একুশে বার্তা ডেক্স : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। তারা নির্বাচনে কারচুপি করবেই।
তারা জনগণের ভোটাধিকার দিতে জানে না।
বৃহস্পতিবার বিকালে কারাগারে তার চার আইনজীবী দেখা করতে গেলে খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে আলাপ প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া ও মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
কারাগার থেকে বের হয়ে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এছাড়া অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়ার শরীর আগের চেয়ে আরও দুর্বল হয়ে গেছে। আপিল বিভাগের জামিনের খবর জানানোর পর ম্যাডামের অভিব্যক্তি দেখে মনে হয়েছে তিনি বিষয়টি আগেই জেনেছেন। তবে তিনি অন্য মামলার খোঁজখবর নিয়েছেন।
আরেক আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, যেখানে ম্যাডামকে রাখা হয়েছে সেখানকার পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে। তাই তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করালে অনেকটাই ভালো হতো।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়া কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন- জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, ‘ম্যাডাম বলেছেন, এ রকম নির্বাচনে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। দেশবাসীসহ সবাই জানেন যে, বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। তারা নির্বাচনে কারচুপি করবেই। তারা জনগণের ভোটাধিকার দিতে জানে না।’
দ্রুত শুনানি চান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা : এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি দ্রুত শুরু করতে চান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তারা বলছেন, বিচারিক আদালতে দেয়া সাজা বহাল রাখার মতো কোনো উপাদান এ মামলায় নেই।
সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল ও দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপির জন্য বৃহস্পতিবার আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকও দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি চাচ্ছে। দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেছেন। এর আগে বুধবার নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। এখনও
প্রায় আড়াই মাস সময় বাকি থাকলেও অবকাশকালীন ছুটি ও সরকারি ছুটি বাদ দিয়ে মাত্র ৩৭ কার্যদিবস রয়েছে। এখনও রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ হয়নি। রায়ের কপি পাওয়ার পরই শুধু শুনানি শুরু করতে পরবেন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ।
কথা হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের সত্যায়িত কপির জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেছি। কপি পেলেই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করব। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান,
তারা এখনও রায়ের কপির জন্য আবেদন করেননি। পূর্ণাঙ্গ কপি বের হলেই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে। এজন্য হয়তো বেশি দিন সময় লাগবে বলে মনে হয় না। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবার বলেন, খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে
সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এ আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরাও চাই খালেদা জিয়ার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি হোক।
কারণ এ মামলায় দীর্ঘদিন শুনানি করার মতো কিছু নেই। সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে। বিচারিক আদালতে ন্যায়বিচার পাইনি, আমাদের বিশ্বাস উচ্চ আদালতে অবশ্যই আমরা ন্যায়বিচার পাব।
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আমিও চাই খালেদা জিয়ার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। তবে শুনানির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতের ওপর নির্ভর করে।
অনেক সময় মামলার মেরিটের কারণে শুনানি শেষ করতে দেরি হয়। খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এসব মামলায় জামিন না পেলে তিনি বের হতে পারবেন না।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যেসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ও হাজিরা পরোয়ানা রয়েছে, সেসব মামলা বিচারিক আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর অথবা জামিন নাকচ- এ রকম কোনো আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না আইনজীবীরা। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়া আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। সেই থেকে তিনি কারাগারে। এ মামলার অপর আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ের পর
আপিল করে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। শুনানি নিয়ে ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। এ জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে, যা আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেন।
আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিনও স্থগিত হয়। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর দু’দফা শুনানি শেষে বুধবার হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
