একুশে বার্তা রিপোর্ট : এসভি এয়ার লাইন্সের দুই বিমানবালা সায়মা, ফারজানার সাথে চুক্তি হয় বাংলাদেশের জনৈক এক ব্যবসায়ী মিন্টুর। তার সাথে চুক্তিভিত্তিতে প্যান্টির ভিতরে স্বর্ন বহন করে নিয়ে দুই বিমানবালা। মিন্টুকে খোজছে গোয়েন্দা সংস্থা। লোভ সামলাতে পারেননি সৌদি এয়ারলাইন্সের দুই বিমানবালা সায়মা আক্তার ও ফারজানা আফরোজ। বাংলাদেশে এই স্বর্ণ রিসিভ করার কথা ছিল রাকিব নামের একজনের। যার বাড়ি কুমিল্লা বলে জানতে পেরেছে তদন্ত সংস্থা। রিমান্ডে বিমানবালা সায়মা এ সব তথ্য দেন তদন্ত সংস্থাকে।
কিন্তু গত ১৮ মার্চ সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর ওই দুই বিমানবালাকে স্বর্ণসহ আটক করে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। স্বর্ন জব্দ করা হয়। বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়। পরদিন দু’বিমানবালাকে আদালতে হাজির করা হয়।
বিমানবালা ফারজানা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। আর সায়মা আক্তারকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সায়মা এসব তথ্য দেন। গত ২৪ মার্চ ফের তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
তবে, দুজনের পরিবারেরই দাবি, তারা কখনো এই কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাদের ফাঁসানো হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তারা একটি বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত। আগেও এই দু’জন এমন কাজ করেছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
বিমানবালা সায়মা আক্তারের স্বামী তানভীর আহমেদ। আড়াই বছর হয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দু’জন। তারা রাজধানীর কলাবাগানের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তানভীর আগে একটি বিয়ে করেছেন। ওই স্ত্রীর সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। আগের সংসারে একটি ছেলে আছে। তার বয়স ১৭ বছর। সে একটি ইংলিশ মিডিয়ামে ‘ও’ লেবেলে পড়ে। সায়মা ৮ বছর ধরে সৌদি এয়ারলাইন্সে বিমানবালা হিসেবে কর্মরত।
এদিকে ফারজানা আফরোজের বিয়ে হয়েছে দুই বছর হলো। তার স্বামী আরিফুল হক। তিনি নাসা কোম্পানির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। তিনি স্বামীর সঙ্গে গুলশানে একটি বাসায় থাকেন। ফারজানার বাবার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তবে সে ছোটবেলা থেকে তার পরিবারের সঙ্গে ঢাকায়
গত সোমবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টম কর্তৃপক্ষ ও এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ জানতে পারে দুই বিমানবালার স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়টি। স্বর্ণ রয়েছে সৌদি আরব থেকে আসা সৌদি ফ্লাইট এসভি-৮০২ এর দুই নারী কেবিন ক্রু সায়মা ও ফারজানার কাছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেন তারা। রাত ২টার দিকে ওই ফ্লাইট হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন তারা। নিজেদের রক্ষা করতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা স্বর্ণ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। এসময় বিমানবালা সায়মার প্যান্টির ভেতর থেকে ২৬ পিস এবং ফারজানা আফরোজের প্যান্টির ভেতর থেকে ১০ পিস মোট ৩৬ পিস স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়।
