সিলেটে আগুন, শাহজালালে রানওয়ে অন্ধকারে, বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ : এটা কি নাশকতা না আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্র? না গাফিলতি না যান্ত্রিক ক্রুটি: পার পেয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সহকারি/উপসহকারি প্রকৌশলী

একুশে বার্তা রিপোর্ট : সিলেট ওসমানি বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনা , শাহজালাল বিমানবন্দরে রানওয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় সবকটি বৈদ্যুতিক বাতি একযোগে বন্ধ হয়ে পুরো রানওয়ে অন্ধকারে নেমে আসা, প্রায় ২০ মিনিটের জন্য বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ। একদিন আগে-পরে পর পর দুটি ঘটনা, কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলেছে। এটা কি নাশকতা, না আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্র, না সংশ্লিষ্টদের কাজে গাফিলতি, না বৈদ্যুতিক ক্রুটি? এ সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাশকতার ঈংগিত দেয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে বেবিচক কোন তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বলে জানা যায়।
শাহজালালে রানওয়ে দেখভাল করেন বেবিচকের প্রকৌশল বিভাগের ইএম-২ । রানওয়ের দায়িত্বে একজন সহকারি প্রকৌশলী এবং একজন উপসহকারি প্রকৌশলী স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে না থাকলেও নজরদারি ও মনিটর করে থাকেন। ওভারঅল একজন নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের গাইড করে থাকেন। ইতিপূর্বেও শাহজালালের রানওয়েতে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় ৭২ ঘন্টা রানওয়ে অন্ধকারে থাকার মতো ঘটনাও ঘটেছে। একজন সহকারি প্রকৌশলীকে ছাত্র দলের ট্যাগ দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়েছে, মিথ্যা গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশ করে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পরে বেবিচকের তৎকালিন চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ওই সময়কার আগুন লাগার নেপথ্যে ছিল বৈদ্যুতিক ক্রুটি। কোন নাশকতা ছিল বলে প্রমাণিত হয়নি।
তবে গত সোমবারের ঘটনায় শাহজালালে রানওয়ের সবকটি বৈদ্যুতিক বাতি কেন একযোগে নিভে গেল তা তদন্তের আওতায় এখন আনা হয়নি। তবে ২০ মিনিট বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলেছে। এটা কি নাশকতা না আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্র– তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। তবে রানওয়ের দায়িত্বে থাকা উপসহকারি প্রকৌশলী ইএম-২’র আমিনুল ইসলামকে এখনও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। পার পেয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ইএম’র সহকারি প্রকৌশলী।
এ দিকে সিলেট ওসমানি বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনাও বেবিচক কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলছে। আওয়ামী দোসর ম্যানেজার হাফিজ গত ১৭ বছর এখানে কর্মরত, তাকে নিয়ে বেবিচক তদন্ত করেছে অনেকবার, কোনটিই আলোরমুখ দেখেনি। ৫ আগস্টে পূর্বাপর আওয়ামী নেতাদের এ বিমানবন্দর দিয়ে পার হবার ঘটনাও ঘটেছে। আগুন লাগা আবার ওনার আমলেই। গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।