ঢাকা কাস্টমস হাউজে পারিবারিক বহিরাগত সিন্ডিকেট! কাস্টমস কর্মকর্তাদের নামে ঘুষের টাকা আদায়

বিশেষ সংবাদদাতা : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশকে থোরাইকেয়ার করে ঢাকা কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনে বহিরাগতদের দিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা ঘুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা কাস্টমস হাউজে পারিবারিক বহিরাগত সিন্ডিকেটের আবির্ভাব হয়েছে। এই পারিবারিক সিন্ডিকেটের বহিরাগত সদস্য স্বামি-স্ত্রী-সন্তান। এদের নাম হচ্ছে প্রদীপ, তার স্ত্রী রিনা, তাদের দুই ছেলে উত্তম এবং উজ্জল। এরা দীর্ঘদিন যাবত কাস্টমস কর্মকর্তাদের নামে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের থেকে ঘুষ আদায় করছে। আর কাস্টমস কর্মকর্তারাও এদের ব্যবহার করছে।
খোজখবর নিয়ে জানা গেছে, বহিরাগত এই পারিবারিক সিন্ডিকেড সদস্যদের মধ্যে প্রদীপ ঢাকা কাস্টমস হাউজের হলরুমে গ্রুপ-৪/এ-এর রাজস্ব কর্মকর্তা ফোরকানুজ্জামানের টেবিলে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের থেকে রাজস্ব কর্মকর্তার নামে প্রতি সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী থেকে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ হাতিয়ে নিচ্ছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে কাজি শফি নামে আরেক বহিরাগত। অফিস শেষে ঘুষের টাকা গুণে গুণে আবার রাজস্ব কর্মকর্তাকে হিসাব বুঝিয়ে দিচ্ছে আর নিজের দৈনিকভিত্তিক টাকা বুঝে নিচ্ছে।
প্রদীপের স্ত্রী রিনাা গ্রুপ-৪-এ কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুর রৌফের নামে ঘুষের টাকা আদায় করছে। আর প্রদীপ দম্পতির ছেলে উত্তম গ্রুপ-১-এর টাকা আদায় করছে। আর উজ্জব আদায় করছে কুরিয়ার শুল্কায়নের টাকা।
সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপ দম্পতির ছেলে উত্তম মাঝেমধ্যেই কাস্টমস কর্মকর্তাদের মোটা অংকের উৎকোচের টাকা মেরে দিয়ে কিছুদিন লাপাত্তা হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ঢাকা কাস্টমস হাউজে এসে আবার কোন না কোন অফিসারের টেবিলে এসে ঘুষ আদায় শুরু করে দেয়। এই উত্তম সামাদ নামে একজন রাজস্ব কর্মকর্তার সই জাল করে সিল মেরে একটি পণ্যেও চালান ডেলিভারিতে সহায়তা করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ওই গ্রুপ থেকে বিতাড়িত হয়েছে। এর আগেও রফতানি গ্রুপে একই অভিযোগে উত্তম পালিয়ে বেড়ানোর পর আবার কাস্টমস হাউজে ফিরে আসে।
সূত্র জানায়, এক সময় রিনার মা প্রদীপের শাশুড়ি তুলসি রানি দাস কাস্টমস কর্মকর্তা মরহুম মোসলেম উদ্দিনের অফিস রুমে ফরমায়েশ করতো। তখন রিনা ছোট। তার পর রিনা ধীরে ধীরে বড় হয়ে যৌবনে পা রাখে। প্রদীপের সাথে রিনার বিয়ে হয়। সে ঘরে উত্তম, উজ্জল জন্ম নেয়। সবাই ধীরে ধীরে ঢাকা কাস্টমস হাউজে চলে আসে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের রান্না করে খাওয়াতে শুরু করে রিনা। এখনও ঢাকা কাস্টমস হাউজের ডাইনিং রুমে রিনা তার বাসা থেকে রান্না করে এনে কাস্টমস কর্মকর্তাদের দুপুরের খাবার যোগান দিচ্ছে। আর এভাবেই রিনা-প্রদীপ পারিবারিক বহিরাগত সিন্ডিকেট কাস্টমস কর্মকর্তাদের নামে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের থেকে লাখ লাখ টাকার ঘুষ আদায় করছে। ঢাকা কাস্টমস হাউজ থেকে এদেরকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশ অমান্য করে বিতাড়িত না করে কাস্টমস ক্লাবের নামে আইডেনটি দিয়ে আগলে রেখেছে।