খেল!

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনে অনিয়মই যেন নিয়ম, সিনিয়রকে ডিংগিয়ে জুনিয়রকে পদোন্নতি দেয়াই যেন রেওয়াজ। এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি বর্তমান সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী গোস্বামির ক্ষেত্রেও। তবে তা কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়নি। তার সিনিয়ররা তাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। কিন্ত বাধ সেধেছে সংস্থার একজন উপসহকারি/ সহকারি প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোর্ট ‘কন্টটেম্প’ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মো. আবুবকর সিদ্দিক নামের এক চাকরি প্রার্থীকে ১৯৮৮ সালে ২ ফেব্রুয়ারি উপসহকারি প্রকৌশলী (ইএম) পদে নিয়োগ দেয় সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। তিন বছর চাকরি করার পর তাকে চাকরিচ্যুত্য করা হয়। পরে তাকে পদাবনতি করে ১৯৯১ সালে ইলেকট্রিশিয়ান পদে নিয়োগ এবং ২৩.৯.৯১ সালে তাকে ওই পদে স্থায়ীকরন করা হয়। এরপর ৬.৪. ১৯৯৭ সালে আবুবকরকে তার স্বপদ আবার উপসহকারি প্রকৌশলী (ইএম) পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ১১.৫,৯৯ তারিখে উক্ত পদে তাকে নিয়মিত করা হয়। ২৮.৫.২০১৭ তারিখে তাকে পদোন্নতি প্রদান করে সহকারি প্রকৌশলী করা হয়। কিন্ত ওই সময় তার বয়স ৩৩ বছর ৩ মাস ৫দিন অতিক্রান্ত করায় এবং বিমান মন্ত্রণালয়ের বয়স মার্জনার কোন দাপ্তরিক পত্রের যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার কারনে তার পদোন্নতি স্থগিত করে চলতি দায়িত্বের সহকারি প্রকৌশলীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
সূত্র জানায়, এমতাবস্থায় আবুবকরের জুনিয়র এনামুল কবীরবে সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এতে করে আবুবকরের অধিকার ক্ষুন্ন হওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতে রিট মামলা করেন। আদালত তাকে সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করার আদেশ প্রদান করেন। কিন্ত সিএএবি কর্তৃপক্ষ অদ্যাবধি তা কার্যকর করেনি। এর ফলে আবুবকর গত ১৮-১১-২০১৮ তারিখে ‘কোর্ট কন্টটেম্প’ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সিএএবির চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে স্বশরীরে হাজির হওয়ার আদেশ প্রদান করেছেন।
এ দিকে গত ২৭ নভেম্বর/২০১৮ তারিখে ডিপিসির মিটিংয়ে আবুবকরের আরেক জুনিয়র প্রকৌশলী (ইএম) মাহমুদ হাসান সেলিমকে সহকারি প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে। এর আগের ডিপিসিতে মাহমুদ হাসান সেলিমের আপন ছোট ভাই যিনি মাহমুদ হাসান সেলিমেরও জুনিয়র এনামুল কবীরকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারি প্রকৌশলী করা হয়েছে। আপগ্রেড সিনিয়রটির তালিকায় সিনিয়র উপসহকারি প্রকৌশলীর (ইএম) হিসেবে কর্তৃপক্ষের নথিতে নামের ক্রমানুসারে সফিকুল আলম, আয়েশা হক, মো. শাহীনুর আলম, মো. আবুবকর সিদ্দিক, মো. এনামুল কবীর, মো. শহিদুল ইসলাম মন্ডল, মো. মাহমুদ হাসান সেলিমের নাম রয়েছে।
এ ব্যাপারে গত ২৯ নভেম্বর/২০১৮ তারিখে ‘একুশে বার্তা’র অনলাইন সংস্করনে ‘সিভিল এভিয়েশন : সিনিয়রকে ডিংগিয়ে জুনিয়রকে পদোন্নতি : কোর্ট কন্টটেম্প মামলা : ডিপিসি সভাপতি কর্তৃক আবারও সেই জুনিয়রের ভাইকে পদোন্নতি প্রদানের প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সিএএবি কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে। নড়েচড়ে বসেছে সিএএবির প্রশাসন।
চট্রগাম বিমানবন্দরে কর্মরত সিএএবির সিনিয়র উপসহকারি প্রকৌশী মো. মাহমুদ হাসান সেলিম মোবাইল ফোনে জানান, প্রকৌশলী আবুবকর সিদ্দিকীর নিয়োগ প্রক্রিয়াই অবৈধ, ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত উপসহকারি প্রকৌশলী পদে প্রকল্পে চাকরি শেষ হবার পর তাকে পদাবনতি করে ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্তৃপক্ষ চাকরি দেয়। পরে তাকে ৩৩ বছর ৩ মাস ৫দিন বয়সে ১৯৯৯ সালে অবৈধ প্রক্রিয়ার উপসহকারি প্রকৌশলী পদে আবার চাকরি দেয় সিএএবি কর্তপক্ষ। এখন সংস্থার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সে মামলা করে বসেছে। তার ভাই এনামুল কবীরকে জুনিয়র হওয়ার পরও পদোন্নতির ব্যাপারে বলেন, ডিপিসি কমিটি যেটা ভাল মনে করেছে তাই করেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার কপালটাই খারাপ, এতো কষ্ট করে ডিপিসি বসালাম তাও আমার পদোন্নতি হলো না।
এ ব্যাপারে ঢাকার সিডি-৩-এ কর্মরত সহকারি প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আমার নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ নয়। আমার জুনিয়রকে পদোন্নতি প্রদান করায় আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আমার পুরো চাকরি প্রক্রিয়াটাই আইন কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন।