একুশে বার্তা প্রতিবেদন : কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গার ওপর চীন মৈত্রী সেতুর টোল বাড়ানোর প্রতিবাদ করায় পুলিশের সঙ্গে যানবাহন চালকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সোহেল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। পুলিশের দাবি এই ঘটনায় তাদের ৩০ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম মো. সোহেল (২৯)।
গুলিবিদ্ধরা হচ্ছেন- আলমিন (২৫), মো. মানিক (৩০), তাসলিমা বেগম (৩৫), মো. সিদ্দিক (৩৫), মো. আকাশ (৩৬), মো. মাসুদ (৩২), মো. লাইজুল ইসলাম (৪৩), মো. সাজু (৫৫), মো. বাক্কু মিয়া (৪৫), অজ্ঞাতনামা এক ভিক্ষুক (৬০) ও এক প্রতিবন্ধী যুবক। শ্রমিকরা বলছেন, এই সেতুতে আগে ট্রাকের টোল ছিল ৩০ টাকা। গত ২২শে অক্টোবর সেই টোল বাড়িয়ে করা হয় ২৪০ টাকা। হঠাৎ করে এত বেশি টোল বাড়ানোয় তারা বিপাকে পড়েছেন।
এই টোল কমিয়ে আনার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করেছিলেন পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল তা সহিংস রূপ নেয়। এর আগে ২০১৫ সালেও সেতুর টোল বাড়ানোর প্রতিবাদে অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভে তিন দিন যান চলাচল বন্ধ ছিল।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই শ্রীবাস জানান, নিহত সোহেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি শাহজামানকে রাজারবাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু টোলমুক্তির দাবিতে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে হাসনাবাদ এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাকচালকরা মিছিল বের করে এবং সেতু দিয়ে সব যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে।
আন্দোলনকারীরা এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় ১ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। পুলিশ একপর্যায়ে পিছু হটে ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসের ভেতর ঢুকে পড়ে। এতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উত্তেজিত জনতা একত্রিত হয়ে পুলিশের ওপর বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলিবর্ষণ করলে সোহেল পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনায় আরো ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত আকাশ ও মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আল-আমিন, তাসলিমা, মানিকসহ পাঁচজনকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ইকুরিয়া জেনারেল হাসাপাতালে বাকি তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সুমন নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক জানান, কে আলম শিপিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়ে সেতুতে চলাচলকারী সব যানবাহনের অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। আমরা এখন সেতুতে টোলমুক্ত করার দাবিতে সকালে মিছিল বের করি।
এতে পুলিশ আমাদের বাধা দিলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং আরো ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূইয়া জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহজামান ও ওসি তদন্ত মো. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিআরটিএ অফিসের ভেতর আক্রমণ করা হলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য রাবার বুলেট ও শর্টগান দিয়ে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। আন্দোলনকারীদের হামলায় ওসি প্রশাসন ও তদন্তসহ ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় তিনি আন্দোলনকারীদের সেতুতে টোল মুক্ত করার ঘোষণা দিলে আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়। পরে সেতু দিয়ে টোল মুক্ত অবস্থায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নিহত সোহেলের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানায়। সে হাসনাবাদ এলাকায় একটি মোটরগ্যারেজে কাজ করতো। আহতদের মধ্যে পথচারী মহিলা, এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক ও এক প্রতিবন্ধী যুবক ছিল।
