আশকোনা স্থায়ী হজ ক্যাম্প থেকে রূপালি গার্ডেন পর্যন্ত আশকোনা প্রধান সড়ক সংস্কার ও আন্ডার ড্রেনেজ নির্মাণ প্রকল্প কাজ চলছে: হাজার হাজার জনতা চলাচলে চরম ভোগান্তির দিন শেষ হবে : সন্ধ্যার পর মেইন সড়কসহ শাখা সড়কে বাতি জ্বলে না, ভুতুড়ে অবস্থা : নিয়মিত মশার ওষুধ স্প্রে করা হয় না: আবাসিক এলাকায় বরফকল কার স্বার্থে ? এলাকার দু:খু মেম্বার সড়ক বেদখল করে দোকানপাট স্থাপনা

স্টাফ রিপোর্টার : নামেই সিটি কর্পোরেশন, কাজে গ্রামের কোন জনপদের রাস্তার চিত্র। অল্প বৃষ্টিতেই হাটু পানি জমে যায় , সন্ধ্যার পর মেইন সড়কসহ প্রতিটি শাখা সড়কে বাতি জ¦লে না, ভুতুড়ে অবস্থা , ডিএনসিসির লাইটপোস্ট থাকলেও টিউবলাইট অকেজো, বাতি জ¦লে না। এ অবস্থা বছরের পর বছর জুড়ে। আশকোনা – হজ ক্যাম্প – রূপারি গার্ডেন পর্যন্ত মূল সড়কের সংস্কার চলছে।

এ নিয়ে একুশে বার্তার অনলাইনে ভিডিও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্ত শাখা সড়কে অবৈধ দখলদার, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বরফ কলের বিকট শব্দে পাশের মসজিদে মুসুল্লিদের নামাজে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে প্রতিনিয়ত।

প্রধান এ সড়টি সংস্কার ও আন্ডারড্রেনেজ নির্মাণকল্পে টেন্ডার হয়েছে, হজ ক্যাম্প থেকে আশকোনা বাজার পর্যন্ত কাজ সম্পন্নও হয়েছে। বাকি সংস্কার কাজ থমকে থাকার পর আবার শুরু হয়েছে।
জনতা বলাবলি করছে প্রধান এ সড়কটি নদ্দা- হলান- দক্ষিণখান পর্যন্ত আন্ডারড্রেনেজসহ সংস্কার করার টেন্ডার হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কার্যাদেশ পেয়েও কাজ করছে কচ্ছপ গতিতে। ফলে এ সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই হাটু পানি জমে যায়, হাজার হাজার জনতার চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় । এই প্রধান সড়কে একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে -যার নাম আশকোনা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। অল্প বৃষ্টিতেই এ স্কুলের সামনে হাটু পানি জমে যায়। ডিএনসিসি পানি নিষ্কাশন না করলে ৫-৭ দিনও সড়কে পানি জমে থাকে। এ অবস্থায় স্কুল পড়–য়া ছাত্ররা স্কুলে আসতে পারে না। ফলে তাদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বছরের পর বছর। কিন্ত এবার আন্ডারড্রেনেজে কাজ চলছে। এ সড়কে হাটুপানির সচিত্র প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর ডিএনসিসি ‘কম্ভুকর্ন’ ঘুম ভেংগেছে।
শাখা সড়ক দখলে : আশকোনা প্রধান এ সড়কের আশকোনা প্রাইমারি স্কুলের দক্ষিণপাশে বিপরীতে শাখা সড়ক ১৬ ফিট নির্ধারিত থাকলেও দু:খু মেম্বার নামকরণ এ সড়কটি দু:খু মেম্বারের পরিবারসহ শহিদ তালুকদার, বাবুল গংরা আরো কতিপয় দখলদার দখল করে ভবন নিমাণ করেছে-যা সরজমিনে তদন্ত করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে। ফলে এ শাখা সড়কটি ৬ ফিটে এসে ঠেকেছে। এ সড়কে প্রাইভেট কার চলাচল তো দূরের কথা দুটো অটো রিকশাও সাইট দিয়ে ঠিকমত চলতে পারে না।
দুটি বৈদ্যুতিক পোল কার স্বার্থে? এ শাখা সড়কের উত্তর পাশের প্রবেশমুখে দুটি বৈদ্যুতিক পোল দীর্ঘদিন থেকে দৃম্যমান। এ দুটি পোলের জন্য এ শাখা সড়কে কোন প্রাইভেট কার, এ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না।
এ দুটি পোল অপসারণের জন্য এলাকাবাসির পক্ষ থেকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অন্ঞল-৭-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বরাবর আবেদন করা হয়েছে। এর অনুলিপি আন্ঞলিক নির্বাহী কর্মকতাকেও দেয়া হয়েছে।
ডেসকোর দক্ষিণখানের নির্বাহী প্রকৌশলীকেও আবেদনের অনুলিপি দেয়া হয়েছে। এ পোল দুটি সরিয়ে নিলে এ শাখা সড়কের অবৈধ দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলে এ শাখা সড়কে কোনরকম প্রাইভেট কার/এ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারবে বলে এলাকাবাসিরা জানান।।

