আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কেরানি সোহেল মোহাম্মদ ফেরদৌসের কোটি টাকার দুর্নীতি : শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও সোহেল ও তার আপন শ্যালক দীন মোহাম্মদকে বরাবরের ন্যায় এবারও হাজীদের সহায়তায় সৌদি আবর পাঠায় পরিচালক হজ্ব : ধর্ম সচিব অন্ধকারে!

বিশেষ সংবাদদাতা : ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন আশকোনা স্থায়ী হজ্ব ক্যাম্প দুর্নীতিবাজদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। হাতেগোনা ৫ শীর্ষ দুর্নীতিবাজ আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ করছে। পরিচালক হজ্ব এদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতিবাজদের সাথে পরিচালক হজ্ব’র গলায় গলায় ভাব। আর এরই ধারাবাহিকতায় ধর্ম সচিবকে অন্ধকারে রেখে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কেরানি সেহেল মোহাম্মদ ফেরদৌস স্ট্রোক করে পা প্যারালাইজড হয়ে হাটতে না পারলেও তাকে এবং তার আপন শ্যালক আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে দীর্ঘদিন কর্মরত দীন মোহাম্মদকে এ বছর হাজিদের সহায়তাকারি হিসেবে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। হজ্ব পরিচালক নিজেও হজ্ব যাত্রীদের গাইড হিসেবে সৌদি আরব গেছেন। পরিচালককে নিয়ে কেরানি দীন মোহাম্মদ সৌদি আরবে মহড়া দিচ্ছেন। বিভিন হ্জ এজেন্সি থেকে সুবিধা নিচ্ছেন বলেও কথা ওঠেছে। একজন লোক শারীরিকভাবে অসুস্থ, প্যারালাইজড, হাটতে পারে না- এমন লোককে কেন হজ্ব যাত্রীদের সহায়তার জন্য সৌদিতে পাঠানো হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক হজ্ব গণ মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন সোহেল হাটতে না পারলেও বসে বসে কাজ করবে। কোরানি সোহেল-দীন মোহাম্মদের সাথে পরিচালকের এমন মহব্বত কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত একাধিক কর্মচারি জানান, কেরানি সোহেল কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন, পরিচালকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেছেন, পরিচালককেই বরং কেরানি সোহেল-দীন মোহাম্মদ- ক্যাশিয়ার খলিল গাইড করে থাকে। এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ধর্মসচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পরও তারা বহাল। দুর্নীতি দমন কমিশনও তাদের লাগাম টেনে ধরছে না।
উল্লেখ্য’ কোন কর্মচারিকে হজ্ব মৌসুমে হজ্ব যাত্রীদের সহায়তকরণে সৌদি আরবে পাঠানো হলে জনপ্রতি ৬-৭ লাখ করে টাকা পেয়ে থাকেন। কাজেই বছরে এক্কেবারে নীট ৭ লাখ টাকা পাবার আশায় কর্মচারিরা সৌদি আরবে হজ্ব সহায়তাকরণে যাবার আশায় তালিকাভুক্ত হবার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জোরালো তদবির করে থাকেন। আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প থেকে পরিচালক যে নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠান তা আর যাচাই-বাছাই না করে তাদেরকে সৌদি আরব পাঠানো হয়। আর এভাবেই আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত কেরানি সোহেল ল্যাংড়া হলেও তাকে এ বছর পরিচালক হজ্ব ক্যাম্প হজ্ব যাত্রীদের সহায়তাকারি হিসেবে সৌদি আরব পাঠিয়েছেন।