হুইল চেয়ারে আদালতে খালেদা জিয়া : নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শুরু: পরবর্তী শুনানি ১৩ জানুয়ারি

ডেক্স রিপোর্ট : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ১২ মিনিটে।খালেদা জিয়া আসার তিন মিনিট পর ১২ টা ১৫ মিনিট বিচারক এজলাসে আসেন। এরপর শুরু হয় নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম।

এজলাস কক্ষে পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি বেশি দেখে ক্ষুব্ধ হন খালেদা জিয়া।

ডায়াসে দাঁড়ানো মামলার আসামি মওদুদ আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এভাবে কী ফেয়ার ট্রায়াল হতে পারে?’

খালেদা জিয়ার কথা শেষে মওদুদ তখন আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ইজ ইট এ্যা পাবলিক ট্রায়াল?’ আইনজীবীদের নাম রেজিস্ট্রি করে এখানে আসতে হয়।’ এরপর মওদুদ ফের বলেন, এটা কী উন্মুক্ত আদালত?

নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির পরবর্তী তারিখ ১৩ জানুয়ারি ধার্য করে এজলাস ছেড়ে যান বিচারক।

খালেদা জিয়া এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বলেছিলেন, তিনি অসুস্থ। তাঁর পক্ষে আদালতে আসা সম্ভব নয়। তিনি ন্যায়বিচারও পাচ্ছেন না। এরপর খালেদা জিয়া আর আদালতে হাজির হননি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছরের অক্টোবর মাসে খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়। আর গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি মাসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। সেদিন পুরান ঢাকার আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ এই আদালত থেকে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়। সেই থেকে তিনি এই কারাগারে আছেন।

অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৩ জানুয়ারি : ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ চলছে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ। মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। আজ অভিযোগ গঠন বিষয়ে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মোশাররফ হোসেন কাজল। খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি পড়ে শোনান।

আসামি মওদুদ আহমেদ তিনি শুনানি শুরু করেন। নাইকো দুর্নীতির সঙ্গে মওদুদ আহমেদ জড়িত নন সে ব্যাপারে যুক্তি তুলে ধরেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) । ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।
আসামিপক্ষ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে হাইকোর্ট ওই বছরের ৯ জুলাই এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং রুল দেন। প্রায় সাত বছর পর ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আমিনুল ইসলাম ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।