এ শাখা সড়ক দখলদার শহিদ তালুকদারের ভবন পর্যন্ত ২০ ফিট রাস্তা প্রশস্ত করে তার বাড়িতে প্রাইভেট কার গ্যারেজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদের স্বার্থ ভুলুন্ঠিত করে রেখেছে।
এই অবৈধ সড়ক দখলদারদের উচ্ছেদে সাবেক ইউপি পরিষদ বার বার উদ্যোগ নিলেও ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত নির্বিকার, সড়কটি অবৈধ দখলদারমুক্ত করতে এগিয়ে আসছে না।
লাইটপোস্ট থাকলেও বাতি জ্বলে না! এ শাখা সড়কসহ আশকোনা প্রধান সড়কে ডিএনসিসির লাইট পোস্ট নাই, ২/১টি শাখা সড়কে লাইটপোস্ট থাকলেও ডিএনসিসির বাতি জ¦লে না। ফলে এলাকায় দীর্ঘদিন ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে।
শাখা এ সড়কটির প্রবেশমুখে ২ টি বৈদ্যুতিক খুটি থাকার ফলে এ সড়কে প্রাইভেট কার প্রবেশ করতে পারে না। ২টি বৈদ্যুতিক খুটি এবং অবৈধ দখলদারদের সড়ক দখলের জন্য প্রাইভেট কার তো দূরের কথা– এ সড়কে কোন রকম ২টি অটোরিকশা চলাচল করতে পারে না।
অবৈধ বরফকলের বিকট শব্দে ঘুম হারাম : এ সড়কটিতে বছরের পর বছর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকে, বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ায়, মসুল্লিারা নাক চেপে মসজিদে নামাজ পড়তে যায়।
এই শাখা সড়কে শুধু অবৈধ দখলদারই নয়্- এ সড়কে আশকোনা কেন্দ্রীয় প্রধান মসজিদের সাথেই মরহুম মোহাম্মদ আলি মাতুবুরের পরিবার সদস্যদের নেতৃত্বে অবৈধভাবে একটি বরফকল ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে করে জনগণের ভোগান্তি চরমে। মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময়ও এই বরফ কল বন্ধ থাকে না। বরফকলের বিকট শব্দে মুসুল্লিদের নামাজে প্রতিনিয়ত ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। রাতের বেলা পাশের ভবনের বাসিন্দাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, ঘুম হারাম প্রতিরাতে। প্রতিবাদ করলে উল্টো অবৈধ বরফকল হোতাদের কবলে পড়তে হয় বলে পাশের ভবনের লোকজন জানান।
এই বরফকলের হোতারা নাকি ইতিপূর্বে ক্ষমতাসীন দলের অংশিদার জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল, সরকারের পতন হলে ওরা এখন বিএনপির হয়ে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ওদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। ফলে ওদের থামায়-এমন সাধ্য কার? ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ কি ওদের লাগাম টেনে ধরবে-এ প্রশ্ন এলাকাবাসির।
মশার ওষুধ স্প্রে নাটক : আশকোনা এলাকায় ডিএনসিসির লোকজন নিয়মিত প্রতিণিয়ত মশার ওষুধ স্প্রে করে না।ডিএনসিসির লোকজন মশার ওষুধ মেশিন কাধে করে বহন করে ওষুধ না ছিটিয়ে মহড়া দিয়ে চলে যায়। এ চিত্র দীর্ঘদিনের। কিন্ত দেখার বা বলার কেউ নেই। এর ফলে ডেংগুর এই মওসুমে এলাকাবাসির ডেংগু আক্রান্ত হবার সমূহ আশংকা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির সরিয়ে দেয়া প্রসাশক নজর দেননি। নতুন প্রশাসক দ্রুত নজর দিবেন বলে এলাকাবাসি প্রসাশকের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।