আগামি ২৯ সেপ্টেম্বর এদেরকে নিয়ে পরিচালক হজ্ব দেশে ফিরবেন বলে হজ্ব ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পরিচালক হজ্ব ক্যাম্প-এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নেকনজরে এই ৫ শীর্ষ দুর্নীতিবাজ আশকেনা হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরিকে নিজেদের বসবাসের জন্য আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। এদের কাতারে বর্তমানে পরিচালকের দায়িত্ব পালনকারি সহকারি হজ্ব অফিসার মো. আব্দুল মালেকও তার পরিবার- পরিজন নিয়ে আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে বসবাস করছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ধর্ম মন্ত্রণালয় ‘কম্ভুকর্ন’ । পরিচালকের ড্রাইভারও ২/৩টি রুম নিজের দখলে নিয়ে তার জননি দোকানের মালামাল ও কর্মচারিদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানা গেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ থেকে জানা যায়, আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ১৪ বছর যাবত কর্মরত কেরানি সোহেল মোহাম্মদ ফেরদৌস, পিতা-মৃত মুনিরুজ্জামান, গ্রাম-পয়াগ, সদর বি, বাড়িয়া। তিনি দুর্ণীতি করে ৪/৫ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের নামে ইসলামি ব্যাংক আশকোনা হজ্বক্যাম্প শাখায় ১ কোটি টাকার এফডিয়ার রয়েছে। তিনি ওই টাকা থেকে প্রতিমাসে ৮০ হাজার টাকার লাভ্যাংশ পান। দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধান করলেই এর সত্যতা পাবে।
তাছাড়া শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক আশকোনা শাখায় সোহেলের স্ত্রী নাজমা বেগমের নামে আরেকটি একাউন্টে দেড় কোটি টাকা জমা আছে। ইসলামি ব্যাংক হজ্বক্যাম্প শাখায় কেরানি সোহেলের আরেকটি ব্যক্তিগত একাউন্টে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়ে থাকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানির উত্তরখান থানার কাচকুড়ায় ৫ কাঠা, ৩ কাঠার দুটি প্লট রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আনোয়ার হোসেন, যার মোবাইল নম্বর ০১৯১১৮৮৯৭৬৮ জমি মিডিয়া করে কিনে দিয়েছেন। কেরানি সোহেলের একটি দামি প্রাইভেট কারও রয়েছে। তার সরকারি হিসাব বিবরনীতে ২০ ভরি স্বর্নের কথা স্বীকার করেছেন এবং হজ্বক্যাম্প পোস্ট অফিসে তার ২০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ডের কথা করলেও বাস্তবে এর পরিশাণ আরো বেশি। সোহেল মাসে ২৩ হাজার টাকা বেতন পান। কিন্ত উত্তরার ৬ নং সেক্টরে ১৮ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া করে থাকেন। আবার হজ্ব ক্যাম্পেও ২/৩টি রুম দখল করে রেখেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, কেরানি সোহেল হজ্ব ক্যাম্পে স্টোরেরর দায়িত্বে থাকার সুবাধে স্টোর থেকে গত ১৪ হাজার হজ্ব এজেন্টকে হজ্ব ওমরা, যিয়ারত বই এবং ব্যাগ দেয়ার বাবদ প্রতি এজেন্ট থেকে ২/৩ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে থাকেন। ১৪ বছর এ দায়িত্ব পালনে বিপুল অংকের ঘুষ হাতিয়ে নিয়েছেন। সোহেল রামপুরায় জমি ক্রয় করে বহুতল বাড়ি নির্মাণ করছেন।
৫/৬ মাস আগে তার বড় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ৬০ হাজার টাকায় মেয়েকে লেহেংগা উপহার দিয়েছেন।
কেরানি সোহেল হজ্ব এজেন্সির সাথে রিপ্লেজমেন্ট বাণিজ্য, হজ্ব লাইসেন্সের দালালি, হজ্ব এজেন্সির বারকোড সরবরাহ, ব্যর্থ হজ্বযাত্রীদের মোয়াল্লেম ফি ফেরত তদবির , লক্ষ টাকার অবৈধভাবে স্টীকার বিক্রয়, এজেন্সির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদবির বাণিজ্য, ভিসার জন্য ডিও জারির কাজে এজেন্সির থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া- এভাবে গত ১৪ বছরে আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত থেকে আজ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগসমুহ আমলে নিয়ে ত্বরিত তদন্ত প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন। আর তা না হলে তার দুর্নীতির শাখা- প্রশাখা বিস্তার করতেই থাকবে । ক্রমশ-